১
তাওহীদ পুনরুদ্ধার
লেখকঃ আবদুল্লাহ্ আল কাফী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
তাওহীদ না থাকলে শাফাআত পাওয়া যাবে নাঃ
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) বলেন, এ সকল মুশরিকদের অন্তরে যে বিষয়টি বদ্ধমূল আছে তা হচ্ছে, তাদের ওলীগণ তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে সাহায্য-সুপারিশ করবেন। এই বিশ্বাসটাই হচ্ছে আসল শির্ক। আল্লাহ্ তাআলা স্বীয় কিতাবে এবিশ্বাসকেই প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করেছেন, বলেছেন পরকালে সাহায্য-সুপারিশের পুরা বিষয়টাই তাঁর অধিনে। তাঁর অনুমতি না পেয়ে কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে না। যার কথা ও কাজে তিনি সন্তুষ্ট থাকবেন তার পক্ষেই সুপারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে। আর তারা হচ্ছে ঐ সকল মানুষ যারা তাওহীদ বাস্তবায়ন করেছে এবং যারা আল্লাহ্ ছাড়া কোন পীর-ওলীকে সাহায্য বা সুপারিশকারী গ্রহণ করেনি। আল্লাহ্ যাকে চাইবেন তাদের জন্যে সুপারিশ করার অনুমতি দিবেন। তখন তারা হবে সুপারিশ লাভে সর্বাধিক ধন্য মানুষ। [. মাদারেজুস্ সালেকীন ১ম খন্ড, ২৫৫ পৃষ্ঠা]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) আরো বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ)এর প্রশ্নের জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর এই বাণীটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আপনার শাফায়াত লাভে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান মানুষ কে হবে? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ অন্তরে ওলা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ করবে। (সহীহ বুখারী) লক্ষ্য করুন! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে খালেস তাওহীদকে তাঁর শাফায়াত পাওয়ার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ মুশরেকরা ধারণা করে যে, মানুষকে ওলী বা মাধ্যম হিসেবে মানলে তাদের নিকট থেকে সুপারিশ বা সাহায্য পাওয়া যাবে। ওলী-আউলিয়াদের সাথে সম্পর্ক রাখলে তারা ওকালতি করে তাদেরকে পার করে দিবেন। যে মানুষ খালেসভাবে কালেমা পাঠ করেছে সে কখনোই তার মত আরেক মানুষকে মধ্যস্থ ধারণা করতে পারে না। কারণ আল্লাহর কাছে যাওয়ার জন্য কাউকে মধ্যস্থ ধরাটাই হচ্ছে আসল শির্ক। যে শির্কে লিপ্ত ছিল মক্কার আবু জাহেল-আবু লাহাব সমপ্রদায়। ওরা তো শুধু মুর্তিগুলোর নিকট থেকে এই শাফাআত পাওয়ারই আশা করেছিল। যে সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন, وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ তারা বলে, এরা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুসঃ ১৮) [. মক্কার কাফেরদের তাওহীদ ও শির্কের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে পেশ করা হবে ইনশাআল্লাহ্।] অতএব কিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শির্ককারীদের জন্যে সুপারিশ করবেন? তিনি বলেন,
আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে জনৈক ফেরেশতা আগমণ করে আমাকে দুটি বিষয়ের যে কোন একটি কিয়ামত দিবসে গ্রহণ করার জন্য স্বাধীনতা দেন। একটি হচ্ছে আমার উম্মতের অর্ধেক মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে কিয়ামত দিবসে আমি তাদের জন্যে শাফাআত করব। আমি সুপারিশের বিষয়টিকে গ্রহণ করি। আমার শাফাআত ঐ লোকদের জন্যে যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে (তথা তাওহীদ নিয়ে) মৃত্যু বরণ করেছে। [. আওফ বিন মালেক আশজাঈ (রাঃ) থেকে ইমাম তিরমিযী ‘শাফাআত’ অনুচ্ছেদে হাদীছটি বর্ণনা করেন। হা/২৩৬৫। ইবনে মাজাহ্ হা/৪৩০১ ও ৪৩০৮।]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহঃ) আরো বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ)এর প্রশ্নের জবাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর এই বাণীটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। আবু হুরায়রা (রাঃ) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত দিবসে আপনার শাফায়াত লাভে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান মানুষ কে হবে? তিনি বলেন, যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ অন্তরে ওলা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ করবে। (সহীহ বুখারী) লক্ষ্য করুন! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে খালেস তাওহীদকে তাঁর শাফায়াত পাওয়ার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ মুশরেকরা ধারণা করে যে, মানুষকে ওলী বা মাধ্যম হিসেবে মানলে তাদের নিকট থেকে সুপারিশ বা সাহায্য পাওয়া যাবে। ওলী-আউলিয়াদের সাথে সম্পর্ক রাখলে তারা ওকালতি করে তাদেরকে পার করে দিবেন। যে মানুষ খালেসভাবে কালেমা পাঠ করেছে সে কখনোই তার মত আরেক মানুষকে মধ্যস্থ ধারণা করতে পারে না। কারণ আল্লাহর কাছে যাওয়ার জন্য কাউকে মধ্যস্থ ধরাটাই হচ্ছে আসল শির্ক। যে শির্কে লিপ্ত ছিল মক্কার আবু জাহেল-আবু লাহাব সমপ্রদায়। ওরা তো শুধু মুর্তিগুলোর নিকট থেকে এই শাফাআত পাওয়ারই আশা করেছিল। যে সম্পর্কে আল্লাহ্ বলেন, وَيَقُولُونَ هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ তারা বলে, এরা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী। (সূরা ইউনুসঃ ১৮) [. মক্কার কাফেরদের তাওহীদ ও শির্কের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সামনে পেশ করা হবে ইনশাআল্লাহ্।] অতএব কিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শির্ককারীদের জন্যে সুপারিশ করবেন? তিনি বলেন,
আমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে জনৈক ফেরেশতা আগমণ করে আমাকে দুটি বিষয়ের যে কোন একটি কিয়ামত দিবসে গ্রহণ করার জন্য স্বাধীনতা দেন। একটি হচ্ছে আমার উম্মতের অর্ধেক মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে কিয়ামত দিবসে আমি তাদের জন্যে শাফাআত করব। আমি সুপারিশের বিষয়টিকে গ্রহণ করি। আমার শাফাআত ঐ লোকদের জন্যে যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে (তথা তাওহীদ নিয়ে) মৃত্যু বরণ করেছে। [. আওফ বিন মালেক আশজাঈ (রাঃ) থেকে ইমাম তিরমিযী ‘শাফাআত’ অনুচ্ছেদে হাদীছটি বর্ণনা করেন। হা/২৩৬৫। ইবনে মাজাহ্ হা/৪৩০১ ও ৪৩০৮।]