১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৮
অধ্যায়- ৬ হালাল উপার্জনের ক্ষেত্রসমূহ
হালাল উপার্জনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের উপায় আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জন্য তৈরি করে রেখেছেন। এসব উপায়সমূহের মধ্যে যেকোন একটি উপায় অবলম্বন করে মুমিন বান্দা তার উপার্জনের ব্যবস্থা করে নিতে পারে। যুগে যুগে নবী-রাসূল ও সৎ ব্যক্তিগণ হালাল উপার্জনের জন্য নানা রকম পেশা গ্রহণ করেছেন। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، أَنَّه قَالَ لِرَجُلٍ جَالِسٍ عِنْدَه .. فَأُحَدِّثُكَ عَنِ الْأَنْبِيَاءِ الْمَذْكُوْرِيْنَ فِيْ كِتَابِ اللهِ أُحَدِّثُكَ عَنْ اٰدَمَ إِنَّه كَانَ عَبْدًا حَرَّاثًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ نُوْحٍ إِنَّه كَانَ عَبْدًا نَجَّارًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ إِدْرِيْسَ إِنَّه كَانَ عَبْدًا خَيَّاطًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ دَاوُدَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا زَرَّادًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ مُوْسٰى أَنَّه كَانَ عَبْدًا رَاعِيًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا زَرَّاعًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ صَالِحٍ أَنَّه كَانَ عَبْدًا تَاجِرًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ سُلَيْمَانَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا اٰتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَكَانَ يَصُوْمُ فِيْ أَوَّلِ الشَّهْرِ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَفِيْ وَسَطِه ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَفِيْ اٰخِرِه ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَكَانَتْ لَه تِسْعُ مِائَةِ سَرِيَّةٍ ، وَثَلَاثُ مِائَةِ فِهْرِيَّةٍ وَأُحَدِّثُكَ عَنِ ابْنِ الْعَذْرَاءِ الْبَتُوْلِ عِيْسَى ابْنِ مَرْيَمَ أَنَّه كَانَ لَا يَخْبَأُ شَيْئًا لِغَدٍ وَيَقُوْلُ : الَّذِيْ غَدَّانِيْ سَوْفَ يُعَشِّيْنِيْ وَالَّذِيْ عَشَّانِيْ سَوْفَ يُغَدِّيْنِيْ ، يَعْبُدُ اللهَ لَيْلَةً كُلَّهَا يُصَلِّيْ حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَهُوَ بِالنَّهَارِ سَائِحٌ ، وَيَصُوْمُ الدَّهْرَ كُلَّه ، وَيَقُوْمُ اللَّيْلَ كُلَّه ، وَأُحَدِّثُكَ عَنِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفٰى أَنَّه كَانَ يَرْعٰى غَنْمَ أَهْلِ بَيْتِه بِأَجْيَادَ ، وَكَانَ يَصُوْمُ فَنَقُوْلُ : لَا يُفْطِرُ ، وَيُفْطِرُ فَنَقُوْلُ : لَا يَصُوْمُ ، وَكُلُّهَا مَا رَأَيْنَاهُ صَائِمًا وَيَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ، وَكَانَ أَلْيَنَ النَّاسِ جَنَاحًا وَأَطْيَبَهُمْ خَبَرًا، وَأَطْوَلَهُمْ عِلْمًا، وَأُخْبِرُكَ عَنْ حَوَّاءَ أَنَّهَا كَانَتْ تَغْزِلُ الشَّعْرَ فَتُحَوِّلُه بِيَدِهَا فَتَكْسُوْ نَفْسَهَا وَوَلَدَهَا ، وَأَنَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ كَانَتْ تَصْنَعُ ذٰلِكَ
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার নিকট বসা এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি আমার কাছে আসো। আমি তোমাকে আল্লাহর কিতাবে উল্লেখিত নবীদের ব্যাপারে বর্ণনা করব।
১. আমি তোমাকে আদম (আঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করছি। তিনি কৃষক ছিলেন।
২. নূহ (আঃ) কাঠমিস্ত্রী বা ছুতোর কাজ করতেন।
৩. ইদরীস (আঃ) দর্জির কাজ করতেন।
৪. দাউদ (আঃ) কামারের কাজ করতেন।
৫. মূসা (আঃ) ছাগল চরাতেন।
৬. ইবরাহীম (আঃ) চাষাবাদ করতেন।
৭. সালেহ (আঃ) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।
৮. সুলায়মান (আঃ) আল্লাহর এমন এক বান্দা ছিলেন, যাকে আল্লাহ বিশাল রাজত্ব দান করেছিলেন। তিনি মাসের প্রথম দিকে ছয় দিন রোযা রাখতেন। আবার মাসের মধ্যখানে তিন দিন এবং শেষেও তিন দিন রোযা রাখতেন।
৯. ঈসা (আঃ) আগামীকালের জন্য কোন কিছু গচ্ছিত রাখতেন না। তিনি বলতেন, যিনি আমাকে সকালে আহার করিয়েছেন তিনি সন্ধ্যায় আহার করাবেন। আর যিনি সন্ধ্যায় আহার করাবেন তিনি আগামী দিনেও আহার করাবেন। তিনি কোন কোন রাত্রে সারা রাত ইবাদাত করতেন এবং দিনে রোযা রাখতেন।
১০. শেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ বকরি চরাতেন। তিনি এমনভাবে রোযা রাখতেন যে- আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা ভাঙবেন না। আবার এমনভাবে রোযা ছেড়ে দিতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা রাখবেন না। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন। তিনি মানুষের সাথে অত্যমত্ম সুন্দর এবং নম্র আচরণ করতেন। আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী।
১১. হাওয়া (আঃ) সুতা কাটার কাজ করতেন এবং নিজ হাতে তা বুনতেন; অতঃপর তা নিজে পরতেন এবং নিজের সমত্মানদেরকে পরাতেন। আর মারইয়াম (আঃ)-ও তাই করতেন। [মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৪১৬৫।]
এছাড়া এমন কোন নবী নেই যিনি তার জীবনে রাখালের কাজ করেননি। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এসব নবী-রাসূল ও সৎ ব্যক্তিগণ যেসব পেশায় কাজ করে গেছেন সেগুলো হালাল ছিল।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، أَنَّه قَالَ لِرَجُلٍ جَالِسٍ عِنْدَه .. فَأُحَدِّثُكَ عَنِ الْأَنْبِيَاءِ الْمَذْكُوْرِيْنَ فِيْ كِتَابِ اللهِ أُحَدِّثُكَ عَنْ اٰدَمَ إِنَّه كَانَ عَبْدًا حَرَّاثًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ نُوْحٍ إِنَّه كَانَ عَبْدًا نَجَّارًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ إِدْرِيْسَ إِنَّه كَانَ عَبْدًا خَيَّاطًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ دَاوُدَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا زَرَّادًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ مُوْسٰى أَنَّه كَانَ عَبْدًا رَاعِيًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ إِبْرَاهِيْمَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا زَرَّاعًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ صَالِحٍ أَنَّه كَانَ عَبْدًا تَاجِرًا ، وَأُحَدِّثُكَ عَنْ سُلَيْمَانَ أَنَّه كَانَ عَبْدًا اٰتَاهُ اللهُ الْمُلْكَ وَكَانَ يَصُوْمُ فِيْ أَوَّلِ الشَّهْرِ سِتَّةَ أَيَّامٍ وَفِيْ وَسَطِه ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَفِيْ اٰخِرِه ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَكَانَتْ لَه تِسْعُ مِائَةِ سَرِيَّةٍ ، وَثَلَاثُ مِائَةِ فِهْرِيَّةٍ وَأُحَدِّثُكَ عَنِ ابْنِ الْعَذْرَاءِ الْبَتُوْلِ عِيْسَى ابْنِ مَرْيَمَ أَنَّه كَانَ لَا يَخْبَأُ شَيْئًا لِغَدٍ وَيَقُوْلُ : الَّذِيْ غَدَّانِيْ سَوْفَ يُعَشِّيْنِيْ وَالَّذِيْ عَشَّانِيْ سَوْفَ يُغَدِّيْنِيْ ، يَعْبُدُ اللهَ لَيْلَةً كُلَّهَا يُصَلِّيْ حَتّٰى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَهُوَ بِالنَّهَارِ سَائِحٌ ، وَيَصُوْمُ الدَّهْرَ كُلَّه ، وَيَقُوْمُ اللَّيْلَ كُلَّه ، وَأُحَدِّثُكَ عَنِ النَّبِيِّ الْمُصْطَفٰى أَنَّه كَانَ يَرْعٰى غَنْمَ أَهْلِ بَيْتِه بِأَجْيَادَ ، وَكَانَ يَصُوْمُ فَنَقُوْلُ : لَا يُفْطِرُ ، وَيُفْطِرُ فَنَقُوْلُ : لَا يَصُوْمُ ، وَكُلُّهَا مَا رَأَيْنَاهُ صَائِمًا وَيَصُوْمُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ، وَكَانَ أَلْيَنَ النَّاسِ جَنَاحًا وَأَطْيَبَهُمْ خَبَرًا، وَأَطْوَلَهُمْ عِلْمًا، وَأُخْبِرُكَ عَنْ حَوَّاءَ أَنَّهَا كَانَتْ تَغْزِلُ الشَّعْرَ فَتُحَوِّلُه بِيَدِهَا فَتَكْسُوْ نَفْسَهَا وَوَلَدَهَا ، وَأَنَّ مَرْيَمَ بِنْتَ عِمْرَانَ كَانَتْ تَصْنَعُ ذٰلِكَ
আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার নিকট বসা এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি আমার কাছে আসো। আমি তোমাকে আল্লাহর কিতাবে উল্লেখিত নবীদের ব্যাপারে বর্ণনা করব।
১. আমি তোমাকে আদম (আঃ) সম্পর্কে বর্ণনা করছি। তিনি কৃষক ছিলেন।
২. নূহ (আঃ) কাঠমিস্ত্রী বা ছুতোর কাজ করতেন।
৩. ইদরীস (আঃ) দর্জির কাজ করতেন।
৪. দাউদ (আঃ) কামারের কাজ করতেন।
৫. মূসা (আঃ) ছাগল চরাতেন।
৬. ইবরাহীম (আঃ) চাষাবাদ করতেন।
৭. সালেহ (আঃ) ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন।
৮. সুলায়মান (আঃ) আল্লাহর এমন এক বান্দা ছিলেন, যাকে আল্লাহ বিশাল রাজত্ব দান করেছিলেন। তিনি মাসের প্রথম দিকে ছয় দিন রোযা রাখতেন। আবার মাসের মধ্যখানে তিন দিন এবং শেষেও তিন দিন রোযা রাখতেন।
৯. ঈসা (আঃ) আগামীকালের জন্য কোন কিছু গচ্ছিত রাখতেন না। তিনি বলতেন, যিনি আমাকে সকালে আহার করিয়েছেন তিনি সন্ধ্যায় আহার করাবেন। আর যিনি সন্ধ্যায় আহার করাবেন তিনি আগামী দিনেও আহার করাবেন। তিনি কোন কোন রাত্রে সারা রাত ইবাদাত করতেন এবং দিনে রোযা রাখতেন।
১০. শেষ নবী মুহাম্মাদ ﷺ বকরি চরাতেন। তিনি এমনভাবে রোযা রাখতেন যে- আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা ভাঙবেন না। আবার এমনভাবে রোযা ছেড়ে দিতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা রাখবেন না। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন। তিনি মানুষের সাথে অত্যমত্ম সুন্দর এবং নম্র আচরণ করতেন। আর তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী।
১১. হাওয়া (আঃ) সুতা কাটার কাজ করতেন এবং নিজ হাতে তা বুনতেন; অতঃপর তা নিজে পরতেন এবং নিজের সমত্মানদেরকে পরাতেন। আর মারইয়াম (আঃ)-ও তাই করতেন। [মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/৪১৬৫।]
এছাড়া এমন কোন নবী নেই যিনি তার জীবনে রাখালের কাজ করেননি। আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এসব নবী-রাসূল ও সৎ ব্যক্তিগণ যেসব পেশায় কাজ করে গেছেন সেগুলো হালাল ছিল।