hadith book logo

শামায়েলে তিরমিযী

লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩৪

অধ্যায়- ৩১ : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পানীয় বস্তুর বিবরণ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ঠান্ডা মিষ্টি পানীয় অধিকতর পছন্দ করতেন :

عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ اَحَبَّ الشَّرَابِ اِلٰى رَسُوْلِ اللهِ الْحُلْوُ الْبَارِدُ

১৫০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঠান্ডা মিষ্টি পানীয় অধিকতর পছন্দ করতেন। [মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১৪৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭২০০; সুনানুল কুবরা হা/৬৮১৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০২৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৬৭৬; জামেউস সগীর, হা/৮৭৫৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩০০৬।]

তিনি নিজে পান করে প্রথমে ডান পার্শ্বের ব্যক্তিকে দিতেন :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : دَخَلْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ اَنَا وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ عَلٰى مَيْمُوْنَةَ فَجَاءَتْنَا بِاِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ ، فَشَرِبَ رَسُوْلُ اللهِ وَاَنَا عَلٰى يَمِيْنِهٖ وَخَالِدٌ عَلٰى شِمَالِهٖ ، فَقَالَ لِيْ : اَلشَّرْبَةُ لَكَ ، فَاِنْ شِئِتَ اٰثَرْتَ بِهَا خَالِدًا فَقُلْتُ : مَا كُنْتُ لِأُوْثِرَ عَلٰى سُؤْرِكَ اَحَدًا ، ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  : مَنْ اَطْعَمَهُ اللهُ طَعَامًا ، فَلْيَقُلِ : اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ ، وَمَنْ سَقَاهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَبَنًا ، فَلْيَقُلِ : اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ . ثُمَّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ  : لَيْسَ شَيْءٌ يُجْزِئُ مَكَانَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ غَيْرُ اللَّبَنِ

১৫১. ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে আমি এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাঃ) একবার মায়মূনা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের জন্য একটি পাত্রে দুধ আনলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ তা হতে কিছু পান করলেন। সে সময় আমি ছিলাম তাঁর ডানে এবং খালিদ তাঁর বামে। তারপর তিনি আমাকে বললেন, এখন পান করার হক তোমার। তবে ইচ্ছে করলে তুমি খালিদকে তোমার উপর অগ্রাধিকার দিতে পার। এরপর ইবনে আববাস (রাঃ) বললেন, আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে সম্মত নই। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ যদি কাউকে কোন খাবার খাওয়ান তাহলে তার বলা উচিত-

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَاَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ

‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়া আত্ব‘ইম্না- খয়রাম্ মিন্হু।’’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি এতে বরকত দাও এবং আমাদেরকে এর চেয়েও বেশি সুস্বাদু খাবার দান করো।

আর যদি আল্লাহ কাউকে দুধ পান করান, তাহলে তার বলা উচিত-

اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ

‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়াযিদ্না- মিন্হু।’’

অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি এতে আমাদের জন্য বরকত দাও এবং আমাদেরকে এর চেয়েও বেশি দাও।

এরপর বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, দুধ ছাড়া এমন কোন বস্তু নেই, যা খাদ্য ও পানীয় উভয়ের কাজ দেয়।

ব্যাখ্যা : ‘এখন পান করার অধিকার তোমার’ রাসূলুল্লাহ ﷺ ইবনে আববাস (রাঃ) এর কাছে অনুমতি এজন্য চেয়েছিলেন যে, তখন তিনি ডানে বসা ছিলেন। আর খালেদ (রাঃ) ছিলেন বামে। আর বিভিন্ন হাদীসের বর্ণিত আছে- খাবার ডান দিক থেকে পরিবেশন করবে। এজন্য বড়কে সম্মান প্রদর্শনের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন, তুমি ইচ্ছা করলে খালেদকে আগে খেতে দিতে পার।



بَابُ مَا جَاءَ فِيْ صِفَةِ شُرْبِ رَسُوْلِ اللهِ