hadith book logo

তাওহীদ পুনরুদ্ধার

লেখকঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

শেষ কথাঃ

তাওহীদের আলোচনার শেষ নেই। আল্লাহ্‌ যেমন আছেন- তিনি চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী, তাঁর তাওহীদও তেমন বিদ্যমান- অক্ষয়, অমলিন, চিরকালীন। অপর দিকে এই পৃথিবী যতকাল থাকবে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর তাওহীদের বিরুদ্ধে শয়তান ও তার দোসরদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মুমিন বান্দা এদের বিরুদ্ধে জদ্দো-জিহাদ করে আল্লাহর তাওহীদকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট থাকবে, যেমন করে নবী-রাসূলগণ তাওহীদের বাণীকেই সমুন্নত করার জন্যে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলিয়ে গেছেন। আল্লাহর অধিকার আদায় করার জন্য অক্লান্তভাবে অবিরাম পরিশ্রম করেছেন।

আমরা বক্ষমান পুস্তকে যে আলোচনা উপস্থাপন করলাম তার সারসংক্ষেপ হচ্ছেঃ

আল্লাহ্‌ তাআলা মানব-দানবকে একমাত্র তাঁর ইবাদত তথা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্যে সৃষ্টি করেছেন।

তাওহীদ বা একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য বিশুদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তাই সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে তাওহীদ মুখী করতে হবে। তাওহীদের বই-পুস্তক পাঠ্য সিলেবাসের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। যাতে করে তাওহীদ ও শির্কের মাঝে পার্থক্য জানা যায়। কেননা বর্তমানে অসংখ্য শির্ক ইসলামের লেবাস ধারণ করে মুসলমান সমাজে বিরাজ করছে।

শির্ক ও বিদআত চর্চা পরিত্যাগ করে, পবিত্র কুরআন ও সহীহ্‌ হাদীছের আলোকে তাওহীদ ও সুন্নাতের চর্চা করতে হবে।

কবর ও মাজারের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নেই; বরং এসব নিয়ে গবেষণা-আলোচনায় প্রবৃত্ত হলে শির্কের দরজা উন্মুক্ত হবে। অতএব মৃত ব্যক্তির কল্যাণ কামনা ও নিজের মরণকে স্মরণ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে কবর যিয়ারত করা যাবে না।

অতিভক্তি শির্কের গোড়া পত্তন করে, তাই কোন মানুষের প্রতি অতিভক্তি, অতিশ্রদ্ধা, অতিরঞ্জন থেকে সাবধান থাকতে হবে। এমনকি রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে নিয়েও বাড়াবাড়ি করা যাবে না। তিনি বলেছেন, যেমন করে খৃষ্টানরা ঈসা বিন মারইয়াম (আঃ)কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে; তোমরা আমাকে নিয়ে অনুরূপ বাড়াবাড়ি করো না। আমি তো আল্লাহর একজন বান্দা। তাই তোমরা আমাকে বল আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। (সহীহ্‌ বুখারী)

ইসলামে পীর-মুরিদী ব্যবস্থার কোন স্থান নেই। নিছক স্বার্থ সিদ্ধি তথা ব্যবসার উদ্দেশ্যেই এই প্রথার প্রবর্তন করা হয়েছে। অতএব সকল পীর থেকে সাবধান।

প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব খাঁটি ঈমান ও সহীহ হাদীছ মোতাবেক সঠিক আমল তার নাজাতের উসীলা বা মাধ্যম। মানুষ মানুষের উসীলা হতে পারে না।

দুনিয়া-আখেরাতের যাবতীয় কল্যাণ আল্লাহর কাছেই আছে। অতএব সরাসরি একমাত্র তাঁর কাছেই তা প্রার্থনা করতে হবে; অন্য কারো কাছে নয়। কারো মাধ্যমে নয়, কারো উসীলায় নয়।

প্রত্যেক ঈমানদার, মুত্তাকী ব্যক্তিই আল্লাহর ওলী- যদিও কোন মানুষ তাকে না চেনে। ওলী হওয়ার জন্য বিশেষ কোন বাহ্যিক আলামত, ব্যবস্থাপনা ও আড়ম্বরের দরকার নেই।

হে আল্লাহ্‌! আমাদেরকে তোমার তাওহীদের মর্ম উপলব্ধি করার জ্ঞান দাও। হৃদয়ে তাওহীদ ধারণ করে তার উপর বাঁচিয়ে রাখ এবং জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দাও। মৃত্যুর সময় তাওহীদের বাণী পাঠ করার সুযোগ দিও। আর তাওহীদের প্রতিদান স্বরূপ আমাদেরকে জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দিও। আমীন॥

রজব, ১৪৩১ হি মোতাবেক

জুন, ২০১০ খৃষ্টাব্দ।

سبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت أستغفرك وأتوب إليك

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين