১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
শিকারকৃত প্রাণীর হুকুম
সাধারণত যেসব প্রাণী আকাশে বা বনে বসবাস করে সেগুলোক অন্যান্য প্রাণীর মতো ধরে যবেহ করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই সেসব প্রাণীকে শিকার করতে হয়। ইসলাম এসব শিকারকৃত প্রাণীকে খাওয়ার বৈধতা দিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন-
১. শিকারকৃত প্রাণী জীবিত নিয়ে আসা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবে যবেহ করার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে।
২. কোন প্রাণী দিয়ে শিকার করতে হলে সে প্রাণীকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।
৩. প্রাণী যদি নিজের জন্য শিকার করে তাহলে সেটা খাওয়া যাবে না; কিন্তু যদি মালিকের জন্য শিকার করে আনে তাহলে সেটা খাওয়া যাবে। আর এটা এভাবে বুঝে নিতে হবে যে, যদি শিকারী প্রাণীটি শিকারকৃত প্রাণী থেকে কোন কিছু না খায়, তাহলে সেটা মালিকের জন্য। কিন্তু যদি শিকারী প্রাণীটি শিকারকৃত প্রাণী থেকে কোন কিছু খেয়ে নেয়, তাহলে সেটা তার নিজের জন্য।
৪. শিকারী প্রাণী প্রেরণ করার সময় আল্লাহর নাম নিতে হবে তথা বিসমিল্লাহ বলতে হবে।
৫. শিকার করার জন্য তীর অথবা বন্দুক ব্যবহার করলে তীর অথবা গুলি ছুড়ার সময়ও আল্লাহর নাম নিতে হবে।
৬. শিকারের জন্য এমন অস্ত্র অথবা মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে, যা দ্বারা রক্ত প্রবাহিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَسْأَلُوْنَكَ مَاذَاۤ أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِّنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِيْنَ تُعَلِّمُوْنَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ فَكُلُوْا مِمَّاۤ أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ سَرِيْعُ الْحِسَابِ﴾
লোকেরা তোমাকে প্রশ্ন করে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে? বলো, সমস্ত ভালো জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিক্ষা দিয়েছ যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, তারা যা তোমাদের জন্য ধরে আনে তা ভক্ষণ করবে এবং এতে আল্লাহর নাম নিবে আর আল্লাহকে ভয় করবে; নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর। (সূরা মায়েদা- ৪)
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَأَمْسَكَ وَقَتَلَ فَكُلْ وَإِنْ أَكَلَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلٰى نَفْسِه وَإِذَا خَالَطَ كِلَابًا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهَا فَأَمْسَكْنَ وَقَتَلْنَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِيْ أَيُّهَا قَتَلَ وَإِنْ رَمَيْتَ الصَّيْدَ فَوَجَدْتَه بَعْدَ يَوْمٍ ، أَوْ يَوْمَيْنِ لَيْسَ بِه إِلَّا أَثَرُ سَهْمِكَ فَكُلْ وَإِنْ وَقَعَ فِي الْمَاءِ فَلَا تَأْكُلْ .
আদী ইবনে হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, যখন তুমি তোমার কুকুরকে প্রেরণ করবে এবং বিসমিল্লাহ বলবে, অতঃপর তোমার জন্য নিয়ে আসবে, তুমি তা থেকে খাও। আর যদি সে খেয়ে ফেলে তবে খেয়ো না। আর যদি তার সাথে এমন কুকুর মিশে যায়, যার উপর বিসমিল্লাহ বলা হয়নি। অতঃপর তোমার জন্য কোন কিছু হত্যা করে নিয়ে আসে, তবে তুমি তা আহার করো না। কেননা তুমি জানতে পার না যে, সেটা কোন্টি হত্যা করেছে। আর যদি তুমি কোন শিকারের উপর তীর নিক্ষেপ কর, তারপর এক অথবা দুই দিন পর খুঁজে পাও এবং তার মধ্যে তোমার নিক্ষেপিত তীর ব্যতীত অন্য কোন কিছু না পাও, তাহলে তা খাও; তবে যদি তা পানিতে পড়ে যায়, তাহলে তা খেয়ো না। [সহীহ বুখারী, হা/৫৪৭৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২৮৫; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৪৭৯৫।]
১. শিকারকৃত প্রাণী জীবিত নিয়ে আসা সম্ভব হলে স্বাভাবিকভাবে যবেহ করার মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে।
২. কোন প্রাণী দিয়ে শিকার করতে হলে সে প্রাণীকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে।
৩. প্রাণী যদি নিজের জন্য শিকার করে তাহলে সেটা খাওয়া যাবে না; কিন্তু যদি মালিকের জন্য শিকার করে আনে তাহলে সেটা খাওয়া যাবে। আর এটা এভাবে বুঝে নিতে হবে যে, যদি শিকারী প্রাণীটি শিকারকৃত প্রাণী থেকে কোন কিছু না খায়, তাহলে সেটা মালিকের জন্য। কিন্তু যদি শিকারী প্রাণীটি শিকারকৃত প্রাণী থেকে কোন কিছু খেয়ে নেয়, তাহলে সেটা তার নিজের জন্য।
৪. শিকারী প্রাণী প্রেরণ করার সময় আল্লাহর নাম নিতে হবে তথা বিসমিল্লাহ বলতে হবে।
৫. শিকার করার জন্য তীর অথবা বন্দুক ব্যবহার করলে তীর অথবা গুলি ছুড়ার সময়ও আল্লাহর নাম নিতে হবে।
৬. শিকারের জন্য এমন অস্ত্র অথবা মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে, যা দ্বারা রক্ত প্রবাহিত হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَسْأَلُوْنَكَ مَاذَاۤ أُحِلَّ لَهُمْ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ وَمَا عَلَّمْتُمْ مِّنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِيْنَ تُعَلِّمُوْنَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ فَكُلُوْا مِمَّاۤ أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ وَاتَّقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ سَرِيْعُ الْحِسَابِ﴾
লোকেরা তোমাকে প্রশ্ন করে, তাদের জন্য কী কী হালাল করা হয়েছে? বলো, সমস্ত ভালো জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে এবং শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিক্ষা দিয়েছ যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, তারা যা তোমাদের জন্য ধরে আনে তা ভক্ষণ করবে এবং এতে আল্লাহর নাম নিবে আর আল্লাহকে ভয় করবে; নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত তৎপর। (সূরা মায়েদা- ৪)
عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ : إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ وَسَمَّيْتَ فَأَمْسَكَ وَقَتَلَ فَكُلْ وَإِنْ أَكَلَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّمَا أَمْسَكَ عَلٰى نَفْسِه وَإِذَا خَالَطَ كِلَابًا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللهِ عَلَيْهَا فَأَمْسَكْنَ وَقَتَلْنَ فَلَا تَأْكُلْ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِيْ أَيُّهَا قَتَلَ وَإِنْ رَمَيْتَ الصَّيْدَ فَوَجَدْتَه بَعْدَ يَوْمٍ ، أَوْ يَوْمَيْنِ لَيْسَ بِه إِلَّا أَثَرُ سَهْمِكَ فَكُلْ وَإِنْ وَقَعَ فِي الْمَاءِ فَلَا تَأْكُلْ .
আদী ইবনে হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, যখন তুমি তোমার কুকুরকে প্রেরণ করবে এবং বিসমিল্লাহ বলবে, অতঃপর তোমার জন্য নিয়ে আসবে, তুমি তা থেকে খাও। আর যদি সে খেয়ে ফেলে তবে খেয়ো না। আর যদি তার সাথে এমন কুকুর মিশে যায়, যার উপর বিসমিল্লাহ বলা হয়নি। অতঃপর তোমার জন্য কোন কিছু হত্যা করে নিয়ে আসে, তবে তুমি তা আহার করো না। কেননা তুমি জানতে পার না যে, সেটা কোন্টি হত্যা করেছে। আর যদি তুমি কোন শিকারের উপর তীর নিক্ষেপ কর, তারপর এক অথবা দুই দিন পর খুঁজে পাও এবং তার মধ্যে তোমার নিক্ষেপিত তীর ব্যতীত অন্য কোন কিছু না পাও, তাহলে তা খাও; তবে যদি তা পানিতে পড়ে যায়, তাহলে তা খেয়ো না। [সহীহ বুখারী, হা/৫৪৭৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২৮৫; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৪৭৯৫।]