১
শামায়েলে তিরমিযী
লেখকঃ মুহাম্মাদ বিন ঈসা আত তিরমিযী (রহ.) • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
অধ্যায়- ৩০ : রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ফলমূলের বিবরণ
নবী ﷺ কাঁচা খেজুরের সাথে শসা খেতেন :
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ يَأْكُلُ الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ
১৪৬. আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ কাঁচা খেজুরের সাথে শসা খেতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৫১; আবু দাউদ, হা/৩৮৩৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪১; দারেমী, হা/২০৫৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৯৩; জামেউস সগীর, হা/৯০১১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৬।]
তিনি তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন :
عَنْ عَائِشَةَ : اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيْخَ بِالرُّطَبِ
১৪৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন। [আবু দাউদ, হা/৩৮৩৮; ইবনে হিববান, হা/২৫৪৬; বায়হাকী, হা/১৪৪১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫০৪৪; জামেউস সগীর, হা/৯০০৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৭।]
ব্যাখ্যা : শসা জাতীয় ফলকে তরমুজ বলা হয়। এটা ঠান্ডা প্রকৃতির আর খেজুর গরম প্রকৃতির। দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে খেলে উভয়ের ক্রিয়ায় ভারসাম্য আসে। তাছাড়া তরমুজ হলো পানসে জাতীয় আর খেজুর মিষ্টি জাতীয়। উভয়টি একত্রিত করলে কিছুটা মিষ্টি আসে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি এক সাথে খেতেন।
তিনি তাজা তরমুজ ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ يَجْمَعُ بَيْنَ الْخِرْبِزِ وَالرُّطَبِ
১৪৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ কে খিরবিয ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতে দেখেছি। [সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৬৯২; জামেউস সগীর, হা/৯০৪৭।]
ব্যাখ্যা : ‘খিরবিয’ শব্দটি ফার্সী শব্দ। খারবাযাহ হলো আরবি রূপ। এটি বাঙ্গি জাতীয় এক প্রকার ফল। এর উপরের আবরণ হলদে, ভিতরটা শক্ত সাদা, খেতে কিছুটা পানসে হয়। আরবে বর্তমানে এটি শামীম নামে পরিচিত।
নতুন ফল উদ্বোধনকালে তিনি যে দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ اَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : كَانَ النَّاسُ اِذَا رَاَوْا اَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوْا بِهٖ اِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ، فَاِذَا اَخَذَهٗ رَسُوْلُ اللهِ قَالَ : اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِيْنَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا وَفِي مُدِّنَا، اَللّٰهُمَّ اِنَّ اِبْرَاهِيْمَ عَبْدُكَ وَخَلِيْلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنِّيْ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنَّهٗ دَعَاكَ لِمَكَّةَ، وَاِنِّيْ اَدْعُوْكَ لِلْمَدِيْنَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِه لِمَكَّةَ وَمِثْلِه مَعَهٗ قَالَ : ثُمَّ يَدْعُوْ اَصْغَرَ وَلِيَدٍ يَرَاهُ فَيُعْطِيْهِ ذٰلِكَ الثَّمَرَ
১৪৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম যখন কোন নতুন ফল দেখতেন তখন তাঁরা তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে পেশ করতেন। আর তিনি তা গ্রহণ করে এ মর্মে দু‘আ করতেন :
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِيْنَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا وَفِي مُدِّنَا، اَللّٰهُمَّ اِنَّ اِبْرَاهِيْمَ عَبْدُكَ وَخَلِيْلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنِّيْ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنَّهٗ دَعَاكَ لِمَكَّةَ، وَاِنِّيْ اَدْعُوْكَ لِلْمَدِيْنَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِه لِمَكَّةَ وَمِثْلِه مَعَهٗ
‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফী সিমা-রিনা-, ওয়াবা-রিক্ব লানা- ফী মাদীনাতিনা-, ওয়াবা-রিক লানা- ফী স-‘ইনা- ওয়াফী মুদ্দিনা-, আল্ল-হুম্মা ইন্না ইব্র-হীমা ‘আব্দুকা ওয়া খালীলুকা ওয়া নাবীয়্যুকা, ওয়া ইন্নী ‘আব্দুকা ওয়া নবীয়্যুকা, ওয়া ইন্নাহু দা‘আ-কা লিমাক্কাহ, ওয়া ইন্নী আদ্‘ঊকা লিলমাদিনাতি বিমিছ্লি মা- দা‘আ-কা বিহী লিমাক্কাতা ওয়া মিছলিহী মা‘আহূ’’।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের ফলসমূহে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের শহরে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের জন্য আমাদের ‘সা’ এবং আমাদের ‘মুদ্দে’ (পরিমাপ যন্ত্রে) বরকত দাও। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু এবং তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি (ইবরাহীম তো) তোমার কাছে মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন আর আমি তাঁর ন্যায় মদিনার জন্য তোমার কাছে দু‘আ করছি এবং এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ দু‘আ করছি।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি যাকে সর্বকনিষ্ঠ দেখতেন এরূপ ছোট কাউকে ডেকে তাকে সে ফল দিয়ে দিতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৩৪০০; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫৬৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০০৬১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৯৯।]
- بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ شَرَابِ رَسُوْلِ اللهِ
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ يَأْكُلُ الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ
১৪৬. আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ কাঁচা খেজুরের সাথে শসা খেতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৫১; আবু দাউদ, হা/৩৮৩৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪১; দারেমী, হা/২০৫৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৯৩; জামেউস সগীর, হা/৯০১১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৬।]
তিনি তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন :
عَنْ عَائِشَةَ : اَنَّ النَّبِيَّ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيْخَ بِالرُّطَبِ
১৪৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন। [আবু দাউদ, হা/৩৮৩৮; ইবনে হিববান, হা/২৫৪৬; বায়হাকী, হা/১৪৪১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫০৪৪; জামেউস সগীর, হা/৯০০৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৭।]
ব্যাখ্যা : শসা জাতীয় ফলকে তরমুজ বলা হয়। এটা ঠান্ডা প্রকৃতির আর খেজুর গরম প্রকৃতির। দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে খেলে উভয়ের ক্রিয়ায় ভারসাম্য আসে। তাছাড়া তরমুজ হলো পানসে জাতীয় আর খেজুর মিষ্টি জাতীয়। উভয়টি একত্রিত করলে কিছুটা মিষ্টি আসে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ দুটি এক সাথে খেতেন।
তিনি তাজা তরমুজ ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতেন :
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ يَجْمَعُ بَيْنَ الْخِرْبِزِ وَالرُّطَبِ
১৪৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ কে খিরবিয ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতে দেখেছি। [সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৬৯২; জামেউস সগীর, হা/৯০৪৭।]
ব্যাখ্যা : ‘খিরবিয’ শব্দটি ফার্সী শব্দ। খারবাযাহ হলো আরবি রূপ। এটি বাঙ্গি জাতীয় এক প্রকার ফল। এর উপরের আবরণ হলদে, ভিতরটা শক্ত সাদা, খেতে কিছুটা পানসে হয়। আরবে বর্তমানে এটি শামীম নামে পরিচিত।
নতুন ফল উদ্বোধনকালে তিনি যে দু‘আ পাঠ করতেন :
عَنْ اَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : كَانَ النَّاسُ اِذَا رَاَوْا اَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوْا بِهٖ اِلٰى رَسُوْلِ اللهِ ، فَاِذَا اَخَذَهٗ رَسُوْلُ اللهِ قَالَ : اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِيْنَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا وَفِي مُدِّنَا، اَللّٰهُمَّ اِنَّ اِبْرَاهِيْمَ عَبْدُكَ وَخَلِيْلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنِّيْ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنَّهٗ دَعَاكَ لِمَكَّةَ، وَاِنِّيْ اَدْعُوْكَ لِلْمَدِيْنَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِه لِمَكَّةَ وَمِثْلِه مَعَهٗ قَالَ : ثُمَّ يَدْعُوْ اَصْغَرَ وَلِيَدٍ يَرَاهُ فَيُعْطِيْهِ ذٰلِكَ الثَّمَرَ
১৪৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম যখন কোন নতুন ফল দেখতেন তখন তাঁরা তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে পেশ করতেন। আর তিনি তা গ্রহণ করে এ মর্মে দু‘আ করতেন :
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِيْنَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا وَفِي مُدِّنَا، اَللّٰهُمَّ اِنَّ اِبْرَاهِيْمَ عَبْدُكَ وَخَلِيْلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنِّيْ عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَاِنَّهٗ دَعَاكَ لِمَكَّةَ، وَاِنِّيْ اَدْعُوْكَ لِلْمَدِيْنَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِه لِمَكَّةَ وَمِثْلِه مَعَهٗ
‘‘আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফী সিমা-রিনা-, ওয়াবা-রিক্ব লানা- ফী মাদীনাতিনা-, ওয়াবা-রিক লানা- ফী স-‘ইনা- ওয়াফী মুদ্দিনা-, আল্ল-হুম্মা ইন্না ইব্র-হীমা ‘আব্দুকা ওয়া খালীলুকা ওয়া নাবীয়্যুকা, ওয়া ইন্নী ‘আব্দুকা ওয়া নবীয়্যুকা, ওয়া ইন্নাহু দা‘আ-কা লিমাক্কাহ, ওয়া ইন্নী আদ্‘ঊকা লিলমাদিনাতি বিমিছ্লি মা- দা‘আ-কা বিহী লিমাক্কাতা ওয়া মিছলিহী মা‘আহূ’’।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের ফলসমূহে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের শহরে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের জন্য আমাদের ‘সা’ এবং আমাদের ‘মুদ্দে’ (পরিমাপ যন্ত্রে) বরকত দাও। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু এবং তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি (ইবরাহীম তো) তোমার কাছে মক্কার জন্য দু‘আ করেছিলেন আর আমি তাঁর ন্যায় মদিনার জন্য তোমার কাছে দু‘আ করছি এবং এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ দু‘আ করছি।
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি যাকে সর্বকনিষ্ঠ দেখতেন এরূপ ছোট কাউকে ডেকে তাকে সে ফল দিয়ে দিতেন। [সহীহ মুসলিম, হা/৩৪০০; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫৬৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০০৬১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৯৯।]
- بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ شَرَابِ رَسُوْلِ اللهِ