hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৭

সাহাবায়ে কেরাম সকলেই আল্লাহর ওলীঃ

আর এই উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওলী হচ্ছেন আবু বকর (রাঃ), তারপর ওমার (রাঃ) তারপর উছমান (রাঃ), তারপর আলী (রাঃ)। তাঁদের পর হচ্ছেন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত অবশিষ্ট সাহাবীগণ। তাঁদের পর নবুওতের প্রথম যুগে ইসলাম গ্রহণকারী মুহাজের ও আনসার সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পর সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন অন্যান্য সাধারণ সাহাবীগণ (রাযিয়্যাল্লাহু আনহুম আজমাঈন)। অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরামের পর কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোন মানুষ আসবে না যিনি বেলায়াত ও মর্যাদার দিক দিয়ে সাহাবীদের সমতুল্য হতে পারবেন। তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের ও তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টির সনদ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ্‌ তাআলা। তিনি বলেন,

وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ

যে সব মুহাজির ও আনসার ঈমান আনয়নে অগ্রবর্তী ও প্রথম, আর যেসব লোক একান্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুগামী, আল্লাহ্‌ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। (সূরা তাওবাঃ ১০০)

তিনি আরো বলেন,

لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ “

আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট ঐ সকল মুমিনদের প্রতি যারা বৃক্ষতলে আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করেছেন। (সূরা ফাতাহ্‌ : ১৮) রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ لا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ مِمَّنْ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ যারা বৃক্ষতলে আমার নিকট বায়আত নিয়েছে তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। [. হাদীছ সহীহ দ্রঃ সহীহ্ আবু দাউদ হা/৪৬৫৩, সহীহ তিরমিযী হা/৩৮৬০। ৬ষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়া নামক এলাকায় মক্কার কাফেরদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, ইতিহাসে তাকে হুদায়বিয়ার সন্ধি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এ সন্ধির আগে উছমান (রাঃ)কে দূত হিসবে মক্কায় পাঠানো হয়েছিল এ সংবাদ দিয়ে যে, মুসলমানগণ ওমরা পালনের জন্যে আগমণ করেছে, তাই তাদেরকে মক্কায় প্রবেশের সুযোগ দেয়া হোক। কিন্তু কাফেররা দূতের সাথে প্রচলিত আচরণ ভঙ্গ করে, উছমান (রাঃ)কে বন্দি করে। এখরব মুসলমান শিবিরে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করার জন্যে সাহাবায়ে কেরাম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাতে হাত রেখে আমরণ যুদ্ধ করার বাইয়াত গ্রহণ করেন। কুরআন-হাদীছে এঘটনাটিকে বাইয়াতুর্ রিযওয়ান বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। আর ঐ বাইয়াতটি একটি বৃক্ষের নীচে হয়েছিল।]

সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্বের সনদ বর্ণনা দিয়ে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো এরশাদ করেনঃ خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। তারপর তাদের পরের যুগের মানুষ। তারপর তাদের পরের যুগের মানুষ। [. আবদুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রাঃ) থেকে সহীহ মুসলিমে হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে।]

আবদুল্লাহ্‌ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহ্‌ তাআলা সকল বান্দার অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর অন্তরকে সর্বশ্রেষ্ঠ পেয়েছেন তাই তাঁকে নিজের জন্য চয়ন করেছেন এবং তাঁকে তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব প্রদান করে প্রেরণ করেছেন। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর পর অপর বান্দাদের কলবের প্রতি দৃষ্টিপাত করে তাঁর সাহাবীদের কলব সর্বাধিক উত্তম পেয়েছেন, তাই তাঁদেরকে তাঁর (মুহাম্মাদ সাঃ) সহযোগী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর দ্বীন রক্ষার জন্য তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছেন। [. মুসনাদে আহমাদ হা/৩৬০০, মওকূফ সূত্রে হাসান, দ্রঃ শরহে আকীদা তাহাবিয়া ৫৩০ পৃঃ।]

সাহাবায়ে কেরামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণে এরকম বহু আয়াত, হাদীছ ও মনিষীদের উক্তি রয়েছে, যা উল্লেখ করলে আলাদা একটি কিতাব রচনা করা দরকার। অতএব আল্লাহর মারেফতের বিষয়ে, জাহেরী-বাতেনীভাবে আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে, ইবাদত-বন্দেগী, অনুসরণ-অনুকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। তাঁদের সমতুল্য কোন ওলী, কোন আবেদ, কোন আলেম, কোন যোদ্ধা বা অন্য কেউ পৃথিবীতে আগমণ করবে না। তাঁদের যুগে যা দ্বীনের কাজ বা ইবাদত রূপে পরিচিত ছিল না, পরবর্তী যুগে তা গ্রহণীয় হতে পারে না।