১
শামায়েলে তিরমিযী
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
অধ্যায়- ২২ : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বালিশে হেলান দেয়ার বিবরণ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বাম কাঁধে বালিশের উপর হেলান দিতেন :
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ : رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ عَلٰى يَسَارِهٖ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।]
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন :
عَنْ اَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِاَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلٰى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : اَلْاِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُوْلُ اللهِ وَكَانَ مُتَّكِئًا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ ، اَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُوْلُ اللهِ يَقُوْلُهَا حَتّٰى قُلْنَا : لَيْتَهٗ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!’ [সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।]
ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে ‘কবীরা গুনাহ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা :
গুনাহ দু’প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না :
عَنْ اَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اَمَّا اَنَا فَلَا اٰكُلُ مُتَّكِئًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। [মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিববান, হা/৫২৪০।]
ব্যাখ্যা : ‘আমি হেলান দিয়ে আহার করি না’ এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ : رَاَيْتُ النَّبِيَّ مُتَّكِئًا عَلٰى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৮৯।]
ব্যাখ্যা : এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ হেলান দিয়ে বসতেন।
بَابُ مَا جَاءَ فِيْ اِتِّكَاءِ رَسُوْلِ اللهِ
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ : رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ عَلٰى يَسَارِهٖ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।]
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন :
عَنْ اَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِاَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلٰى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : اَلْاِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُوْلُ اللهِ وَكَانَ مُتَّكِئًا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّوْرِ ، اَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُوْلُ اللهِ يَقُوْلُهَا حَتّٰى قُلْنَا : لَيْتَهٗ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!’ [সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।]
ব্যাখ্যা : আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে ‘কবীরা গুনাহ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা :
গুনাহ দু’প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না :
عَنْ اَبِي جُحَيْفَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اَمَّا اَنَا فَلَا اٰكُلُ مُتَّكِئًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। [মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিববান, হা/৫২৪০।]
ব্যাখ্যা : ‘আমি হেলান দিয়ে আহার করি না’ এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ : رَاَيْتُ النَّبِيَّ مُتَّكِئًا عَلٰى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। [আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৮৯।]
ব্যাখ্যা : এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ হেলান দিয়ে বসতেন।
بَابُ مَا جَاءَ فِيْ اِتِّكَاءِ رَسُوْلِ اللهِ