hadith book logo

হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নান্দনিক আচরণ

লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৪

ক. সর্বোত্তম আদর্শিক নমুনা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন

প্রয়োগে না গিয়ে কেবল কথার গোলাপ ছড়ানোর দোষে যারা দুষ্ট তাদের বিষয়ে আল্লাহ পাক বলেছেন:

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ

‘‘ তোমরা কি মানুষকে ভালো কাজের নির্দেশ দাও, আর নিজেদের ব্যাপারে হও স্মৃতিভ্রষ্ট ! অথচ তোমরা কিতাব অধ্যয়ন কর, তবে কি তোমরা বুঝ না?’’

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ﴿২﴾ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ

‘‘ হে মুমিনগণ তোমরা যা করো না তা কেন বল, তোমরা যা করনা তা বলা আল্লাহর কাছে অতিশয় অসন্তোষজনক’’ আর যেহেতু কোরআনই ছিল রাসূলুল্লাহর r চরিত্র, তাই রাসূলুল্লাহ r তাদেরকে কোনো নির্দেশ দিতেন না যতক্ষণ না অন্য সবার পূর্বেই তা তিনি বাস্তবায়ন করে নেন। একইরূপে কোনো কিছু থেকে নিষেধ করতেন না যতক্ষণ না নিজে তা থেকে অবস্থান নিতেন বহু দূরে। হজ্বে নবীচরিত্রের এই উজ্জ্বল দিকগুলো বিচিত্র ধারায় প্রকাশ পেয়েছে, তন্মধ্যে নিম্নবর্ণিত কয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

* বিদায় হজ্বের খোতবায় তিনি বলেছেন, ‘‘ জেনে রাখো! জাহেলী যুগের সকল বিষয় আমার এ দু’পায়ের নীচে রাখা । আর আমাদের হত্যাসমূহের মধ্যে প্রথম হত্যা যা রহিত করছি ইবনে রাবিয়া ইবনে হারেসের হত্যা, সে বনু সা’দ গোত্রে দুগ্ধপায়ী থাকা অবস্থায় হোযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। জাহিলীযুগের সুদ রহিত হলো । আর প্রথম সুদ যা রহিত করছি আমাদের সুদ; আববাস ইবনে আব্দুল মুত্তালেবের সুদ, এটা রহিত হলো।’’

* রাসূলুল্লাহ r যখন তাঁর সাহাবাদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন হজ্বে কল্যাণকর কাজের বিষয়ে, ইবাদত বন্দেগী , আল্লাহর সামনে খুশু খুজু বিনয় ও নম্রতা প্রকাশের জন্য, তখন তিনি ছিলেন ভয়ে-ত্রস্তে আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি. বিনয় ও নম্রতায় সর্বাগ্রে, আকুতি ব্যাকুলতা ও স্রষ্টার সামনে দীনতা প্রকাশে সর্বোর্ধ্বে।

* তিনি যখন তার সাহাবাদেরকে দুনিয়ার প্রতি নির্লোভ ও পরকালের প্রতি আগ্রহী হতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন তখন তিনি একটি জীর্ণ গদি ও চার দিরহাম মূল্যেরও হবে না এমন একটি চাদরের ওপর ছিলেন।

* তিনি যখন ধাক্কাধাক্কি বর্জন করে ধীরে-সুস্থে হজ্বকর্ম পালনের নির্দেশ দেন সে-সময় তাঁকে দেখা গেলো অত্যন্ত গুরুগম্ভীর ও শান্ত হয়ে আরাফা থেকে প্রস্থান করতে , তাঁর চলার গতিও ছিল মন্থর।

* তিনি যখন চুল কর্তন ও মাথামুন্ডন উভয়টার বৈধতা প্রকাশ করলেন, এবং মাথামুন্ডন ব্যাপারে বেশি উৎসাহ দিলেন ও মুন্ডনকারীদের জন্য জিকির">দোয়া করলেন তখন তিনি রীতিমতো মুন্ডনকৃত অবস্থায় ছিলেন ।

* তিনি যখন ধর্মে বাড়াবাড়ি থেকে সাহাবাদেরকে বারণ করলেন এবং আঙুল দিয়ে নিক্ষেপ করা যায় এমন কঙ্কর নিক্ষেপ করতে বললেন, তখন তিনি একই রকম কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন।

এটা অনুধাবন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কাকতালীয়ভাবে নয় বরং রাসূলুল্লাহ r স্বেচ্ছায় সাগ্রহে নিজেকে উত্তম আদর্শের নমুনা বানিয়ে উপস্থাপন করেছেন। এর ইঙ্গিত পাওয়া যায় যখন তিনি পানি পান করানোর কাজে নিয়োজিতদেরকে বললেন, ‘‘মানুষ তোমাদের ওপর অতি মাত্রায় ভির করবে এ-ভয় না হলে আমি তোমাদের সাথে পানি উঠতাম।’’

এ-জাতীয় বিষয়ই মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়ে এনেছে, এবং তাঁর ব্যক্তিত্বে তাদেরকে প্রভাবিত করেছে। কেননা এটা হলো ঐকান্তিকতা ও নেতৃত্বের উৎকর্ষতার আলামত, এবং যা অন্যদেরকে করতে বলা হচ্ছে তাতে দৃঢ় বিশ্বাস ও বাস্তবায়নে একনিষ্ঠতার পরিচয়।

কতই না সুন্দর হবে যদি দ্বীনের পথে আহবায়কগণ (দাঈ) এ মহিমান্বিত চরিত্র মাধুরী আত্মস্থ করে নেয়, তাদের নিজস্ব জীবনে এর যথাযথ অভিব্যক্তি ঘটায়, অন্যদের জন্য উত্তম আদর্শ স্থাপন করতে সমর্থ হয় সকল কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ করে হজ্ব -মৌসুমে। অতঃপর ভালো কাজ- যার নির্দেশ তারা অন্যদেরকে দেয় -- সম্পাদনে তারা হয়ে যায় সর্বাগ্রে। আর অন্যায় কাজ - যা থেকে অন্যদেরকে বারণ করছে -তা থেকে তারা অবস্থান নেয় বহু দূরে ।