hadith book logo

হালাল রিযিকের সন্ধানে

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫১

ঘুষ গ্রহণ করার মাধ্যমে উপার্জন

কারো পক্ষে রায় প্রদানের জন্য কিংবা কোন স্বার্থ হাসিল করার জন্য যা গ্রহণ করা হয় এবং প্রদান করা হয় তা হচ্ছে ঘুষ। ইসলাম এটাকে হারাম ঘোষণা করেছে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে,

﴿وَلَا تَاْكُلُوْاۤ اَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوْا بِهَاۤ اِلَى الْحُكَّامِ لِتَاْكُلُوْا فَرِيْقًا مِّنْ اَمْوَالِ النَّاسِ بِالْاِثْمِ وَاَنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ﴾

তোমরা একে অপরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং তা বিচারকের নিকট এজন্য উপস্থাপন করো না, যাতে তোমরা জেনে-বুঝে অন্যায়ভাবে মানুষের মালের কিছু অংশ খেতে পার। (সূরা বাক্বারা- ১৮৮)

হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ لَعَنَ رَسُوْلُ اللهِ - - الرَّاشِىَ وَالْمُرْتَشِىَ

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই অভিশাপ করেছেন। [আবু দাউদ, হা/৩৫৮২; তিরমিযী, হা/১৩৩৭; ইবনে মাজাহ, হা/২৩১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৫৩২; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫০৭৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২১১; মিশকাত, হা/৩৭৫৩।]

তাছাড়া যে কাজ করা মানুষের কর্তব্য, সে কাজের বিনিময়ে অতিরিক্ত কোন কিছু গ্রহণ করা অথবা যে কাজ করা অন্যায়, সেটা করে দেয়ার মাধ্যমে কোন বিনিময় গ্রহণ করা অথবা সত্যকে ঢাকার জন্য যে কোন কিছুর বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। সুতরাং এর মাধ্যমে উপার্জিত সকল প্রকার বসত্মুই হারাম বসত্মু হিসেবে গণ্য হবে।

কোন নেতা, উচ্চ পদস্থ অফিসার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইত্যাদি কাউকে কোন কাজ আদায়ের জন্য কোন প্রকার হাদিয়া বা উপঢৌকন দেওয়াও হারাম। কেননা এটাও ঘুষের অমত্মর্ভুক্ত। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَبِيْ حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ قَالَ اِسْتَعْمَلَ رَسُوْلُ اللهِ رَجُلًا عَلٰى صَدَقَاتِ بَنِيْ سُلَيْمٍ يُدْعَى ابْنَ اللُّتَبِيَّةِ فَلَمَّا جَاءَ حَاسَبَه قَالَ هٰذَا مَالُكُمْ وَهٰذَا هَدِيَّةٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ فَهَلَّا جَلَسْتَ فِيْ بَيْتِ أَبِيْكَ وَأُمِّكَ حَتّٰى تَأْتِيَكَ هَدِيَّتُكَ إِنْ كُنْتَ صَادِقًا ثُمَّ خَطَبَنَا فَحَمِدَ اللهَ وَأَثْنٰى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّيْ أَسْتَعْمِلُ الرَّجُلَ مِنْكُمْ عَلَى الْعَمَلِ مِمَّا وَلَّانِيَ اللهُ فَيَأْتِيْ فَيَقُوْلُ هٰذَا مَالُكُمْ وَهٰذَا هَدِيَّةٌ أُهْدِيَتْ لِيْ أَفَلَا جَلَسَ فِيْ بَيْتِ أَبِيْهِ وَأُمِّه حَتّٰى تَأْتِيَه هَدِيَّتُه وَاللهِ لَا يَأْخُذُ أَحَدٌ مِنْكُمْ شَيْئًا بِغَيْرِ حَقِّه إِلَّا لَقِيَ اللهَ يَحْمِلُه يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَلَأَعْرِفَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ لَقِيَ اللهَ يَحْمِلُ بَعِيْرًا لَه رُغَاءٌ ، أَوْ بَقَرَةً لَهَا خُوَارٌ ، أَوْ شَاةً تَيْعَرُ ثُمَّ رَفَعَ يَدَه حَتّٰى رُئِيَ بَيَاضُ إِبْطِه يَقُوْلُ اللّٰهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ بَصْرَ عَيْنِيْ وَسَمْعَ أُذُنِيْ

আবু হুমাইদ সা‘ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইবনে লুতবীয়া নামক এক ব্যক্তিকে বনী সুলাইম গোত্রের যাকাত আদায়কারী নিয়োগ করেন। সে ফিরে এসে সংগৃহীত অর্থ-সম্পদের হিসাব নিকাশ দেয়ার সময় নবী ﷺ-কে বলল, এগুলো আপনাদের আর এগুলো আমাকে উপহার দেয়া হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক, তবে নিজের পিতামাতার বাড়িতে বসে থাক না কেন? দেখো! তোমার জন্য কোন উপহার আসে কি না। অতঃপর তিনি আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন; তারপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেন, আল্লাহ আমাকে যার অভিভাবক করেছেন, আমি তার কোন কাজে তোমাদের কাউকে নিযুক্ত করলে সে এসে বলে, এগুলো আপনাদের জন্য আর এগুলো আমার জন্য উপহার। তাহলে সে তার পিতামাতার বাড়িতে অবস্থান করছে না কেন? দেখি তাকে কত উপহার দেয়া হয়। আল্লাহর শপথ! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অবৈধভাবে কারো জিনিস আত্মসাৎ করে, কিয়ামতের দিন সে ঐগুলোর ভার বহন করে আল্লাহর সামনে হাযির হবে। সুতরাং সেদিন আমি তোমাদের কাউকে ঐ অবস্থায় আল্লাহর সামনে হাযির হতে দেখতে চাই না যে, সে তার পিঠে করে উট বয়ে আনবে এবং উটের মতো ডাকবে বা তার পিঠে গাভী বয়ে আনবে এবং গাভীর মতো ডাকবে অথবা তার পিঠে বকরি বয়ে নিয়ে আসবে এবং বকরির মতো ডাকবে। অতঃপর তিনি ডান হাত এতটুকু উঁচু করলেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌঁছে দিয়েছি? (বর্ণনাকারী বলেন) আমার চোখ তাঁকে এ কথা বলতে দেখেছে এবং আমার কান তা শুনেছে। [সহীহ বুখারী, হা/৬৯৭৯; সহীহ মুসলিম, হা/৪৮৪৫; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৩৪০; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৫১৫।]

অপর হাদীসে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ قَالَ : الْهَدِيَّةُ إِلَى الْإِمَامِ غُلُوْلٌ

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, নেতাকে হাদিয়া দেয়া হলো খিয়ানত। [মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১৩২৪; মু‘জামুল আওসাত, হা/৬৯০২; জামেউস সগীর, হা/১৩০১০।]