hadith book logo

হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নান্দনিক আচরণ

লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৯

৯. পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে ধৈর্য

রাসূলুল্লাহ r পরিবাপরিজনদের জন্য শিক্ষক ও একই সাথে তাদের সেবাযত্নকারীও ছিলেন। আর তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কেউ ছিলেন বৃদ্ধ ও মোটা স্বাস্থ্যের অধিকারী , যেমন সাওদা (রা); কেউ অসুস্থ যেমন যাবাআহ ও উম্মে সালামাহ; আর সাথে ছিলেন অনেক মহিলা যেমন নবী তনয়া ফাতিমা (রা) ও সকল উম্মহাতুল মুমিনিন; বনি আব্দুল মুত্তালিব ও বনু হাশেমের শিশুরা তো আছেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ r এর ধৈর্যের মতো এমন ধৈর্য আর কারও মধ্যে দেখা যায়নি। পরিবার-পরিজনদের বিষয়ে তাঁর চেয়ে অধিক সহনশীল খুঁজে পাওয়াও অসম্ভব। কারণ তিনি পথ দেখিয়েছেন, দিকনির্দেশনা দিয়েছেন , করুণা ও কোমলতা প্রকাশ করেছেন, তাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করেছেন , তাদের প্রতি এহসান করেছেন। তাদের যত্ন নিয়েছেন, সমস্যা ও অভাবে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাথে কখনো-সখনো মৃদু কৌতুকও করেছেন। তিনি তাদের অধিকার রক্ষা করেছেন, ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন, তাদের বিষয়-আশয় পরিচালনা করেছেন সুন্দরভাবে। আর এসবই করেছেন আনন্দচিত্তে। বিরক্তিবোধ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি তাঁকে কখনো ।

এটাই হলো মুহাম্মদী চরিত্র ও কোরআনী আখলাক যা মানবিক মহানুভবতাকে প্রকাশ করছে উজ্জ্বলভাবে। পরিবার-পরিজনদের প্রতি ধৈর্য খুবই ঠিক কাজ। আর এ কাজটি মহান ব্যক্তিরা ব্যতীত অন্য কেউ সহজে করতে পারে না। কেননা প্রাত্যহিক মেলামেশা ভক্তি-শ্রদ্ধা ও ভয়-ভীতি কমিয়ে দেয়। যার ফলে, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে, ব্যক্তিকে অধিক পরিমাণে সহনশীল ও ধৈর্যধারণকারী হতে হয়। বিশেষ করে হজ্বমৌসুমে যেখানে বেড়ে যায় মানুষের উপস্থিতি, সীমা ছাড়িয়ে যায় কষ্ট-ক্লেশের মাত্রা।

অতঃপর কেউ কি আছেন ছোয়াব প্রত্যাশী? পরকালে আগ্রহী ? যিনি তার পরিবার পরিজনদের বিষয়ে, ছেলে সন্তানদের বিষয়ে, নিজেকে ধৈর্যের বলয়ে আবদ্ধ করবেন? যিনি হবেন নেতৃত্ব ও উচ্চাসনের দরজায় কড়া নাড়তে আগ্রহী। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে: ‘‘আমি তাদেরকে নেতৃত্বদানকারী বানালাম, যারা আমার নির্দেশে মানুষদেরকে পথ দেখাবে; যখন তারা ধৈর্যধারণ করল,আর আমার আয়াতসমূহের প্রতি তারা ছিল বিশ্বাসী।’’ আর এ ধৈর্যই হলো আল্লাহর মহববত ও সাহায্য লাভের পথ। যেমন এরশাদ হয়েছে :‘‘ আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পছন্দ করেন।’’