১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২০
কোন কিছু হারাম করার অধিকার একমাত্র আল্লাহর
শরীয়তের সকল ধরনের বিধিবিধান প্রণয়নের মালিক একমাত্র আল্লাহ। সুতরাং কোন্টা হালাল এবং কোন্টা হারাম- এসব সিদ্ধামত্ম দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَهُوَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ لَهُ الْحَمْدُ فِى الْاُوْلٰى وَالْاٰخِرَةِ ؗ وَلَهُ الْحُكْمُ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ﴾
তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, বিধান তাঁরই; আর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
(সূরা ক্বাসাস- ৭০)
﴿اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِيْنَ﴾
কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহরই। তিনি সত্য বিবৃত করেন; আর ফায়সালাকারীদের মধ্যে তিনিই সর্বর্র্র্শ্রেষ্ঠ। (সূরা আন‘আম- ৫৭)
﴿قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِيْنَةَ اللهِ الَّتِيْۤ اَخْرَجَ لِعِبَادِهٖ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِؕ قُلْ هِيَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَّوْمَ الْقِيَامَةِ﴾
বলো, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্যমন্ডিত বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, কে তা হারাম করেছে? বলো, এগুলো পার্থিব জীবনে (জীবিকাস্বরূপ) মুমিনদের জন্য দেয়া হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন (এগুলো) কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। (সূরা আ‘রাফ- ৩২)
আল্লাহ দুনিয়ার সমস্ত শোভা-সৌন্দর্য এবং সমস্ত পাক-পবিত্র জিনিস তাঁর বান্দাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এখন যদি কোন ধর্ম বা নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা এগুলোকে হারাম অথবা আত্মিক উন্নতির প্রতিবন্ধক বলে গণ্য করে তাহলে বুঝতে হবে যে, সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি। হালাল জীবিকা থেকে বঞ্চিত থাকা আল্লাহর কাছে প্রিয় নয়। বরং তাঁর দেয়া উত্তম পোশাক পরিধান করলে এবং পবিত্র ও হালাল খাবার ভক্ষণ করলেই তিনি বেশি খুশি হন। কেননা এসব নিয়ামত আল্লাহ ভোগ করার জন্যই দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ যখন হালালকে হারাম করা বা হারামকে হালাল করার মাধ্যমে তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে, তখনই তিনি অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ اَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هٰذَا حَلَالٌ وَّهٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ الْكَذِبَؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُوْنَ﴾
তোমরা তোমাদের জিহবা দ্বারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে (এ কথা) বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে, তারা সফলকাম হতে পারবে না। (সূরা নাহল- ১১৬)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَتْرُكُوْنَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيْ كِتَابِه وَبَيَّنَ حَلَالَه وَحَرَامَه فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ ثُمَّ تَلَا هٰذِهِ الْاٰيَةَ ﴿قُلْ لَّاۤ أَجِدُ فِيْ مَاۤ أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلٰى طَاعِمٍ يَّطْعَمُه إِلَّاۤ أَنْ يَّكُوْنَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيْرٍ﴾
ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা অপবিত্র মনে করে অনেকগুলো জিনিস ছেড়ে দিত। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাব নাযিল করলেন এবং হালাল ও হারাম বর্ণনা করে দিলেন। সুতরাং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাই হালাল এবং তিনি যা হারাম করেছেন তাই হারাম। আর যেসব ব্যাপারে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তা হচ্ছে তোমাদের জন্য ক্ষমা। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেছেন- বলো, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাইনি কোন ভক্ষণকারীর জন্য যা সে ভক্ষণ করে; তবে মৃত, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের মাংস ব্যতীত- (সূরা আন‘আম- ১৪৫)। [আবু দাউদ, হা/৩৮০২; বায়হাকী, হা/১৯৫০৬; মিশকাত, হা/৪১৪৬।]
হালালকে হারাম করা মারাত্মক অপরাধ :
হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করা মারাত্মক অপরাধ। কেননা এটা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحَرِّمُوْا طَيِّبَاتِ مَاۤ اَحَلَّ اللهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوْاؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ﴾
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র বস্তুকে হালাল করে দিয়েছেন, সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা মায়েদা- ৮৭)
﴿وَهُوَ اللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَؕ لَهُ الْحَمْدُ فِى الْاُوْلٰى وَالْاٰخِرَةِ ؗ وَلَهُ الْحُكْمُ وَاِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ﴾
তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। দুনিয়া ও আখিরাতে সমস্ত প্রশংসা তাঁরই, বিধান তাঁরই; আর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
(সূরা ক্বাসাস- ৭০)
﴿اِنِ الْحُكْمُ اِلَّا لِلّٰهِؕ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِيْنَ﴾
কর্তৃত্ব কেবল আল্লাহরই। তিনি সত্য বিবৃত করেন; আর ফায়সালাকারীদের মধ্যে তিনিই সর্বর্র্র্শ্রেষ্ঠ। (সূরা আন‘আম- ৫৭)
﴿قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِيْنَةَ اللهِ الَّتِيْۤ اَخْرَجَ لِعِبَادِهٖ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِؕ قُلْ هِيَ لِلَّذِيْنَ اٰمَنُوْا فِى الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَّوْمَ الْقِيَامَةِ﴾
বলো, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব সৌন্দর্যমন্ডিত বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, কে তা হারাম করেছে? বলো, এগুলো পার্থিব জীবনে (জীবিকাস্বরূপ) মুমিনদের জন্য দেয়া হয়েছে। আর কিয়ামতের দিন (এগুলো) কেবল তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। (সূরা আ‘রাফ- ৩২)
আল্লাহ দুনিয়ার সমস্ত শোভা-সৌন্দর্য এবং সমস্ত পাক-পবিত্র জিনিস তাঁর বান্দাদের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এখন যদি কোন ধর্ম বা নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা এগুলোকে হারাম অথবা আত্মিক উন্নতির প্রতিবন্ধক বলে গণ্য করে তাহলে বুঝতে হবে যে, সেটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি। হালাল জীবিকা থেকে বঞ্চিত থাকা আল্লাহর কাছে প্রিয় নয়। বরং তাঁর দেয়া উত্তম পোশাক পরিধান করলে এবং পবিত্র ও হালাল খাবার ভক্ষণ করলেই তিনি বেশি খুশি হন। কেননা এসব নিয়ামত আল্লাহ ভোগ করার জন্যই দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ যখন হালালকে হারাম করা বা হারামকে হালাল করার মাধ্যমে তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে, তখনই তিনি অসন্তুষ্ট হন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ اَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هٰذَا حَلَالٌ وَّهٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ الْكَذِبَؕ اِنَّ الَّذِيْنَ يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُوْنَ﴾
তোমরা তোমাদের জিহবা দ্বারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে (এ কথা) বলো না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে, তারা সফলকাম হতে পারবে না। (সূরা নাহল- ১১৬)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَتْرُكُوْنَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيْ كِتَابِه وَبَيَّنَ حَلَالَه وَحَرَامَه فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلَالٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ ثُمَّ تَلَا هٰذِهِ الْاٰيَةَ ﴿قُلْ لَّاۤ أَجِدُ فِيْ مَاۤ أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلٰى طَاعِمٍ يَّطْعَمُه إِلَّاۤ أَنْ يَّكُوْنَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيْرٍ﴾
ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলী যুগের লোকেরা অপবিত্র মনে করে অনেকগুলো জিনিস ছেড়ে দিত। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাব নাযিল করলেন এবং হালাল ও হারাম বর্ণনা করে দিলেন। সুতরাং আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাই হালাল এবং তিনি যা হারাম করেছেন তাই হারাম। আর যেসব ব্যাপারে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তা হচ্ছে তোমাদের জন্য ক্ষমা। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেছেন- বলো, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাইনি কোন ভক্ষণকারীর জন্য যা সে ভক্ষণ করে; তবে মৃত, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের মাংস ব্যতীত- (সূরা আন‘আম- ১৪৫)। [আবু দাউদ, হা/৩৮০২; বায়হাকী, হা/১৯৫০৬; মিশকাত, হা/৪১৪৬।]
হালালকে হারাম করা মারাত্মক অপরাধ :
হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করা মারাত্মক অপরাধ। কেননা এটা আল্লাহর বিধান পরিবর্তন করার শামিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تُحَرِّمُوْا طَيِّبَاتِ مَاۤ اَحَلَّ اللهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوْاؕ اِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِيْنَ﴾
হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব পবিত্র বস্তুকে হালাল করে দিয়েছেন, সেগুলোকে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা মায়েদা- ৮৭)