১
শামায়েলে তিরমিযী
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১
অধ্যায়- ২৮ : খাওয়ার পূর্বে ও পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দু‘আ
রাসূলুল্লাহ ﷺ খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নিতেন :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اِذَا اَكَلَ اَحَدُكُمْ فَنَسِيَ اَنْ يَذْكُرَ اللهَ تَعَالٰى عَلٰى طَعَامِهٖ فَلْيَقُلْ : بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
১৩৯. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি খাবারের সময় আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) উচ্চারণ করতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন (স্মরণ হলে) বলেন,
بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু’’
অর্থাৎ খাওয়ার শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নাম স্মরণ করছি। [আবু দাউদ, হা/৩৭৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭৭৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫২১৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭০৮৭; দারেমী, হা/২০২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১০৭।]
ব্যাখ্যা : এ হাদীস হতে বুঝা যায় যে, ‘বিস্মিল্লাহ’ বলে আহার শুরু করা সুন্নত। শুধু ‘বিস্মিল্লাহ’ বলাতেই এ সুন্নত আদায় হবে। এ ক্ষেত্রে এই শব্দের সাথে অন্য কোন শব্দ যোগ করা যাবে না।
তিনি ডান দিকে হতে খাবার খেতে শুরু করার জন্য আদেশ দিয়েছেন :
عَنْ عُمَرَ بْنِ اَبِيْ سَلَمَةَ ، اَنَّهٗ دَخَلَ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ وَعِنْدَهٗ طَعَامٌ فَقَالَ : اُدْنُ يَا بُنَيَّ فَسَمِّ اللهَ تَعَالٰى وَكُلْ بِيَمِيْنِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيْكَ
১৪০. উমর ইবনে আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট প্রবেশ করেন। তখন তাঁর সামনে খাবার পরিবেশিত ছিল। তিনি বললেন, বৎস! কাছে এসো, আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো এবং তোমার সামনের দিক থেকে ডান হাত দিয়ে খাবার খেতে শুরু করো। [সহীহ বুখারী, হা/৫৩৭৮; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৮৮; আবু দাউদ, হা/৩৭৭৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৭৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫২১১; সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭২২।]
এ হাদীসের শিক্ষা :
(ক) পানাহার আরম্ভ করার সময় বিস্মিল্লাহ বলে আরম্ভ করা। এটা সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নত।
(খ) ডান হাত দিয়ে পানাহার করা। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বাম হাতে খেতে নিষেধ করেছেন।
(গ) পাত্রে নিজ দিক থেকে আহার করা সুন্নত, যদি এক পাত্রে একাধিক জন আহার করে।
খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তিনি যে দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ اَبِيْ أُمَامَةَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ اِذَا رُفِعَتِ الْمَائِدَةُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ يَقُوْلُ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوْدَعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
১৪১. আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছ থেকে দস্তরখানা তুলে নেয়ার সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন-
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান্ কাসীরান্ ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রাকান্ ফীহি গায়রা মুওয়াদ্দা‘ইন ওয়ালা- মুসতাগনান্ ‘আন্হু রববানা-’’
অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অফুরান্ত, পবিত্র ও কল্যাণময়; এমন প্রশংসা যা বর্জন করা যায় না কিংবা তা হতে মুখাপেক্ষীহীন থাকা যায় না। হে আমাদের রব! (আমাদের দু‘আ কবুল করে নাও)। [আবু দাউদ, হা/৩৮৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২২৫৪; ইবনে হিববান, হা/৫২১৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৯৩৫।]
‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার খেলে বরকত হয় :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ يَأْكُلُ الطَّعَامَ فِي سِتَّةٍ مِنْ اَصْحَابِهٖ فَجَاءَ اَعْرَابِيٌّ فَاَكَلَهٗ بِلُقْمَتَيْنِ ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ : لَوْ سَمّٰى لَكَفَاكُمْ
১৪২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী ﷺ তাঁর ৬ জন সাহাবী নিয়ে খাবার খেতে বসলেন। এমন সময় একজন বেদুঈন এসে দু’গ্রাসে সব খাবার খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার শুরু করত তাহলে তোমাদের সবার জন্য তা যথেষ্ট হতো। [ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৪৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৫১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮২৫; শু‘আবুল ঈমান, হা/৫৪৪৬।]
খাবার খেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اِنَّ اللهَ لَيَرْضٰى عَنِ الْعَبْدِ اَنْ يَأْكُلَ الْاَكْلَةَ ، اَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهٗ عَلَيْهَا
১৪৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এক লোকমা খানা খেয়ে অথবা এক ঢোক পানি পান করে তাঁর বিনিময়ে আল্লাহর প্রশংসা করে। [সহীহ মুসলিম, হা/৭১০৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৮৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৩১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৬৫১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১৬৫।]
ব্যাখ্যা : পানাহার শেষে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করা কর্তব্য। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন, তোমরা যদি আমার শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি তোমাদের নিয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেব।
- بَابُ مَا جَاءَ فِي قَدَحِ رَسُوْلِ اللهِ
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اِذَا اَكَلَ اَحَدُكُمْ فَنَسِيَ اَنْ يَذْكُرَ اللهَ تَعَالٰى عَلٰى طَعَامِهٖ فَلْيَقُلْ : بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
১৩৯. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি খাবারের সময় আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) উচ্চারণ করতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন (স্মরণ হলে) বলেন,
بِسْمِ اللهِ اَوَّلَهٗ وَاٰخِرَهٗ
‘‘বিসমিল্লা-হি আও্ওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু’’
অর্থাৎ খাওয়ার শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নাম স্মরণ করছি। [আবু দাউদ, হা/৩৭৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭৭৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫২১৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭০৮৭; দারেমী, হা/২০২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১০৭।]
ব্যাখ্যা : এ হাদীস হতে বুঝা যায় যে, ‘বিস্মিল্লাহ’ বলে আহার শুরু করা সুন্নত। শুধু ‘বিস্মিল্লাহ’ বলাতেই এ সুন্নত আদায় হবে। এ ক্ষেত্রে এই শব্দের সাথে অন্য কোন শব্দ যোগ করা যাবে না।
তিনি ডান দিকে হতে খাবার খেতে শুরু করার জন্য আদেশ দিয়েছেন :
عَنْ عُمَرَ بْنِ اَبِيْ سَلَمَةَ ، اَنَّهٗ دَخَلَ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ وَعِنْدَهٗ طَعَامٌ فَقَالَ : اُدْنُ يَا بُنَيَّ فَسَمِّ اللهَ تَعَالٰى وَكُلْ بِيَمِيْنِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيْكَ
১৪০. উমর ইবনে আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট প্রবেশ করেন। তখন তাঁর সামনে খাবার পরিবেশিত ছিল। তিনি বললেন, বৎস! কাছে এসো, আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো এবং তোমার সামনের দিক থেকে ডান হাত দিয়ে খাবার খেতে শুরু করো। [সহীহ বুখারী, হা/৫৩৭৮; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৮৮; আবু দাউদ, হা/৩৭৭৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৭৭; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৫২১১; সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭২২।]
এ হাদীসের শিক্ষা :
(ক) পানাহার আরম্ভ করার সময় বিস্মিল্লাহ বলে আরম্ভ করা। এটা সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নত।
(খ) ডান হাত দিয়ে পানাহার করা। কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বাম হাতে খেতে নিষেধ করেছেন।
(গ) পাত্রে নিজ দিক থেকে আহার করা সুন্নত, যদি এক পাত্রে একাধিক জন আহার করে।
খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তিনি যে দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ اَبِيْ أُمَامَةَ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ اِذَا رُفِعَتِ الْمَائِدَةُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ يَقُوْلُ : اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوْدَعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
১৪১. আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছ থেকে দস্তরখানা তুলে নেয়ার সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন-
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
‘‘আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান্ কাসীরান্ ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রাকান্ ফীহি গায়রা মুওয়াদ্দা‘ইন ওয়ালা- মুসতাগনান্ ‘আন্হু রববানা-’’
অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অফুরান্ত, পবিত্র ও কল্যাণময়; এমন প্রশংসা যা বর্জন করা যায় না কিংবা তা হতে মুখাপেক্ষীহীন থাকা যায় না। হে আমাদের রব! (আমাদের দু‘আ কবুল করে নাও)। [আবু দাউদ, হা/৩৮৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২২৫৪; ইবনে হিববান, হা/৫২১৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৯৩৫।]
‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার খেলে বরকত হয় :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ يَأْكُلُ الطَّعَامَ فِي سِتَّةٍ مِنْ اَصْحَابِهٖ فَجَاءَ اَعْرَابِيٌّ فَاَكَلَهٗ بِلُقْمَتَيْنِ ، فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ : لَوْ سَمّٰى لَكَفَاكُمْ
১৪২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী ﷺ তাঁর ৬ জন সাহাবী নিয়ে খাবার খেতে বসলেন। এমন সময় একজন বেদুঈন এসে দু’গ্রাসে সব খাবার খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সে যদি ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খাবার শুরু করত তাহলে তোমাদের সবার জন্য তা যথেষ্ট হতো। [ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৪৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৫১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮২৫; শু‘আবুল ঈমান, হা/৫৪৪৬।]
খাবার খেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : اِنَّ اللهَ لَيَرْضٰى عَنِ الْعَبْدِ اَنْ يَأْكُلَ الْاَكْلَةَ ، اَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهٗ عَلَيْهَا
১৪৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এক লোকমা খানা খেয়ে অথবা এক ঢোক পানি পান করে তাঁর বিনিময়ে আল্লাহর প্রশংসা করে। [সহীহ মুসলিম, হা/৭১০৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৮৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৩১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৬৫১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১৬৫।]
ব্যাখ্যা : পানাহার শেষে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করা কর্তব্য। আল্লাহ তা‘আলা ঘোষণা করেছেন, তোমরা যদি আমার শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি তোমাদের নিয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেব।
- بَابُ مَا جَاءَ فِي قَدَحِ رَسُوْلِ اللهِ