hadith book logo

হালাল রিযিকের সন্ধানে

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৩

পশু যবেহ করার পদ্ধতি

উট ছাড়া বাকি যে কোন প্রাণী যেমন- গরু, বকরি ও দুম্বা-ভেড়া-খাসী ইত্যাদি জমত্মুকে বাম কাতে শুয়ে ফেলে যবেহ করতে হবে। নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী জমত্মুটির পা-গুলো বেঁধে নেবে। প্রয়োজনে যে যবেহ করবে সে তার এক পা দিয়ে জমত্মুটির পাঁজর চেপে ধরতে পারবেন। হাদীসে এসেছে,

عَنْ أَنَسٍ قَالَ : ضَحَّى النَّبِيُّ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ، فَرَأَيْتُهٗ وَاضِعًا قَدَمَهٗ عَلٰى صِفَاحِهِمَا يُسَمِّيْ وَيُكَبِّرُ، فَذَبَحَهُمَا بِيَدِه ‏.‏

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ দু’টি ধূসর বর্ণের দুম্বা (নিজ হাতে) যবেহ করলেন। আমি দেখেছি, তিনি তাঁর এক পা দিয়ে দুম্বার পাঁজর দাবিয়ে রেখে আল্লাহর নাম নিয়ে তাকবীর পাঠ করলেন অর্থাৎ ‘বিসমিল্লা-হি আল্লা-হু আকবার’ বললেন। অতঃপর দুম্বা দু’টি নিজ হাতেই যবেহ করলেন। [সহীহ বুখারী, হা/৫৫৫৮; সহীহ মুসলিম, হা/৫২০০; ইবনে মাজাহ, হা/৩১২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯১৭; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৮৯৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১০৫২০; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৬২৩৬।]

উটকে দাঁড়ানো অবস্থায় যবেহ করতে হবে :

উটকে দাঁড় করিয়ে যবেহ করতে হবে। তার একটি পা বেঁধে দিতে হবে। তারপর কণ্ঠনালীতে সজোরে আঘাত করতে হবে। অতঃপর সেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে উট মাটিতে পড়ে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِّنْ شَعَآئِرِ اللهِ لَكُمْ فِيْهَا خَيْرٌۗ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا صَوَآفَّ﴾

আমি তোমাদের জন্য উটকে বানিয়েছি আল্লাহর নিদর্শন, তাতে রয়েছে তোমাদের জন্য অনেক কল্যাণ। সুতরাং তোমরা সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় তাদের উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। (সূরা হাজ্জ- ৩৬)

তাছাড়া হাদীসেও দাঁড় করিয়ে যবেহ করার কথা বলা হয়েছে। যেমন-

عَنِ زِيَادِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُمَا أَتٰى عَلٰى رَجُلٍ، قَدْ أَنَاخَ بَدَنَتَهٗ يَنْحَرُهَا، قَالَ ابْعَثْهَا قِيَامًا مُقَيَّدَةً، سُنَّةَ مُحَمَّدٍ

‏যিয়াদ ইবনে জুবাইর (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাঃ)-কে এক লোকের নিকট উপস্থিত হতে দেখেছি, যে তার উটকে কুরবানী করার জন্য বসিয়েছিল। তিনি তাকে বললেন, দাঁড় করিয়ে (পা) বেঁধে কুরবানী করো। এটিই মুহাম্মাদ ﷺ এর সুন্নত। [সহীহ বুখারী, হা/১৭১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬২৩৬; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২৮৯৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৯০৩; মুখতাসার ইরওয়ালুল গালীল, হা/১১৫০; মিশকাত, হা/২৬৩৭।]