১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮১
২. শিল্পকর্ম
ইসলাম চাষাবাদের পাশাপাশি শিল্পকর্মের জন্য অনুমোদন প্রদান করেছে; এমনকি অনেক নবী ও রাসূলও এ কর্ম সম্পাদন করে গেছেন। যেমন- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوْسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِّنْ ۢبَأْسِكُمْ﴾
আমি তাকে [দাউদ (আঃ)-কে] বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। (সূরা আম্বিয়া- ৮০)
তবে এ পেশা হালাল হওয়ার জন্য কতিপয় বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই জরুরি। যেমন-
১. পণ্যটি বৈধ হতে হবে :
যে পণ্যটির দ্বারা শিল্পকর্ম করা হবে, সেটি অবশ্যই বৈধ ও পবিত্র হতে হবে। ইসলাম যেসব জিনিস অপবিত্র ঘোষণা করেছে সেসব জিনিস দ্বারা শিল্পকর্ম করা যাবে না।
২. ছবিমুক্ত হতে হবে :
শিল্পকর্মের মাধ্যমে তৈরি জিনিসটি অবশ্যই প্রাণীর ছবি থেকে মুক্ত হতে হবে। যেসব পণ্য তৈরি করার জন্য বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ব্যবহার করা হয়, সেসব পণ্য তৈরি করা যাবে না। তবে বিভিন্ন জড়বসত্মুর ছবি ব্যবহার করা যাবে।
৩. অশ্লীলতামুক্ত হতে হবে :
যেসব শিল্পকর্ম অশ্লীলতার ভিত্তিতে গড়ে উঠে সেগুলো তৈরি করা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত থাকা একেবারেই নিষিদ্ধ।
৪. মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে মুক্ত থাকা :
ইসলাম মানব জাতিকে ক্ষতিগ্রসত্ম করে এমনসব জিনিস নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং যেসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে মানুষ ক্ষতিগ্রসত্ম হয় সেগুলো তৈরি করা হারাম।
৫. নারী-পুরুষের পৃথক কাজের ব্যবস্থা থাকা :
বর্তমানে অনেক শিল্প কারখানাতে নারী-পুরুষকে একই সাথে কাজ করতে দেখা যায়। এতে নারীদের পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হয়। সুতরাং ইসলাম এ ধরনের ব্যবস্থাকে কখনো বৈধ ঘোষণা করে না।
৬. পারিশ্রমিক প্রদানে গড়িমসি করা যাবে না :
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : قَالَ اللهُ ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَعْطٰى بِيْ ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهٗ وَرَجُلٌ اِسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفٰى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهٗ
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হব। তারা হলো :
১. যে আমার নামে ওয়াদা করে ভঙ্গ করেছে।
২. যে মুক্ত স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করেছে এবং তার বিক্রয়লব্ধ মূল্য ভক্ষণ করেছে।
৩. আর যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ করে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু পারিশ্রমিক প্রদান করেনি। [সহীহ বুখারী, হা/২২২৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৪৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৭৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৭৩৩৯; মিশকাত, হা/২৯৮৪।]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : أَعْطُوا الْأَجِيْرَ أَجْرَهٗ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهٗ
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক তার ঘাম শুকানোর পূর্বেই আদায় করে দিবে। [ইবনে মাজাহ, হা/২৪৪৩; জামেউস সগীর, হা/১৯৩৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৮৭৭; মিশকাত, হা/২৯৮৭।]
﴿وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوْسٍ لَّكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِّنْ ۢبَأْسِكُمْ﴾
আমি তাকে [দাউদ (আঃ)-কে] বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা যুদ্ধে তোমাদেরকে রক্ষা করে। (সূরা আম্বিয়া- ৮০)
তবে এ পেশা হালাল হওয়ার জন্য কতিপয় বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই জরুরি। যেমন-
১. পণ্যটি বৈধ হতে হবে :
যে পণ্যটির দ্বারা শিল্পকর্ম করা হবে, সেটি অবশ্যই বৈধ ও পবিত্র হতে হবে। ইসলাম যেসব জিনিস অপবিত্র ঘোষণা করেছে সেসব জিনিস দ্বারা শিল্পকর্ম করা যাবে না।
২. ছবিমুক্ত হতে হবে :
শিল্পকর্মের মাধ্যমে তৈরি জিনিসটি অবশ্যই প্রাণীর ছবি থেকে মুক্ত হতে হবে। যেসব পণ্য তৈরি করার জন্য বিভিন্ন প্রাণীর ছবি ব্যবহার করা হয়, সেসব পণ্য তৈরি করা যাবে না। তবে বিভিন্ন জড়বসত্মুর ছবি ব্যবহার করা যাবে।
৩. অশ্লীলতামুক্ত হতে হবে :
যেসব শিল্পকর্ম অশ্লীলতার ভিত্তিতে গড়ে উঠে সেগুলো তৈরি করা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত থাকা একেবারেই নিষিদ্ধ।
৪. মানবজাতির জন্য ক্ষতিকর বিষয় থেকে মুক্ত থাকা :
ইসলাম মানব জাতিকে ক্ষতিগ্রসত্ম করে এমনসব জিনিস নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং যেসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে মানুষ ক্ষতিগ্রসত্ম হয় সেগুলো তৈরি করা হারাম।
৫. নারী-পুরুষের পৃথক কাজের ব্যবস্থা থাকা :
বর্তমানে অনেক শিল্প কারখানাতে নারী-পুরুষকে একই সাথে কাজ করতে দেখা যায়। এতে নারীদের পর্দার বিধান লঙ্ঘিত হয়। সুতরাং ইসলাম এ ধরনের ব্যবস্থাকে কখনো বৈধ ঘোষণা করে না।
৬. পারিশ্রমিক প্রদানে গড়িমসি করা যাবে না :
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : قَالَ اللهُ ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ أَعْطٰى بِيْ ثُمَّ غَدَرَ وَرَجُلٌ بَاعَ حُرًّا فَأَكَلَ ثَمَنَهٗ وَرَجُلٌ اِسْتَأْجَرَ أَجِيْرًا فَاسْتَوْفٰى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَهٗ
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হব। তারা হলো :
১. যে আমার নামে ওয়াদা করে ভঙ্গ করেছে।
২. যে মুক্ত স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করেছে এবং তার বিক্রয়লব্ধ মূল্য ভক্ষণ করেছে।
৩. আর যে কাউকে শ্রমিক নিয়োগ করে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করে নিয়েছে, কিন্তু পারিশ্রমিক প্রদান করেনি। [সহীহ বুখারী, হা/২২২৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৪৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৭৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৭৩৩৯; মিশকাত, হা/২৯৮৪।]
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : أَعْطُوا الْأَجِيْرَ أَجْرَهٗ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهٗ
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, শ্রমিককে তার পারিশ্রমিক তার ঘাম শুকানোর পূর্বেই আদায় করে দিবে। [ইবনে মাজাহ, হা/২৪৪৩; জামেউস সগীর, হা/১৯৩৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৮৭৭; মিশকাত, হা/২৯৮৭।]