১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭৪
শেয়ার ব্যবসার বিধান
শেয়ার শব্দের অর্থ হচ্ছে শরীক হওয়া, অংশীদার হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং যেসব ব্যবসায় দুই বা ততোধিক পক্ষ অংশীদার থাকে, সেসব ব্যবসাকে শেয়ার ব্যবসা বলা হয়।
শেয়ার ব্যবসার ক্ষেত্রে শর্তসমূহ :
ইসলামে শেয়ার ব্যবসার জন্য পৃথকভাবে কোন শর্ত না থাকলেও ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যাবতীয় শর্তসমূহ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এ ধরনের ব্যবসা ঐসব শর্তসমূহ দিয়েই পরিচালিত হবে। যেমন-
১. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির মূল পণ্য হালাল হতে হবে। সুতরাং যেসব পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ, সেসব পণ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
২. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির যাবতীয় লেনদেন বৈধ হতে হবে। অর্থাৎ যেসব কম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না, সেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
৩. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সত্যিকার অর্থেই সেসব কম্পানির অসিত্মত্ব থাকতে হবে। সুতরাং যেসব কম্পানির কোন অসিত্মত্ব তথা বাসত্মবে কোন কম্পানি নেই কিন্তু টাকা-পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রে এর অসিত্মত্ব বিদ্যমান সেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
৪. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির পুঁজি বৈধ হতে হবে। সুতরাং সেসব কম্পানির মূল পুঁজি যদি সুদের ভিত্তিতে গড়ে উঠে, তাহলে সেসব কম্পানির শেয়ারও ক্রয় করা যাবে না।
৫. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির লেনদেন সুদমুক্ত কি না সেটা নিশ্চিত হতে হবে। যেসব কম্পানির সুদমুক্ত হওয়ার বিষয়টি সন্দেহ থাকে, সেসব কম্পানির শেয়ারও ক্রয় করা যাবে না।
৬. শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতিও বৈধ হতে হবে। যেসব শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামিক নীতি অনুসরণ করা হয় না, সেসব শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ নয়।
৭. ক্রয়-বিক্রয়ের সাধারণ নিয়ম হলো উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে এক পক্ষ প্রসত্মাব দিবে এবং অপর পক্ষ সম্মতি দিবে। সুতরাং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
৮. বিক্রীত শেয়ার পরিপূর্ণভাবে হসত্মামত্মরযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ ক্রয়কৃত শেয়ারে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
প্রচলিত শেয়ার ব্যবসা ও তার হুকুম :
এ কথা সুস্পষ্ট যে, বর্তমানে আমরা যেটাকে শেয়ার ব্যবসা বলে জানি, তাতে ইসলামের নীতি অনুসরণ করা হয় না। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো :
১. বর্তমানে যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ কম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না।
২. বর্তমানে শেয়ার বাজারে অনেক কম্পানি এমন রয়েছে, যেগুলোর মূলত কোন অসিত্মত্বই নেই। সেগুলোর অসিত্মত্ব কেবল টাকা-পয়সার উপরই বিদ্যমান। যার কারণে এটি একধরনের প্রতারণা। অথচ ইসলামে প্রতারণা করা কঠোরভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
৩. বর্তমানে শেয়ার বাজারের অধিকাংশ কম্পানিই সুদী কারবারের সাথে জড়িত।
৪. বর্তমানে যেসব পদ্ধতিতে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় সেটা ইসলামী ক্রয়-বিক্রয়ের নীতি অনুযায়ী অনুমোদিত নয়। কেননা এসব ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বিদ্যমান থাকে না। সুতরাং এতে ক্রয়-বিক্রয়ের সরাসরি প্রসত্মাব ও গ্রহণনীতিরও অনুসরণ করা হয় না।
৫. বর্তমানে যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয় সেগুলোর অধিকাংশের পুঁজিও হালাল নয়।
তাই ইসলাম শেয়ার ব্যবসার অনুমোদন দিলেও বর্তমানে যেসব পদ্ধতিতে শেয়ার ব্যবসা সংঘটিত হচ্ছে সেগুলো শরীয়ত সম্মত নয়।
শেয়ার ব্যবসার ক্ষেত্রে শর্তসমূহ :
ইসলামে শেয়ার ব্যবসার জন্য পৃথকভাবে কোন শর্ত না থাকলেও ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের যাবতীয় শর্তসমূহ এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এ ধরনের ব্যবসা ঐসব শর্তসমূহ দিয়েই পরিচালিত হবে। যেমন-
১. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির মূল পণ্য হালাল হতে হবে। সুতরাং যেসব পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা ইসলামে নিষিদ্ধ, সেসব পণ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
২. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির যাবতীয় লেনদেন বৈধ হতে হবে। অর্থাৎ যেসব কম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না, সেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
৩. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সত্যিকার অর্থেই সেসব কম্পানির অসিত্মত্ব থাকতে হবে। সুতরাং যেসব কম্পানির কোন অসিত্মত্ব তথা বাসত্মবে কোন কম্পানি নেই কিন্তু টাকা-পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রে এর অসিত্মত্ব বিদ্যমান সেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করা যাবে না।
৪. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির পুঁজি বৈধ হতে হবে। সুতরাং সেসব কম্পানির মূল পুঁজি যদি সুদের ভিত্তিতে গড়ে উঠে, তাহলে সেসব কম্পানির শেয়ারও ক্রয় করা যাবে না।
৫. যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয় করবে, সেসব কম্পানির লেনদেন সুদমুক্ত কি না সেটা নিশ্চিত হতে হবে। যেসব কম্পানির সুদমুক্ত হওয়ার বিষয়টি সন্দেহ থাকে, সেসব কম্পানির শেয়ারও ক্রয় করা যাবে না।
৬. শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের পদ্ধতিও বৈধ হতে হবে। যেসব শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ইসলামিক নীতি অনুসরণ করা হয় না, সেসব শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা বৈধ নয়।
৭. ক্রয়-বিক্রয়ের সাধারণ নিয়ম হলো উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে এক পক্ষ প্রসত্মাব দিবে এবং অপর পক্ষ সম্মতি দিবে। সুতরাং শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ উপস্থিত থেকে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।
৮. বিক্রীত শেয়ার পরিপূর্ণভাবে হসত্মামত্মরযোগ্য হতে হবে। অর্থাৎ ক্রয়কৃত শেয়ারে ব্যক্তির পূর্ণ স্বাধীনতা থাকতে হবে।
প্রচলিত শেয়ার ব্যবসা ও তার হুকুম :
এ কথা সুস্পষ্ট যে, বর্তমানে আমরা যেটাকে শেয়ার ব্যবসা বলে জানি, তাতে ইসলামের নীতি অনুসরণ করা হয় না। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো :
১. বর্তমানে যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশ কম্পানির লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না।
২. বর্তমানে শেয়ার বাজারে অনেক কম্পানি এমন রয়েছে, যেগুলোর মূলত কোন অসিত্মত্বই নেই। সেগুলোর অসিত্মত্ব কেবল টাকা-পয়সার উপরই বিদ্যমান। যার কারণে এটি একধরনের প্রতারণা। অথচ ইসলামে প্রতারণা করা কঠোরভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে।
৩. বর্তমানে শেয়ার বাজারের অধিকাংশ কম্পানিই সুদী কারবারের সাথে জড়িত।
৪. বর্তমানে যেসব পদ্ধতিতে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হয় সেটা ইসলামী ক্রয়-বিক্রয়ের নীতি অনুযায়ী অনুমোদিত নয়। কেননা এসব ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি বিদ্যমান থাকে না। সুতরাং এতে ক্রয়-বিক্রয়ের সরাসরি প্রসত্মাব ও গ্রহণনীতিরও অনুসরণ করা হয় না।
৫. বর্তমানে যেসব কম্পানির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা হয় সেগুলোর অধিকাংশের পুঁজিও হালাল নয়।
তাই ইসলাম শেয়ার ব্যবসার অনুমোদন দিলেও বর্তমানে যেসব পদ্ধতিতে শেয়ার ব্যবসা সংঘটিত হচ্ছে সেগুলো শরীয়ত সম্মত নয়।