১
শামায়েলে তিরমিযী
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪২
অধ্যায়- ৩৯ : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিদ্রা
রাসূলুল্লাহ ﷺ ডান হাত গালের নিচে রেখে শয্যা যেতেন এবং এ দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ، اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ اِذَا اَخَذَ مَضْجَعَهٗ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنٰى تَحْتَ خَدِّهِ الْاَيْمَنِ ، وَقَالَ : رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
১৮৯. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন :
رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
‘‘রাবিব ক্বিনী ‘আযাবাকা ইয়াওমা তাব্‘আসু ‘ইবা-দাক’’
অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে দিনের আযাব থেকে যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করা হবে। [আবু দাউদ, হা/৫০৪৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩১০; শু‘আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫২২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৭৫৪।]
ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ কর্তৃক নিষ্পাপ হওয়া অবগত সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার দাসত্ব ও বিনয় প্রকাশ এবং উম্মতকে শিক্ষা দান করার নিমিত্তে এসব দু‘আ করতেন।
নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ قَالَ : اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيَا ، وَاِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَحْيَانَا بَعْدَمَا اَمَاتَنَا وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ
১৯০. হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন বলতেন :
اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيَا
‘‘আল্ল-হুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া’’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই মৃত্যুলাভ (নিদ্রা) করছি এবং তোমার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হব।)
অতঃপর আবার যখন নিদ্রা ভঙ্গ করতেন তখন বলতেন,
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَحْيَانَا بَعْدَمَا اَمَاتَنَا وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়ানা- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর’’
অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি মৃত্যুর পর জীবন দিয়েছেন আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [সহীহ বুখারী, হা/৬৩১২; আবু দাউদ, হা/৫০৫১; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩১৯; শু‘আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫৩৯।]
নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ فَنَفَثَ فِيْهِمَا ، وَقَرَاَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ وَقُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهٖ ، يَبْدَأُ بِهِمَا رَأْسَهٗ وَوَجْهَهٗ وَمَا اَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهٖ يَصْنَعُ ذٰلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
১৯১. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যেতেন তখন দু’হাত মিলিয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন। তারপর ফুঁ দিয়ে যথাসম্ভব মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে দিতেন। তারপর মুখমন্ডল ও শরীরের সামনের অংশেও অনুরূপ বুলাতেন। [সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাউদ, হা/৫০৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৮৯৭।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ نَامَ حَتّٰى نَفَخَ ، وَكَانَ اِذَا نَامَ نَفَخَ فَاَتَاهٗ بِلَالٌ فَاٰذَنَهٗ بِالصَّلَاةِ ، فَقَامَ وَصَلّٰى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَفِي الْحَدِيْثِ قِصَّةٌ
১৯২. ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ নিদ্রায় গেলেন এমনকি তাঁর নাক ডাকতে আরম্ভ করে। আর যখন তিনি নিদ্রা যেতেন তখন নাক ডাকতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযূ করলেন না। হাদীসে আরো ঘটনা রয়েছে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৯৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৯৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৬৩৬; বায়হাকী, হা/১৩১৬৩।]
ব্যাখ্যা : এতে বুঝা গেল যে, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ গভীর ঘুমে যেতেন তখন গলা থেকে আওয়াজ বের হতো। আর নবীগণের বৈশিষ্ট্য হলো, ঘুমের কারণেও তাঁদের ওযূ নষ্ট হয় না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে উঠে ওযূ না করেই নামায আদায় করেছেন। এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নবীদের চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না। [মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ শয্যা গ্রহণকালে এ দু‘আটিও পাঠ করতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ كَانَ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ قَالَ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَاٰوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهٗ وَلَا مُؤْوِيْ
১৯৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন (নিম্নোক্ত দু‘আ) পাঠ করতেন :
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَاٰوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهٗ وَلَا مُؤْوِيْ
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানা- ওয়াসাক্বা-না- ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম্ মিম্মান্ লা- কা-ফিয়া লাহূ ওয়ালা- মু’বী’’
অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করান ও পান করান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই নিদ্রা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের কোন যথেষ্টকারী নেই এবং কোন আশ্রয়দাতাও নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/৭০৬৯; আবু দাউদ, হা/৫০৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫৭৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫৪০।]
তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন :
عَنْ اَبِيْ قَتَادَةَ : اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ اِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلٰى شِقِّهِ الْاَيْمَنِ ، وَاِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهٗ ، وَوَضَعَ رَأْسَهٗ عَلٰى كَفِّهٖ
২৯৪. আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ (সফরে) যখন রাতে বিশ্রাম নিতেন তখন ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন। আর যদি ভোর হওয়ার উপক্রম হতো তাহলে ডান হাত দাঁড় করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৮৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৬৩১; বায়হাকী, হা/১০১২৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২৫৫৮।]
ব্যাখ্যা : রাত্রিকালীন সফরে কোথাও যাত্রা বিরতি করলে, সময় বেশি থাকলে শুয়ে ঘুমাতেন। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অভ্যাস ছিল, তিনি ডান কাতে শুতেন। সময় কম থাকলে কনুই খাড়া করে হাতের তালুতে মাথা রেখে অল্প কিছুক্ষণ আরাম করে নিতেন।
- بَابُ مَا جَاءَ فِي عِبَادَةِ رَسُوْلِ اللهِ
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ، اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ اِذَا اَخَذَ مَضْجَعَهٗ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنٰى تَحْتَ خَدِّهِ الْاَيْمَنِ ، وَقَالَ : رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
১৮৯. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন :
رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
‘‘রাবিব ক্বিনী ‘আযাবাকা ইয়াওমা তাব্‘আসু ‘ইবা-দাক’’
অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে দিনের আযাব থেকে যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করা হবে। [আবু দাউদ, হা/৫০৪৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩১০; শু‘আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫২২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৭৫৪।]
ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ কর্তৃক নিষ্পাপ হওয়া অবগত সত্ত্বেও আল্লাহ তা‘আলার দাসত্ব ও বিনয় প্রকাশ এবং উম্মতকে শিক্ষা দান করার নিমিত্তে এসব দু‘আ করতেন।
নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ قَالَ : اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيَا ، وَاِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَحْيَانَا بَعْدَمَا اَمَاتَنَا وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ
১৯০. হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন বলতেন :
اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ اَمُوْتُ وَاَحْيَا
‘‘আল্ল-হুম্মা বিস্মিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া’’
অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই মৃত্যুলাভ (নিদ্রা) করছি এবং তোমার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হব।)
অতঃপর আবার যখন নিদ্রা ভঙ্গ করতেন তখন বলতেন,
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَحْيَانَا بَعْدَمَا اَمَاتَنَا وَاِلَيْهِ النُّشُوْرُ
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়ানা- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর’’
অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি মৃত্যুর পর জীবন দিয়েছেন আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [সহীহ বুখারী, হা/৬৩১২; আবু দাউদ, হা/৫০৫১; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩১৯; শু‘আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৩; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫৩৯।]
নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ فَنَفَثَ فِيْهِمَا ، وَقَرَاَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ وَقُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهٖ ، يَبْدَأُ بِهِمَا رَأْسَهٗ وَوَجْهَهٗ وَمَا اَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهٖ يَصْنَعُ ذٰلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
১৯১. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যেতেন তখন দু’হাত মিলিয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন। তারপর ফুঁ দিয়ে যথাসম্ভব মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে দিতেন। তারপর মুখমন্ডল ও শরীরের সামনের অংশেও অনুরূপ বুলাতেন। [সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাউদ, হা/৫০৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৮৯৭।]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ نَامَ حَتّٰى نَفَخَ ، وَكَانَ اِذَا نَامَ نَفَخَ فَاَتَاهٗ بِلَالٌ فَاٰذَنَهٗ بِالصَّلَاةِ ، فَقَامَ وَصَلّٰى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَفِي الْحَدِيْثِ قِصَّةٌ
১৯২. ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ নিদ্রায় গেলেন এমনকি তাঁর নাক ডাকতে আরম্ভ করে। আর যখন তিনি নিদ্রা যেতেন তখন নাক ডাকতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযূ করলেন না। হাদীসে আরো ঘটনা রয়েছে। [সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৯৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৯৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৬৩৬; বায়হাকী, হা/১৩১৬৩।]
ব্যাখ্যা : এতে বুঝা গেল যে, যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ গভীর ঘুমে যেতেন তখন গলা থেকে আওয়াজ বের হতো। আর নবীগণের বৈশিষ্ট্য হলো, ঘুমের কারণেও তাঁদের ওযূ নষ্ট হয় না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুম থেকে উঠে ওযূ না করেই নামায আদায় করেছেন। এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নবীদের চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না। [মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ শয্যা গ্রহণকালে এ দু‘আটিও পাঠ করতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ كَانَ اِذَا اَوٰى اِلٰى فِرَاشِهٖ قَالَ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَاٰوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهٗ وَلَا مُؤْوِيْ
১৯৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন (নিম্নোক্ত দু‘আ) পাঠ করতেন :
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَاٰوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهٗ وَلَا مُؤْوِيْ
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব‘আমানা- ওয়াসাক্বা-না- ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম্ মিম্মান্ লা- কা-ফিয়া লাহূ ওয়ালা- মু’বী’’
অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করান ও পান করান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই নিদ্রা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের কোন যথেষ্টকারী নেই এবং কোন আশ্রয়দাতাও নেই। [সহীহ মুসলিম, হা/৭০৬৯; আবু দাউদ, হা/৫০৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫৭৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫৫৪০।]
তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন :
عَنْ اَبِيْ قَتَادَةَ : اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ اِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلٰى شِقِّهِ الْاَيْمَنِ ، وَاِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهٗ ، وَوَضَعَ رَأْسَهٗ عَلٰى كَفِّهٖ
২৯৪. আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ (সফরে) যখন রাতে বিশ্রাম নিতেন তখন ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন। আর যদি ভোর হওয়ার উপক্রম হতো তাহলে ডান হাত দাঁড় করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৮৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৬৩১; বায়হাকী, হা/১০১২৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২৫৫৮।]
ব্যাখ্যা : রাত্রিকালীন সফরে কোথাও যাত্রা বিরতি করলে, সময় বেশি থাকলে শুয়ে ঘুমাতেন। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অভ্যাস ছিল, তিনি ডান কাতে শুতেন। সময় কম থাকলে কনুই খাড়া করে হাতের তালুতে মাথা রেখে অল্প কিছুক্ষণ আরাম করে নিতেন।
- بَابُ مَا جَاءَ فِي عِبَادَةِ رَسُوْلِ اللهِ