hadith book logo

হজ পালন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নান্দনিক আচরণ

লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৩

১৩- স্বজনদের অধিকার রক্ষা

রাসূলুল্লাহ r তাঁর পরিবারের সদস্যদের অধিকার রক্ষা করেছেন নিখুঁতভাবে। হযরত ইবনে আববাসের (রা) এক বর্ণনায় এ-বিষয়টি মূর্ত হয়ে ধরা পড়ে। তিনি বলেন :‘‘ রাসূলুল্লাহ r বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেন। তিনি হাজরে আসওয়াদ বক্রাগ্র লাঠি দিয়ে স্পর্শ করতে থাকেন। শেষে তিনি পানি পানের জায়গায় আসেন। তার চাচাতো ভায়েরা পানি ওঠাচ্ছিলেন। তিনি বললেন আমাকে দাও ! বালতি উঠানো হলো। রাসূলুল্লাহর পান করলেন, ও বললেন : মানুষ এ-পানি উঠানোকে হজ্বের অংশ হিসেবে মনে করবে ও তোমাদের কাছ থেকে এ বিষয়টি কেড়ে নিবে এ-ধরনের আশংকা না হলে আমি তোমাদের সাথে পানি ওঠাতাম।’’ তাই হজ্বে আপনার স্বজনদের কোন অধিকার বিষয়ে আশঙ্কা অনুভব করলে আপনি প্রথমে তাদেরকে তাদের দাবি উঠিয়ে নিতে উদ্বুদ্ধ করুন ও বিবাদে লিপ্ত হওয়া থেকে বারণ করুন- শুধুই প্রতিদানের আশায়, আর এটাই উত্তম। রাজি না হলে তাদের অধিকার যাতে রক্ষিত হয় এবং অন্যরা যাতে তা আত্মসাৎ করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

হজ্বে পরিবার পরিজনের মাঝে রাসূলুল্লাহর অবস্থা ও তাদের সাথে আচরণধারার এ ছিল কিছু খন্ড চিত্র। আপনার পরিবার আপনার বড়ো মূলধন, এ-কথায় আপনি বিশ্বাস করলে হজ্বে তাদের সাথে আপনার অবস্থা ও আচরণবিধিকে রাসূলুল্লাহ r এর অবস্থা ও আচরণের সাথে তুলনা করে দেখুন তবেই আঁচ করতে পারবেন পার্থক্যটা কোথায়। রাসূলুল্লাহ r এর আদর্শ অনুসরণের ইচ্ছা আপনাকে উদ্বুদ্ধ করুক আপনার দায়দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করতে। অতঃপর আপনি, তাদের পরকাল ও প্রতিপালকের দন্ড থেকে রক্ষা করবে, এমন বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিন। তাদের পার্থিব স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য যতটুকু করছেন তার চেয়েও শতগুণে বেশি করুন তাদের পরকালীন সুখের জন্য। তাদের হজ্ব , ইবাদত-বন্দেগি, চারিত্রিক উৎকর্ষ যাতে চূড়ান্ত পর্যায়ের সুষমা পায়, সুন্দরতমরূপে আদায় হয় তার জন্য যা কিছু শেখাতে হয় সবকিছুই তাদের ইখলাসের সাথে শেখান। এসবই করবেন উত্তম আচরণের আদলে, যেভাবে আচরণ করেন আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে -তার থেকেও বহুগুনে উত্তমভাবে; কারণ তাদের অধিকার আপনার ওপর প্রচুর। আপনার দায়িত্বও তাদের প্রতি বিশাল। তাই সিরিয়াস হন। আল্লাহর সামনে লুটিয়ে পড়ুন, অবনত হন; যাতে তিনি আপনাকে সাহায্য করেন ও সোজা পথে পরিচালিত হতে তাওফিক দেন।