hadith book logo

আসরের সলাতের সঠিক ওয়াক্ত

লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

অনুচ্ছেদ-২৬: শাসক বা দায়িত্বশীলগণ যখন আসরের সলাত পিছিয়ে দেবে তখন একাকী সঠিক সময়ে আদায় করা জরুরি। সম্ভব হলে পরে জামাআতে শরীক হওয়া যাবে। তবে এটা বাধ্যতামূলক নয়। এভাবে একাকী সলাত আদায় করলে- সেটাকে সলাতের হেফাযত করা গণ্য করা হয়েছে।

হাদীস-৩৮: সাহাবী আবূ যর (রহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏ " ‏ يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ صَلَّيْتَ لِوَقْتِهَا كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً وَإِلاَّ كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ ‏ " ‏ ‏ .

“আমাকে রসূলুল্লাহ (স) বললেন: হে আবূ যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সলাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সলাতের উত্তম সময়ে) সলাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সলাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তা হলে তুমি অন্তত তোমার সলাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে।” [. সহীহ মুসলিম হা/১৩৫১ (২৩৮/৬৪৮)।]

হাদীস-৩৯: সাহাবী উবাদাহ বিন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ‏ " ‏ إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ تَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنِ الصَّلَاةِ لِوَقْتِهَا حَتَّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلُّوا الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا ‏ " ‏ . ‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ " ‏ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ ‏ " ‏‏ . ‏ وَقَالَ سُفْيَانُ إِنْ أَدْرَكْتُهَا مَعَهُمْ أَأُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ‏ " ‏ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ ‏ "

“রসূলুল্লাহ (স) বলেছেন: অচিরেই আমার পরে তোমাদের উপর এমন শাসকদের আগমন ঘটবে কর্মব্যস্ততা যাদেরকে নির্ধারিত সময়ে সলাত আদায় হতে বিরত রাখবে, এমনকি সলাতের ওয়াক্ত চলে যাবে। অতএব তখন তোমরা নির্ধারিত সময়ে সলাত আদায় করে নিবে। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি কি ঐ সলাত পুনরায় তাদের সাথেও আদায় করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ইচ্ছে হলে আদায় করতে পার।” [. আবূ দাউদ হা/৪৩৩; সহীহ- আলবানী।]

হাদীস-৪০: সাহাবী ইবনু মাসউদ (রা) বলেছেন:

إِنَّكُمْ فِي زَمَانٍ قَلِيلٍ خُطَبَاؤُهُ، كَثِيرٍ عُلَمَاؤُهُ، يُطِيلُونَ الصَّلَاةَ، وَيُقَصِّرُونَ الْخُطْبَةَ، وَإِنَّهُ سَيَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ كَثِيرٌ خُطَبَاؤُهُ، قَلِيلٌ عُلَمَاؤُهُ، يُطِيلُونَ الْخُطْبَةَ، وَيُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ، حَتَّى يُقَالَ : هَذَا شَرَقُ الْمَوْتَى " قَالَ : قُلْتُ لَهُ : وَمَا شَرَقُ الْمَوْتَى؟ قَالَ : «إِذَا اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ جِدًّا، فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ فَلْيُصَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا، فَإِنِ احْتُبِسَ فَلْيُصَلِّ مَعَهُمْ، وَلْيَجْعَلْ صَلَاتَهُ وَحْدَهُ الْفَرِيضَةَ، وَلْيَجْعَلْ صَلَاتَهُ مَعَهُمْ تَطَوُّعًا .

“তুমি ঐ যামানাতে আছ যখন তাদের খুতবা কম হয়, তাদের অনেক আলেম আছেন, তাদের সলাত দীর্ঘ হয় এবং তাদের খুতবা ছোট হয়। তোমার উপর এমন যামানা আসবে যখন তাদের ব্যাপক খুতবা থাকবে, তাদের অল্প আলেম হবে, তাদের খুতবা হবে দীর্ঘ, আর তাদের সলাত হবে দেরিতে- এমনকি তারা বলবে: এই পূর্ব মারা গেছে। (রাবী) বলেন: আমি তাঁকে বললাম: পূর্ব মারা যাওয়াটা কি? তিনি (রা) বললেন: যখন সূর্য খুব হলুদ হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন (যামানা) পাবে, সে যেন তার ওয়াক্তে সলাত পড়ে। অতঃপর সে যেন তাদের সাথে বসে এবং তাদের সাথে সলাত আদায় করে। তার একক সলাতটি ফরয হিসেবে গণ্য হবে এবং তাদের সাথে আদায়কৃত সলাত নফল হিসেবে গণ্য হবে।” [. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক্ব হা/৩৭৮৭, মুহাল্লা (শামেলা) ২/৪৪ পৃ:। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হাদীসের সাক্ষ্য হিসেবে সহীহ বা হাসান।]

অন্যত্র ইবনু মাসউদ (রা) বলেন:

إِنَّهُ سَيَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَة عَنْ وَقْتِهَا وَيَخْنُقُونَهَا إلَى شَرَقِ الْمَوْتَى فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمْ قَدْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَصَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ ، ثُمَّ اجْعَلُوا صَلاَتَكُمْ سُبْحَةً .

“অচিরেই তোমাদের এমন আমীর হবে যারা সলাতকে তার ওয়াক্ত থেকে পিছিয়ে দেবে এবং এর সময়কে এমনভাবে গলাচেপে ধরবে যে পূর্ব দিকের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটবে (সূর্য বেশি হলুদ হবে)। সুতরাং তোমরা যদি এটা দেখ তবে তোমাদের ঘরে সলাত আদায় করবে। অতঃপর তাদের সাথে (সলাত) আদায় করবে নফল হিসেবে।” [. মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৭৬৭৩; সহীহ-তাহক্বীক্ব ইবনু আবী শায়বাহ (কায়রো: দারু কানুয ১৪৩৬/২০১৫) ৫/১৩২ পৃ: হা/৭৮০০। অনুরূপ: সহীহ মুসলিম হা/১০৭৮ (২৬/৫৩৪)।]