১
হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নান্দনিক আচরণ
লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
আট. ভারসাম্য ও মধ্যম পন্থা
কর্মে -মধ্যম পন্থাই উত্তম। এর বিপরীতে উভয় প্রান্তিকতাই অনুত্তম, অবাঞ্ছিত। শুভ্র শরীয়তে এরই তাগিদ এসেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: ‘‘ মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো - তিনবার বললেন - কেননা যে ধর্ম বিষয়ে চাপাচাপি করে সে পরাভূত হয়’’ তিনি আরো বলেছেন,‘‘ মধ্যম পন্থা ধরো মধ্যম পন্থা ধরো, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছাবে।’’ হজে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবস্থা ও চরিত্রগুণের যে-দিকটি সমধিক মূর্তিমান হলো তা এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা , এবং অবজ্ঞা অথবা কঠোরতার প্রান্তিকতাকে ঘৃণা। প্রতিপালকের সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবস্থার দুটি দিক, সম্ভবত, আমাদের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ক
প্রতিপালকের সাথে গভীর ও কঠিন সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের যত্ন এবং একই সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে উম্মতকে শিক্ষা ও নেতৃত্ব দান, স্ত্রীদের যত্ন এবং পরিজনের প্রতি সদয় আচরণ।
খ
আত্মা ও শরীরের অধিকারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা , কেননা হজের ইমানআপ্লুত গুরুগম্ভীর পরিশেষে অনেককে যেখানে শরীরের অধিকার খর্ব করতে দেখি, আত্মার অধিকার প্রদানে প্রান্তিকতার শিকার হতে দেখি, সেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখতে পাই শরীরের প্রতি পুরোপুরি যত্ন নিতে। এই সূত্রেই তিনি তারবীয়ার দিন (৮ জিল হজ) মিনায় উঠে যান আরাফার কাছাকাছি হওয়ার জন্য, এবং আরাফা ও মুযদালিফার রাতে ঘুমান এবং আরাফার দিন রোজা না রেখে কাটান। তিনি পশমের তৈরি গম্বুজের ছায়া গ্রহণ করেন যা পূর্বেই তাঁর জন্য দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি মুযদালিফার রাতে নফল ছেড়ে দেন, দুই নামাজের পূর্বে ও পরে, এবং সে রাত্রি ইবাদতের মাধ্যমে যাপন না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমান। তিনি হজের পবিত্রস্থান সমূহের মাঝে গমনাগমন ও হজের কিছু আমল যেমন তোওয়াফ, সাঈ , জামরাতুল আকাবাহ সম্পাদন করার সময় পরিবহণের জন্তু ব্যবহার করেন। তিনি সেবা ও কাজকর্মের জন্য খাদেমও গ্রহণ করেন এ জাতীয় বিষয়াদি শরীরের যত্নের পর্যায়ে পড়ে এবং এ মৌসুমের মহৎ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য শরীরকে সতেজ রাখে, আর এ মহৎ উদ্দেশ্য হলো দোয়া ও মোনাজাত এবং সচেতন-চিত্তে নিমগ্ন অবস্থায়, খুশু’ ও ইতমিনানের সাথে হজ সম্পাদন করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এই ভারসাম্য উম্মুল হাসিনের (রা) হাদিসে আরো বিমূর্ত আকারে ধরা পড়ে। তিনি বলেন :‘‘ আমি বিদায় হজ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আদায় করেছি, জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর আমি তাঁকে উটের ওপর প্রস্থান করতে দেখেছি, তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল ও উছামাহ (রা) । এঁদের একজন সওয়ারি উট চালিয়ে নিচ্ছেন অন্যজন বস্ত্র উঁচু করে ধরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে ছায়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ ﷺ এ সময় অনেক কথাই বললেন , এক সময় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম : যদি তোমাদের ওপর নত নাশিকাবিশিষ্ট গোলামকেও নেতা বানানো হয়, যে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করবে, তোমরা তার কথা মেনে চলো ও আনুগত্য করো ’’ বর্ণানাকারী সাহাবিয়াহ এ-হাদিসে বহু বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, যেমন কঙ্কর নিক্ষেপ, বাহন ব্যবহার, ছায়া গ্রহণ, গাম্ভির্যতা নিয়ে চলা, কিছু সাহাবাগণ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সেবা, গণমানুষকে শিক্ষা দান ও তাদেরকে ওয়াজ নসিহত কর, ইত্যাদি।
আপনি যদি গন্তব্যে পৌঁছোতে চান তাহলে আপনার দিক-নিদের্শক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন যিনি আপনাকে ও আপনার সতীর্থদেরকে বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় ধর্ম সহজ, আর ধর্ম বিষয়ে যে ব্যক্তিই চাপাচাপি করে সেই পরাহত হয়, অতঃপর সোজা করো, নিকটে আনো, সুসংবাদ দাও , আর মাঝে মাঝে অবসাদ ঝেরে শক্তি সঞ্চয় করো, --- ’’। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নত বিষয়ে কখনো উদাসীন হবেন না, কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল সে আমার দলভুক্ত নয় , তাই কোমলতার সাথে আল্লাহর দিনে প্রবেশ করুন, আড়ম্বরতা ছেড়ে দিন, মধ্যম পন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ বেছে নিন, এবং আল্লাহর ইবাদত বিষয়ে আপনার অন্তরাত্মাকে বিষিয়ে তুলবেন না। ‘‘ কেননা মধ্যমপন্থীর সফর কখনো থামে না, আর আরোহণের কোনো পৃষ্ঠও সে বাদ রাখে না।’’
ক
প্রতিপালকের সাথে গভীর ও কঠিন সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের যত্ন এবং একই সাথে ভারসাম্য রক্ষা করে উম্মতকে শিক্ষা ও নেতৃত্ব দান, স্ত্রীদের যত্ন এবং পরিজনের প্রতি সদয় আচরণ।
খ
আত্মা ও শরীরের অধিকারের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা , কেননা হজের ইমানআপ্লুত গুরুগম্ভীর পরিশেষে অনেককে যেখানে শরীরের অধিকার খর্ব করতে দেখি, আত্মার অধিকার প্রদানে প্রান্তিকতার শিকার হতে দেখি, সেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখতে পাই শরীরের প্রতি পুরোপুরি যত্ন নিতে। এই সূত্রেই তিনি তারবীয়ার দিন (৮ জিল হজ) মিনায় উঠে যান আরাফার কাছাকাছি হওয়ার জন্য, এবং আরাফা ও মুযদালিফার রাতে ঘুমান এবং আরাফার দিন রোজা না রেখে কাটান। তিনি পশমের তৈরি গম্বুজের ছায়া গ্রহণ করেন যা পূর্বেই তাঁর জন্য দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি মুযদালিফার রাতে নফল ছেড়ে দেন, দুই নামাজের পূর্বে ও পরে, এবং সে রাত্রি ইবাদতের মাধ্যমে যাপন না করে সকাল পর্যন্ত ঘুমান। তিনি হজের পবিত্রস্থান সমূহের মাঝে গমনাগমন ও হজের কিছু আমল যেমন তোওয়াফ, সাঈ , জামরাতুল আকাবাহ সম্পাদন করার সময় পরিবহণের জন্তু ব্যবহার করেন। তিনি সেবা ও কাজকর্মের জন্য খাদেমও গ্রহণ করেন এ জাতীয় বিষয়াদি শরীরের যত্নের পর্যায়ে পড়ে এবং এ মৌসুমের মহৎ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য শরীরকে সতেজ রাখে, আর এ মহৎ উদ্দেশ্য হলো দোয়া ও মোনাজাত এবং সচেতন-চিত্তে নিমগ্ন অবস্থায়, খুশু’ ও ইতমিনানের সাথে হজ সম্পাদন করা।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর এই ভারসাম্য উম্মুল হাসিনের (রা) হাদিসে আরো বিমূর্ত আকারে ধরা পড়ে। তিনি বলেন :‘‘ আমি বিদায় হজ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আদায় করেছি, জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর আমি তাঁকে উটের ওপর প্রস্থান করতে দেখেছি, তাঁর সাথে ছিলেন বেলাল ও উছামাহ (রা) । এঁদের একজন সওয়ারি উট চালিয়ে নিচ্ছেন অন্যজন বস্ত্র উঁচু করে ধরে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে ছায়া দিচ্ছেন। তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ ﷺ এ সময় অনেক কথাই বললেন , এক সময় আমি তাঁকে বলতে শুনলাম : যদি তোমাদের ওপর নত নাশিকাবিশিষ্ট গোলামকেও নেতা বানানো হয়, যে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালিত করবে, তোমরা তার কথা মেনে চলো ও আনুগত্য করো ’’ বর্ণানাকারী সাহাবিয়াহ এ-হাদিসে বহু বিষয়ের উল্লেখ করেছেন, যেমন কঙ্কর নিক্ষেপ, বাহন ব্যবহার, ছায়া গ্রহণ, গাম্ভির্যতা নিয়ে চলা, কিছু সাহাবাগণ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সেবা, গণমানুষকে শিক্ষা দান ও তাদেরকে ওয়াজ নসিহত কর, ইত্যাদি।
আপনি যদি গন্তব্যে পৌঁছোতে চান তাহলে আপনার দিক-নিদের্শক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাত শক্তভাবে আঁকড়ে ধরুন যিনি আপনাকে ও আপনার সতীর্থদেরকে বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় ধর্ম সহজ, আর ধর্ম বিষয়ে যে ব্যক্তিই চাপাচাপি করে সেই পরাহত হয়, অতঃপর সোজা করো, নিকটে আনো, সুসংবাদ দাও , আর মাঝে মাঝে অবসাদ ঝেরে শক্তি সঞ্চয় করো, --- ’’। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নত বিষয়ে কখনো উদাসীন হবেন না, কেননা রাসূলুল্লাহ ﷺ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল সে আমার দলভুক্ত নয় , তাই কোমলতার সাথে আল্লাহর দিনে প্রবেশ করুন, আড়ম্বরতা ছেড়ে দিন, মধ্যম পন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ বেছে নিন, এবং আল্লাহর ইবাদত বিষয়ে আপনার অন্তরাত্মাকে বিষিয়ে তুলবেন না। ‘‘ কেননা মধ্যমপন্থীর সফর কখনো থামে না, আর আরোহণের কোনো পৃষ্ঠও সে বাদ রাখে না।’’