১
শামায়েলে তিরমিযী
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩
অধ্যায়- ৫০ : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিঙ্গা লাগানো
রাসূলুল্লাহ ﷺ শিঙ্গা লাগাতেন এবং এর পারিশ্রমিকও দিতেন :
عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ : سُئِلَ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ ، فَقَالَ : اِحْتَجَمَ رَسُوْلُ اللهِ حَجَمَهٗ اَبُو طَيْبَةَ ، فَاَمَرَ لَهٗ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ ، وَكَلَّمَ اَهْلَهٗ فَوَضَعُوْا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهٖ وَقَالَ : اِنَّ اَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتَمْ بِهِ الْحِجَامَةُ ، اَوْ اِنَّ مِنْ اَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ
২৭৬. হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবু তায়বা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ২ সা‘ খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার মালিকের সঙ্গে আলাপ করে তার নিকট হতে আদায়যোগ্য অর্থ খারাজও কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, তোমরা যে ঔষধ ব্যবহার কর, এর মধ্যে শিঙ্গা উত্তম। অথবা বলেছেন, শিঙ্গা উত্তম প্রতিষেধকের অন্তর্ভুক্ত। [সহীহ মুসলিম, হা/৪১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯০৬; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৩৭৫৮; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি ‘আওয়ানা, হা/৪২৯৮।]
ব্যাখ্যা : তদানীন্তন আরবে মুনিব ক্রীতদাসকে দৈনিক প্রদেয় নির্দিষ্ট মাশুলের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিত। আবু তাইবাকেও মুনিব এভাবে অনুমতি দেন। তিনি দৈনিক তিন সা‘ মাশুলে কাজ করার সুযোগ পান। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার মুনিবকে সুপারিশ করে এক সা‘ হ্রাস করান।
عَنْ عَلِيٍّ : اَنَّ النَّبِيَّ اِحْتَجَمَ وَاَمَرَنِيْ فَاَعْطَيْتُ الْحَجَّامَ اَجْرَهٗ
২৭৭. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে শিঙ্গা লাগালেন এবং আমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমি তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিলাম। [ইবনে মাজাহ, হা/২১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩০; বায়হাকী, হা/১৯৩০৪; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৪৮।]
ব্যাখ্যা : এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, চিকিৎসা করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয় এবং শিঙ্গা লাগানো, শিঙ্গা লাগিয়ে ভাতা দেয়া-নেয়া উভয়ই জায়েয আছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ গর্দানের দু’পার্শ্বে ও কাঁধের দু’পার্শ্বে শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : اِنَّ النَّبِيَّ احْتَجَمَ فِي الْاَخْدَعَيْنِ وَبَيْنَ الْكَتِفَيْنِ ، وَاَعْطَى الْحَجَّامَ اَجْرَهٗ وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهٖ
২৭৮. ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তাঁর গর্দানের দু’পার্শ্বে এবং কাঁধের দু’পার্শ্বে শিঙ্গা লাগালেন এবং শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে এর পারিশ্রমিক দিলেন। শিঙ্গা লাগানো যদি হারাম হতো, তবে তিনি এর পারিশ্রমিক দিতেন না। [সহীহ বুখারী, হা/২১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯০৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২২০৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৪২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮২।]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، اَنَّ النَّبِيَّ دَعَا حَجَّامًا فَحَجَمَهٗ وَسَاَلَهٗ : كَمْ خَرَاجُكَ ؟ فَقَالَ : ثَلَاثَةُ اٰصُعٍ ، فَوَضَعَ عَنْهُ صَاعًا وَاَعْطَاهُ اَجْرَهٗ
২৭৯. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ এক শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে দৈনিক কত দিতে হয়? সে বলল, প্রতিদিন তিন সা‘। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার আদায়যোগ্য অর্থ এক সা‘ কমিয়ে দিলেন এবং তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৫৩৬; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৮২৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮৪।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَحْتَجِمُ فِي الْاَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ ، وَكَانَ يَحْتَجِمُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَاِحْدٰى وَعِشْرِيْنَ
২৮০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কাঁধের দু’পার্শ্বে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন। [শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২৩৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৪; মিশকাত, হা/৪৫৪৬।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম বাঁধা অবস্থাতেও শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ اِحْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ بَمَلَلٍ عَلٰى ظَهْرِ الْقَدَمِ
২৮১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে মালাল নামক স্থানে শিঙ্গা লাগালেন। [আবু দাউদ, হা/১৮৩৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭০৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৯৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯৮৬।]
- بَابُ : مَا جَاءَ فِي اَسْمَاءِ رَسُوْلِ اللهِ
عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ : سُئِلَ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ ، فَقَالَ : اِحْتَجَمَ رَسُوْلُ اللهِ حَجَمَهٗ اَبُو طَيْبَةَ ، فَاَمَرَ لَهٗ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ ، وَكَلَّمَ اَهْلَهٗ فَوَضَعُوْا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهٖ وَقَالَ : اِنَّ اَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتَمْ بِهِ الْحِجَامَةُ ، اَوْ اِنَّ مِنْ اَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ
২৭৬. হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবু তায়বা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ২ সা‘ খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার মালিকের সঙ্গে আলাপ করে তার নিকট হতে আদায়যোগ্য অর্থ খারাজও কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, তোমরা যে ঔষধ ব্যবহার কর, এর মধ্যে শিঙ্গা উত্তম। অথবা বলেছেন, শিঙ্গা উত্তম প্রতিষেধকের অন্তর্ভুক্ত। [সহীহ মুসলিম, হা/৪১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯০৬; মুসনাদে আবু ই‘আলা, হা/৩৭৫৮; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি ‘আওয়ানা, হা/৪২৯৮।]
ব্যাখ্যা : তদানীন্তন আরবে মুনিব ক্রীতদাসকে দৈনিক প্রদেয় নির্দিষ্ট মাশুলের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিত। আবু তাইবাকেও মুনিব এভাবে অনুমতি দেন। তিনি দৈনিক তিন সা‘ মাশুলে কাজ করার সুযোগ পান। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার মুনিবকে সুপারিশ করে এক সা‘ হ্রাস করান।
عَنْ عَلِيٍّ : اَنَّ النَّبِيَّ اِحْتَجَمَ وَاَمَرَنِيْ فَاَعْطَيْتُ الْحَجَّامَ اَجْرَهٗ
২৭৭. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে শিঙ্গা লাগালেন এবং আমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমি তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিলাম। [ইবনে মাজাহ, হা/২১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩০; বায়হাকী, হা/১৯৩০৪; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৪৮।]
ব্যাখ্যা : এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, চিকিৎসা করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয় এবং শিঙ্গা লাগানো, শিঙ্গা লাগিয়ে ভাতা দেয়া-নেয়া উভয়ই জায়েয আছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ গর্দানের দু’পার্শ্বে ও কাঁধের দু’পার্শ্বে শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : اِنَّ النَّبِيَّ احْتَجَمَ فِي الْاَخْدَعَيْنِ وَبَيْنَ الْكَتِفَيْنِ ، وَاَعْطَى الْحَجَّامَ اَجْرَهٗ وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهٖ
২৭৮. ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তাঁর গর্দানের দু’পার্শ্বে এবং কাঁধের দু’পার্শ্বে শিঙ্গা লাগালেন এবং শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে এর পারিশ্রমিক দিলেন। শিঙ্গা লাগানো যদি হারাম হতো, তবে তিনি এর পারিশ্রমিক দিতেন না। [সহীহ বুখারী, হা/২১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯০৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২২০৫; মু‘জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৪২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮২।]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، اَنَّ النَّبِيَّ دَعَا حَجَّامًا فَحَجَمَهٗ وَسَاَلَهٗ : كَمْ خَرَاجُكَ ؟ فَقَالَ : ثَلَاثَةُ اٰصُعٍ ، فَوَضَعَ عَنْهُ صَاعًا وَاَعْطَاهُ اَجْرَهٗ
২৭৯. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ এক শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে দৈনিক কত দিতে হয়? সে বলল, প্রতিদিন তিন সা‘। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার আদায়যোগ্য অর্থ এক সা‘ কমিয়ে দিলেন এবং তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিলেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩৬; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৫৩৬; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৮২৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮৪।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ يَحْتَجِمُ فِي الْاَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ ، وَكَانَ يَحْتَجِمُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَاِحْدٰى وَعِشْرِيْنَ
২৮০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ কাঁধের দু’পার্শ্বে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন। [শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২৩৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৪; মিশকাত, হা/৪৫৪৬।]
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম বাঁধা অবস্থাতেও শিঙ্গা লাগাতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ اِحْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ بَمَلَلٍ عَلٰى ظَهْرِ الْقَدَمِ
২৮১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে মালাল নামক স্থানে শিঙ্গা লাগালেন। [আবু দাউদ, হা/১৮৩৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭০৫; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৯৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯৮৬।]
- بَابُ : مَا جَاءَ فِي اَسْمَاءِ رَسُوْلِ اللهِ