১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৫
খিয়ানতের মাধ্যমে উপার্জন
আমানত শব্দটি اَلْاَمْنُ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো, নিরাপত্তা লাভ করা, বিশ্বাস করা ইত্যাদি। আর আমানতের বিপরীত হচ্ছে খিয়ানত। এর অর্থ হচ্ছে, ক্ষতি করা, বিশ্বাসঘাতকতা করা। কাউকে বিশ্বাস করে তার কাছে কোন কিছু গচ্ছিত রাখা হচ্ছে আমানত। আমানত এমন যাবতীয় চুক্তি, প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত, যা মানুষ ও আল্লাহর মধ্যে অথবা মানুষ ও মানুষের মধ্যে কিংবা জাতি ও জাতির মধ্যে সম্পাদিত হয়ে থাকে। এটা সংরক্ষণ করা ওয়াজিব। আমানত সংরক্ষণ না করাই হচ্ছে খিয়ানত। এটা কবীরা গোনাহের অমত্মর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَخُوْنُوا اللهَ وَالرَّسُوْلَ وَتَخُوْنُوْاۤ اَمَانَاتِكُمْ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (সূরা আনফাল- ২৭)
অপর আয়াতে তিনি বলেন,
﴿ وَمَنْ يَّغْلُلْ يَاْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِۚ ثُمَّ تُوَفّٰى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ﴾
যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করেছে, সে যা আত্মসাৎ করেছে তা নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে; অনন্তর প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে এবং তারা নির্যাতিত হবে না। (সূরা আলে ইমরান- ১৬১)
হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ --: أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلٰى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমার কাছে যে আমানত রেখেছে, তা তাকে প্রত্যার্পণ করো এবং যে তোমার খিয়ানত করেছে, তুমি তার খিয়ানত করো না। [আবু দাউদ, হা/৩৫৩৭; তিরমিযী, হা/১২৬৪; দার কুতনী, হা/২৯৩৬; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২২৯২; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৭৫৯; মুসনাদে দারেমী, হা/২৬৩৯; জামেউস সগীর, হা/২৪০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪২৩; মিশকাত, হা/২৯৩৪।]
অতএব যে ব্যক্তি আমানতের খিয়ানত করে সে অনেকগুলো পাপের মধ্যে জড়িয়ে যায়। সুতরাং এর মাধ্যমে সকল প্রকার উপার্জন হারাম হিসেবে সাব্যসত্ম হবে। নিম্নে বর্তমান সমাজে প্রচলিত কিছু আমানতের খিয়ানতের চিত্র তুলে ধরা হলো :
জনসাধারণের নামে সরকারি অনুদান নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক আত্মসাৎ করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতিতে আক্রামত্ম এলাকায় সরকারি অনুদান এলে তা হতে এমন বহু লোক আছে যারা ঐ অনুদান আত্মসাৎ করে, অথচ তারা তার হকদার নয়। রাসত্মা, ব্রিজ ইত্যাদি নির্মাণের জন্য যে টাকা সরকারের কোষাগার থেকে আসে, তার অনেকটাই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা কুক্ষিগত করে।
কোন জন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান (মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, বায়তুল মাল প্রভৃতি) এর ক্যাশিয়ার বা কোষাধ্যক্ষ হয়ে তহবিল আত্মসাৎ করা।
মালিকের বিনা অনুমতিতে বেতনভুক্ত কর্মচারী কর্তৃক দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস খাওয়া বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো।
মালিক কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মাল বিক্রি করে বাড়তি টাকা মেরে দেয়া।
বেতনভুক্ত কর্মচারীর নিজে অতিরিক্ত মাল গোপনে রেখে ব্যবসা করা আর মালিকের মাল বিক্রয় না করা।
দর্জি কর্তৃক মাপ নেয়ার সময় মাপ বেশি ধরে কাপড় চুরি করা।
স্বর্ণকার কর্তৃক সোনা-রূপা থেকে কিছু অংশ চুরি করা এবং তার জায়গায় খাদ ভরে দিয়ে ওজন পূর্ণ করা।
কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের মালিক জানা সত্ত্বেও গোপন করে তা ভক্ষণ করা।
ভাগ চাষের ভাগ ঠিকমতো না দেয়া।
মালিকের গাড়ির ভাড়া গোপন করে ভক্ষণ করা।
পার্টনারশিপ ব্যবসায় পার্টনারের টাকা গোপন করে ঠিকমতো ভাগ না দেয়া এবং নিজে বেশি নিয়ে তা খাওয়া।
চাকুরির স্থলে কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করা, গাফলতি করা।
আমানতস্বরূপ রাখা টাকা ব্যবসায় খাটিয়ে লাভ ভোগ করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মুতাওয়াল্লী, সেক্রেটারী, ক্যাশিয়ার প্রভৃতি যারা টাকা-পয়সার দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাদের কর্তৃক ঐ ফান্ড বা মাল থেকে নিজের কাজে লাগানো।
নকল দলীল, সার্টিফিকেট, ভাউচার প্রভৃতি বানিয়ে জালিয়াতি করে অর্থ উপার্জন করা।
দলীল নকল করে জায়গা-জমি জবরদখল করা।
প্রতিষ্ঠানের বা মালিকের মাল কিনতে গিয়ে কম টাকা দিয়ে ক্রয় করে রশিদে বেশি লেখিয়ে বাকি টাকা নিজে ভোগ করা হারাম।
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَخُوْنُوا اللهَ وَالرَّسُوْلَ وَتَخُوْنُوْاۤ اَمَانَاتِكُمْ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং তোমাদের পরস্পরের আমানত সম্পর্কেও বিশ্বাসঘাতকতা করো না। (সূরা আনফাল- ২৭)
অপর আয়াতে তিনি বলেন,
﴿ وَمَنْ يَّغْلُلْ يَاْتِ بِمَا غَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِۚ ثُمَّ تُوَفّٰى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ﴾
যে ব্যক্তি আত্মসাৎ করেছে, সে যা আত্মসাৎ করেছে তা নিয়ে কিয়ামতের দিন হাজির হবে; অনন্তর প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা পূর্ণরূপে প্রদত্ত হবে এবং তারা নির্যাতিত হবে না। (সূরা আলে ইমরান- ১৬১)
হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ --: أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلٰى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমার কাছে যে আমানত রেখেছে, তা তাকে প্রত্যার্পণ করো এবং যে তোমার খিয়ানত করেছে, তুমি তার খিয়ানত করো না। [আবু দাউদ, হা/৩৫৩৭; তিরমিযী, হা/১২৬৪; দার কুতনী, হা/২৯৩৬; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২২৯২; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৭৫৯; মুসনাদে দারেমী, হা/২৬৩৯; জামেউস সগীর, হা/২৪০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৪২৩; মিশকাত, হা/২৯৩৪।]
অতএব যে ব্যক্তি আমানতের খিয়ানত করে সে অনেকগুলো পাপের মধ্যে জড়িয়ে যায়। সুতরাং এর মাধ্যমে সকল প্রকার উপার্জন হারাম হিসেবে সাব্যসত্ম হবে। নিম্নে বর্তমান সমাজে প্রচলিত কিছু আমানতের খিয়ানতের চিত্র তুলে ধরা হলো :
জনসাধারণের নামে সরকারি অনুদান নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক আত্মসাৎ করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতিতে আক্রামত্ম এলাকায় সরকারি অনুদান এলে তা হতে এমন বহু লোক আছে যারা ঐ অনুদান আত্মসাৎ করে, অথচ তারা তার হকদার নয়। রাসত্মা, ব্রিজ ইত্যাদি নির্মাণের জন্য যে টাকা সরকারের কোষাগার থেকে আসে, তার অনেকটাই নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা কুক্ষিগত করে।
কোন জন কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান (মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, বায়তুল মাল প্রভৃতি) এর ক্যাশিয়ার বা কোষাধ্যক্ষ হয়ে তহবিল আত্মসাৎ করা।
মালিকের বিনা অনুমতিতে বেতনভুক্ত কর্মচারী কর্তৃক দোকান থেকে বিভিন্ন জিনিস খাওয়া বা বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো।
মালিক কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে মাল বিক্রি করে বাড়তি টাকা মেরে দেয়া।
বেতনভুক্ত কর্মচারীর নিজে অতিরিক্ত মাল গোপনে রেখে ব্যবসা করা আর মালিকের মাল বিক্রয় না করা।
দর্জি কর্তৃক মাপ নেয়ার সময় মাপ বেশি ধরে কাপড় চুরি করা।
স্বর্ণকার কর্তৃক সোনা-রূপা থেকে কিছু অংশ চুরি করা এবং তার জায়গায় খাদ ভরে দিয়ে ওজন পূর্ণ করা।
কুড়িয়ে পাওয়া জিনিসের মালিক জানা সত্ত্বেও গোপন করে তা ভক্ষণ করা।
ভাগ চাষের ভাগ ঠিকমতো না দেয়া।
মালিকের গাড়ির ভাড়া গোপন করে ভক্ষণ করা।
পার্টনারশিপ ব্যবসায় পার্টনারের টাকা গোপন করে ঠিকমতো ভাগ না দেয়া এবং নিজে বেশি নিয়ে তা খাওয়া।
চাকুরির স্থলে কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করা, গাফলতি করা।
আমানতস্বরূপ রাখা টাকা ব্যবসায় খাটিয়ে লাভ ভোগ করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মুতাওয়াল্লী, সেক্রেটারী, ক্যাশিয়ার প্রভৃতি যারা টাকা-পয়সার দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাদের কর্তৃক ঐ ফান্ড বা মাল থেকে নিজের কাজে লাগানো।
নকল দলীল, সার্টিফিকেট, ভাউচার প্রভৃতি বানিয়ে জালিয়াতি করে অর্থ উপার্জন করা।
দলীল নকল করে জায়গা-জমি জবরদখল করা।
প্রতিষ্ঠানের বা মালিকের মাল কিনতে গিয়ে কম টাকা দিয়ে ক্রয় করে রশিদে বেশি লেখিয়ে বাকি টাকা নিজে ভোগ করা হারাম।