hadith book logo

হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নান্দনিক আচরণ

লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৮

৮- হজ্বে পরিবারের সদস্যদের প্রতি করুণা প্রদর্শন

হজ্বে রাসূলুল্লাহ r তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাথে কোমল আচরণ করেছেন, তাদের প্রতি করুণা ও মমত্ববোধ দেখিয়েছেন, তাদের মধ্যে যে দুর্বল তার প্রতি তিনি অধিক নজর দিয়েছেন। হজ্বকর্ম যেভাবে সম্পাদন করলে সহজ হবে তার দিকনির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন। এর উদাহরণ অনেক, তন্মধ্যে-নবী-পত্নীদের জন্য যা সহজ তাদের জন্য তা পছন্দ করা ও সে অনুযায়ী আমল করতে বলা। যেমন হযরত হাফছার হাদীস অনুযায়ী

‘রাসূলুল্লাহ r তাঁর স্ত্রীদের (রা) কে বিদায় হজ্বের সময় (ওমরার পর) হালাল হয়ে যেতে বলেছেন।’’

হযরত যাবাআহ বিনতে যুবাইরকে (রা) অসুস্থতার কারণে শর্ত সংযুক্ত করে নিয়ত করার অনুমতি দেয়াও এ পর্যায়ে পড়ে।

স্বজনদের মধ্যে যারা দুর্বল তাদেরকে মানুষজনের পূর্বেই মুযদালিফা থেকে প্রস্থান করে কঙ্কর নিক্ষেপের জন্য রওনা হওয়ার অনুমতি দেয়াও এ পর্যায়ের একটি উদাহরণ । হযরত ইবনে আববাস (রা) বলেন : রাসূলুল্লাহ r বনি হাশেম গোত্রের দুর্বলদেরকে মুযদালিফা থেকে রাতের বেলায় প্রস্থান করার অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন,’’ হযরত উম্মে সালামার কৈফিয়ত এবং তাঁকে পুরুষদের পাশে হয়ে আরোহিণী অবস্থায় তোওয়াফ করার অনুমতি, আববাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা) কে, হাজ্বীদের পানি পান করানোর প্রয়োজনে, মিনার রাতগুলো মক্কায় যাপনের অনুমতি দেয়া ইত্যাদি আলোচ্য বিষয়টিরই কয়েকটি উদাহরণ।

রাসূলুল্লাহ r এর যুগে হাজ্বীদের সংখ্যা বর্তমান যুগের তুলনায় অত্যন্তই কম ছিল। সাথে সাথে সে সময় যারা হজ্ব করেছেন তাঁরা ছিলেন এ-উম্মতের স্বর্ণযুগের মানুষ, সব থেকে বেশি পরহেজগার , আল্লাহ-ভীরু, নম্র-ভদ্র ও অধিক গুরুগম্ভীর, তা সত্ত্বেও নবী r তাঁর আহলে বায়তের প্রতি এতোই নজর রেখেছেন, তাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন, তাদের পাশে থেকেছেন, যা ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না। অবস্থা যদি এই হয় তাহলে আমাদের বর্তমান যুগে বয়োবৃদ্ধ হাজ্বী, মহিলা ও শিশুদের সাথে কোমল আচরণ ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। কেননা হাজ্বীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে হজ্বসংক্রান্ত বিষয়ে অজ্ঞানতাও বেড়ে গেছে। আর এত মানুষের একসাথে হজ্ব করায় দয়া ও মমত্ববোধও কমে গেছে প্রকট আকারে। তাই আপনার স্বজনদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন। তাদের জন্য শরীয়তের আওতায় থেকে যা সহজ তা অবলম্বন করুন। এটাই আপনার জন্য উত্তম এবং আশা করা যায়, আপনার ছওয়াবও ,এর ফলে, বহুগুণে বেড়ে যাবে।