hadith book logo

হালাল রিযিকের সন্ধানে

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮৩

৪. ব্যবসা-বাণিজ্য

ব্যবসা-বাণিজ্য হচ্ছে উপার্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মাধ্যম। সমাজ জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা ও প্রভাব অত্যমত্ম তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূর প্রসারী। ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে কেবল বৈধই বলেনি; বরং এ ব্যাপারে সবিশেষ উৎসাহ ও গুরুত্ব প্রদান করেছে। আর এজন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ সহ অনেক নবী-রাসূল ও সৎ ব্যক্তিগণ- এমনকি অনেক সাহাবীগণও ব্যবসা-বাণিজ্য করে গেছেন।

আল্লাহ তা‘আলা ব্যবসাকে হালাল ঘোষণা করেছেন :

﴿وَاَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾

আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন।

(সূরা বাক্বারা- ২৭৫)

হালাল ব্যবসা করা সবচেয়ে উত্তম উপার্জন :

عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيْجٍ قَالَ : قِيْلَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ ، أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ ؟ قَالَ : عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِه وَكُلُّ بَيْعٍ مَبْرُوْرٍ

রাফে‘ ইবনে খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ প্রকার উপার্জন সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, কোন ব্যক্তির নিজ হাতের দ্বারা উপার্জন এবং প্রত্যেক হালাল ব্যবসা। [মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৩০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৭৩১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১০৭০০; মুসত্মাদরাকে হাকেম, হা/২১৬০; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৪২৮৫; শু‘আবুল ঈমান, হা/১১৭৪; জামেউস সগীর, হা/১৯১৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬০৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৬৯১; মিশকাত, হা/২৭৮৩।]

আল্লাহ তা‘আলা হালাল ব্যবসার মধ্যে বরকত দান করেন :

عَنْ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  : اَلْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا ، أَوْ قَالَ حَتّٰى يَتَفَرَّقَا - فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُوْرِكَ لَهُمَا فِيْ بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا

হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয় শেষে পরস্পর পৃথক না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার অধিকার রাখে। যদি তারা উভয়ে সত্য কথা বলে এবং বিক্রেতা বিক্রীত দ্রব্যের দোষ-ত্রুটি বলে দেয়, তাহলে এই ক্রয়-বিক্রয়ে উভয়কে বরকত প্রদান করা হয়। কিন্তু যদি তারা মিথ্যা বলে এবং বিক্রীত দ্রব্যের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখে, তাহলে এই ক্রয়-বিক্রয়ের বরকত মুছে ফেলা হয়। [সহীহ বুখারী, হা/২০৭৯; সহীহ মুসলিম, হা/৩৯৩৭; তিরমিযী, হা/১২৪৬; নাসাঈ, হা/৪৪৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৩৪৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৪৯০৪; মুসনাদে তায়ালুসী, হা/১৪১৩; মুসত্মাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/৩৯৯৪; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩০৪৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১০৭৪১; সুনানে দারেমী, হা/২৫৪৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/২০৫১; জামেউস সগীর, হা/৫২০৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৭৮৪; মিশকাত, হা/২৮০২।]