১
তাওহীদ পুনরুদ্ধার
লেখকঃ আবদুল্লাহ্ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
পীর সাহেব কি গুনাহ মাফ করানোর মাধ্যম?
চরমোনাই পীর সাহেব লিখেছেনঃ পীরের কাছে মুরীদ হওয়ার অর্থ আল্লাহ পাকের কাছে মানুষের বিক্রি হইয়া যাওয়া। পীর সহেব শুধু উছীলা মাত্র। বান্দা অসংখ্য গুণাহ করার ফলে আল্লাহ্ পাক তাহাকে কবুল করিতে চান না। পীর সাহেব আল্লাহ্ পাকের দরবারে অুননয় বিনয় করিয়া ঐ বান্দার জন্য দুআ করিবেন, যাহাতে তিনি তাহাকে কবুল করিয়া নেন। (ভেদে মারেফতঃ ৩৪ পৃঃ)
জনাব পীর সাহেব! দয়া করে বলবেন কি বান্দা গুণাহ করলে আল্লাহ্ তাকে মাফ করতে চান না এ কথা আপনি কোথায় পেলেন? কুরআনের আয়াত বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাদীছে কি এরকম কোন কথা আছে? নাকি আল্লাহ্ আপনাকে ওহী করে একথা বলেছেন? তাই আপনি গুনাহগার বান্দাকে আল্লাহর দরবারে কবুল করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।
যে সমস্ত বান্দা অসংখ্য গুনাহ করেছেন কিন্তু আল্লাহর দরবারে কবুল পাওয়ার জন্য তারা এখনও আপনার দরবারে যায়নি বা অন্য কোন পীর সাহেবের উছিলা করেনি, তাদেরকে কি তাহলে আল্লাহ্ মাফ করবেন না? গুনাহের পাহাড় মাথায় নিয়ে তারা নিজেরা যদি দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তবুও আল্লাহ্ তাদের কবুল করবেন না? তাদের মুখে হয়তো আপনাদের মত সুললিত কন্ঠে ভাষা বের হবে না; কিন্তু ভগ্ন হৃদয়ে একনিষ্ঠ মনে তারা যদি মহাদয়াবান করুণাময়ের সামনে চোখের পানি ফেলে বুক ভাষায় তবুও কি তারা আপনাদের উছিলা না করার অপরাধে(?) ব্যর্থ হয়ে যাবে? আল্লাহ্ কি বান্দার প্রতি এতই কঠোর?
সাহাবী জুন্দুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ
একদা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্ব যুগের একজন লোকের কথা উল্লেখ করলেন, লোকটি বলেছিল: আল্লাহর শপথ উমুক লোকটিকে আল্লাহ্ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, কে সেই যে আমার উপর শপথ করে বলছে, আমি উমুককে ক্ষমা করব না? আমি উমুককে ক্ষমা করে দিলাম, আর তোমার যাবতীয় আমল ধ্বংস করে দিলাম। (সহীহ্ মুসলিম)
পীর সাহেবের উল্লেখিত উক্তি দ্বারা বুঝা যায় যে, পীর সাহেবের কোন গুনাহ্ হয় না বলেই তিনি অন্যের গুনাহ্ মাফ কারানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ আদম সন্তান সকলেই গুনাহ্ করে, গুনাহকারীদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তাওবা করে। [. আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাদীছটি হাসান, দ্রঃ সহীহুল জামে হা/৮৬৪৪ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।]
পীর সাহেবের কথায় আরো বুঝা যায় যে, তার মুরীদগণ সকলেই গুনাহগার। তাই তিনি তাদের গুনাহ মাফের ওকালতীর দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি কি করে জানলেন যে তার মুরীদ অসংখ্য গুনাহে লিপ্ত হয়েছে? অথচ কার কতটুকু গুনাহ্, কে কত বড় গুনাহগার তা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। কেননা আল্লাহ্ বলেন, وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا ‘‘আপনার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের গুনাহ্ সম্পর্কে যথেষ্ট খবর রাখেন এবং তা দেখেন। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১৭)
জনাব পীর সাহেব! দয়া করে বলবেন কি বান্দা গুণাহ করলে আল্লাহ্ তাকে মাফ করতে চান না এ কথা আপনি কোথায় পেলেন? কুরআনের আয়াত বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাদীছে কি এরকম কোন কথা আছে? নাকি আল্লাহ্ আপনাকে ওহী করে একথা বলেছেন? তাই আপনি গুনাহগার বান্দাকে আল্লাহর দরবারে কবুল করানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।
যে সমস্ত বান্দা অসংখ্য গুনাহ করেছেন কিন্তু আল্লাহর দরবারে কবুল পাওয়ার জন্য তারা এখনও আপনার দরবারে যায়নি বা অন্য কোন পীর সাহেবের উছিলা করেনি, তাদেরকে কি তাহলে আল্লাহ্ মাফ করবেন না? গুনাহের পাহাড় মাথায় নিয়ে তারা নিজেরা যদি দুহাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তবুও আল্লাহ্ তাদের কবুল করবেন না? তাদের মুখে হয়তো আপনাদের মত সুললিত কন্ঠে ভাষা বের হবে না; কিন্তু ভগ্ন হৃদয়ে একনিষ্ঠ মনে তারা যদি মহাদয়াবান করুণাময়ের সামনে চোখের পানি ফেলে বুক ভাষায় তবুও কি তারা আপনাদের উছিলা না করার অপরাধে(?) ব্যর্থ হয়ে যাবে? আল্লাহ্ কি বান্দার প্রতি এতই কঠোর?
সাহাবী জুন্দুব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَ أَنَّ رَجُلاً قَالَ وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ
একদা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্ব যুগের একজন লোকের কথা উল্লেখ করলেন, লোকটি বলেছিল: আল্লাহর শপথ উমুক লোকটিকে আল্লাহ্ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, কে সেই যে আমার উপর শপথ করে বলছে, আমি উমুককে ক্ষমা করব না? আমি উমুককে ক্ষমা করে দিলাম, আর তোমার যাবতীয় আমল ধ্বংস করে দিলাম। (সহীহ্ মুসলিম)
পীর সাহেবের উল্লেখিত উক্তি দ্বারা বুঝা যায় যে, পীর সাহেবের কোন গুনাহ্ হয় না বলেই তিনি অন্যের গুনাহ্ মাফ কারানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ আদম সন্তান সকলেই গুনাহ্ করে, গুনাহকারীদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তাওবা করে। [. আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাদীছটি হাসান, দ্রঃ সহীহুল জামে হা/৮৬৪৪ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত।]
পীর সাহেবের কথায় আরো বুঝা যায় যে, তার মুরীদগণ সকলেই গুনাহগার। তাই তিনি তাদের গুনাহ মাফের ওকালতীর দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি কি করে জানলেন যে তার মুরীদ অসংখ্য গুনাহে লিপ্ত হয়েছে? অথচ কার কতটুকু গুনাহ্, কে কত বড় গুনাহগার তা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। কেননা আল্লাহ্ বলেন, وَكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا ‘‘আপনার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের গুনাহ্ সম্পর্কে যথেষ্ট খবর রাখেন এবং তা দেখেন। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১৭)