১
হালাল রিযিকের সন্ধানে
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
যেসব প্রাণী হারাম করা হয়েছে
কতিপয় হারাম প্রাণীর বিবরণ আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيْرِ وَمَاۤ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِه وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوْذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيْحَةُ وَمَاۤ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوْا بِالْأَزْلَامِ ذٰلِكُمْ فِسْقُ ﴾
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে-
১. মৃত জন্তু,
২. (প্রবাহিত) রক্ত,
৩. শূকরের মাংস,
৪. আল্লাহ ব্যতীত অপরের নামে উৎসর্গকৃত জন্তু,
৫. শ্বাসরোধে মৃত জন্তু,
৬. প্রহারের আঘাতে মৃত পশু,
৭. উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত জন্তু,
৮. (কোন প্রাণীর) শিঙের আঘাতে মৃত জন্তু,
৯. হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে (জীবিত থাকতে) যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া,
১০. মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলি দেয়া জন্তু,
১১. ভাগ্য নির্ণয়কারী শর দ্বারা বণ্টনকৃত জন্তু, এসব পাপকাজ। (সূরা মায়েদা- ৩)
অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلْ لَّاۤ أَجِدُ فِيْ مَاۤ أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلٰى طَاعِمٍ يَّطْعَمُهٗۤ إِلَّاۤ أَنْ يَّكُوْنَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيْرٍ فَإِنَّهٗ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِه فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ﴾
বলো, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাইনি কোন ভক্ষণকারীর জন্য যা সে ভক্ষণ করে; তবে মৃত জন্তু, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের মাংস ব্যতীত, কেননা এগুলো অবশ্যই অপবিত্র, অথবা এমন অবৈধ জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে। তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালঙ্ঘন না করে নিরুপায় হয়ে যদি তা খায় তবে তোমার প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আন‘আম- ১৪৫)
খবিস ও নাপাক প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণী খবিস ও নাপাক হিসেবে পরিচিত সেসব প্রাণী খাওয়াও বৈধ নয়। যেমন- ইঁদুর, বিছা, শজারু, পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ, শকূন ইত্যাদি। যেহেতু এগুলোর খাদ্য অধিকাংশই নাপাক। তাই এসকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ ﴾
তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করে দিয়েছেন; আর অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করে দিয়েছেন। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৭)
ধারালো দাঁত ও নখবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণীর ধারালো দাঁত অথবা নখ রয়েছে, যা দ্বারা সে শিকার করে থাকে, সেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। কেননা সেগুলো হিংস্র প্রাণীর অমত্মর্ভুক্ত। যেমন- বাঘ, সিংহ, বাজ, চিল, ঈগল, পেঁচা ইত্যাদি। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ - قَالَ كُلُّ ذِىْ نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ فَأَكْلُه حَرَامٌ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, ধারালো দাঁতবিশিষ্ট যত হিংস্র প্রাণী রয়েছে, সেগুলো খাওয়া হারাম। [সহীহ বুখারী, হা/৫৫৩০; সহীহ মুসলিম, হা/৫০৯৭।]
থাবা বা পাঞ্জা দিয়ে ভক্ষণকারী প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণী থাবা দিয়ে বা পাঞ্জা দিয়ে ভক্ষণ করে থাকে, সেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। কেননা এভাবে খাওয়ার দ্বারা সেসব প্রাণী হিংস্রতার প্রমাণ বহন করে। যেমন- ঈগল, বাজ, পেঁচা, বাঘ ইত্যাদি। হাদীসে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهٰى رَسُوْلُ اللهِ - عَنْ كُلِّ ذِىْ نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِىْ مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁতবিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র জমত্মু ও থাবা বিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র পাখি খেতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫১০৩; আবু দাউদ, হা/৩৮০৫; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৩৪।]
গৃহপালিত গাধা খাওয়া যাবে না :
রাসূলুল্লাহ ﷺ যেসব প্রাণী খাওয়ার ব্যাপারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞারোপ করেছেন সেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। যেমন- গৃহপালিত গাধা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : نَهٰى رَسُوْلُ اللهِ يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُوْمِ الْحُمُرِ وَرَخَّصَ فِي الْخَيْلِ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন। আর সে দিনটি ছিল খায়বারের দিন। [সহীহ বুখারী, হা/৪২১৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫১৩৪; আবু দাউদ, হা/৩৭৯০; নাসাঈ, হা/৪৩২৬।]
﴿حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيْرِ وَمَاۤ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِه وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوْذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيْحَةُ وَمَاۤ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُوْا بِالْأَزْلَامِ ذٰلِكُمْ فِسْقُ ﴾
তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে-
১. মৃত জন্তু,
২. (প্রবাহিত) রক্ত,
৩. শূকরের মাংস,
৪. আল্লাহ ব্যতীত অপরের নামে উৎসর্গকৃত জন্তু,
৫. শ্বাসরোধে মৃত জন্তু,
৬. প্রহারের আঘাতে মৃত পশু,
৭. উঁচু স্থান থেকে পড়ে মৃত জন্তু,
৮. (কোন প্রাণীর) শিঙের আঘাতে মৃত জন্তু,
৯. হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে (জীবিত থাকতে) যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া,
১০. মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলি দেয়া জন্তু,
১১. ভাগ্য নির্ণয়কারী শর দ্বারা বণ্টনকৃত জন্তু, এসব পাপকাজ। (সূরা মায়েদা- ৩)
অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿قُلْ لَّاۤ أَجِدُ فِيْ مَاۤ أُوْحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلٰى طَاعِمٍ يَّطْعَمُهٗۤ إِلَّاۤ أَنْ يَّكُوْنَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوْحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيْرٍ فَإِنَّهٗ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللهِ بِه فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَّلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ﴾
বলো, যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাইনি কোন ভক্ষণকারীর জন্য যা সে ভক্ষণ করে; তবে মৃত জন্তু, প্রবাহিত রক্ত এবং শূকরের মাংস ব্যতীত, কেননা এগুলো অবশ্যই অপবিত্র, অথবা এমন অবৈধ জন্তু যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে। তবে কেউ অবাধ্য না হয়ে এবং সীমালঙ্ঘন না করে নিরুপায় হয়ে যদি তা খায় তবে তোমার প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আন‘আম- ১৪৫)
খবিস ও নাপাক প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণী খবিস ও নাপাক হিসেবে পরিচিত সেসব প্রাণী খাওয়াও বৈধ নয়। যেমন- ইঁদুর, বিছা, শজারু, পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ, শকূন ইত্যাদি। যেহেতু এগুলোর খাদ্য অধিকাংশই নাপাক। তাই এসকল প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَآئِثَ ﴾
তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল করে দিয়েছেন; আর অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করে দিয়েছেন। (সূরা আ‘রাফ- ১৫৭)
ধারালো দাঁত ও নখবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণীর ধারালো দাঁত অথবা নখ রয়েছে, যা দ্বারা সে শিকার করে থাকে, সেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। কেননা সেগুলো হিংস্র প্রাণীর অমত্মর্ভুক্ত। যেমন- বাঘ, সিংহ, বাজ, চিল, ঈগল, পেঁচা ইত্যাদি। হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ - قَالَ كُلُّ ذِىْ نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ فَأَكْلُه حَرَامٌ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেছেন, ধারালো দাঁতবিশিষ্ট যত হিংস্র প্রাণী রয়েছে, সেগুলো খাওয়া হারাম। [সহীহ বুখারী, হা/৫৫৩০; সহীহ মুসলিম, হা/৫০৯৭।]
থাবা বা পাঞ্জা দিয়ে ভক্ষণকারী প্রাণীর গোশত খাওয়া যাবে না :
যেসব প্রাণী থাবা দিয়ে বা পাঞ্জা দিয়ে ভক্ষণ করে থাকে, সেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। কেননা এভাবে খাওয়ার দ্বারা সেসব প্রাণী হিংস্রতার প্রমাণ বহন করে। যেমন- ঈগল, বাজ, পেঁচা, বাঘ ইত্যাদি। হাদীসে এসেছে,
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهٰى رَسُوْلُ اللهِ - عَنْ كُلِّ ذِىْ نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِىْ مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ
ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁতবিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র জমত্মু ও থাবা বিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র পাখি খেতে নিষেধ করেছেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫১০৩; আবু দাউদ, হা/৩৮০৫; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৩৪।]
গৃহপালিত গাধা খাওয়া যাবে না :
রাসূলুল্লাহ ﷺ যেসব প্রাণী খাওয়ার ব্যাপারে সরাসরি নিষেধাজ্ঞারোপ করেছেন সেসব প্রাণী খাওয়া বৈধ নয়। যেমন- গৃহপালিত গাধা। হাদীসে এসেছে,
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : نَهٰى رَسُوْلُ اللهِ يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُوْمِ الْحُمُرِ وَرَخَّصَ فِي الْخَيْلِ
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খেতে অনুমতি দিয়েছেন। আর সে দিনটি ছিল খায়বারের দিন। [সহীহ বুখারী, হা/৪২১৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫১৩৪; আবু দাউদ, হা/৩৭৯০; নাসাঈ, হা/৪৩২৬।]