১
আসরের সলাতের সঠিক ওয়াক্ত
লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬১
সৌদি প্রবাসী হানাফী আলেম-৭:
এক্ষেত্রে আরেকটি কথা উল্লেখ করার মতো তা হলো- নবী (স) যে রাজা-বাদশাহদের উদাসীনতা হেতু দেরির কথা বলেছেন, সেটি সাহাবায়ে কেরামের যুগে ঘটেও গিয়েছে। কোনো কোনো শাসকেরা অনেক দেরি করে জুমুআর সলাতে হাজির হতেন, যার ফলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা শুরু হতো। এরকম অবস্থায় সময় সাহাবায়ে কেরাম এ হাদীসের উপর আমল করেছেন, অর্থাৎ একাকি সলাত আদায় করেছেন এবং পরে জামাআতেও যোগ দিয়েছেন যাতে মুসলিমদের মধ্যে কোনো প্রকার ঐক্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে- এই ম্যাসেজটি বা এই বার্তাটি মানুষের কাছে না যায়- সেজন্য।
পর্যালোচনা-৭: হাদীসে শাসকদের উদাসীনতার সাথে সাথে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোও বর্ণিত হয়েছে। নবী (স) বলেছেন:
يُطْفِئُونَ السُّنَّةَ وَيَعْمَلُونَ بِالْبِدْعَةِ وَيُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ مَوَاقِيتِهَا .
‘‘তারা সুন্নাতকে বিলুপ্ত করবে, বিদআতের অনুসরণ করবে এবং সলাত নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে পড়বে।’’ [. ইবনু মাজাহ হা/২৮৬৫; সহীহ- আলবানী।]
এই কাজগুলো আলেমদের দ্বারাও ঘটে থাকে।
বক্তা বলেছেন: ‘‘শাসকেরা অনেক দেরি করে জুমুআর সলাতে হাজির হতেন, যার ফলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা শুরু হতো।’’
‘আসরের ওয়াক্ত শুরু’ হতো মর্মে বাক্য আমরা পায়নি। ‘সলাতকে মেরে ফেলা’ বা ‘সলাতের ওয়াক্তকে পিছিয়ে দেয়া’ মর্মের হাদীসের দাবি সম্পর্কে ইমাম নাওয়াবী (নববী রহ.) লিখেছেন:
مَعْنَى يُمِيتُونَ الصَّلَاة : يُؤَخِّرُونَهَا ; فَيَجْعَلُونَهَا كَالْمَيِّتِ الَّذِي خَرَجَتْ رُوحه , وَالْمُرَاد بِتَأْخِيرِهَا عَنْ وَقْتهَا , أَيْ عَنْ وَقْتهَا الْمُخْتَار لا عَنْ جَمِيع وَقْتهَا , فَإِنَّ الْمَنْقُول عَنْ الأُمَرَاء الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتَأَخِّرِينَ إِنَّمَا هُوَ تَأْخِيرهَا عَنْ وَقْتهَا الْمُخْتَار , وَلَمْ يُؤَخِّرهَا أَحَد مِنْهُمْ عَنْ جَمِيع وَقْتهَا , فَوَجَبَ حَمْل هَذِهِ الأَخْبَار عَلَى مَا هُوَ الْوَاقِع .
‘‘সলাতকে মেরে ফেলার অর্থ হল: তারা সলাতে দেরি করবে এবং রূহ বের হয়েছে এমন মৃতকে রাখার মতো ফেলে রাখবে। আর সলাতে দেরি করার অর্থ হল: তারা মুখতার (বাছাইকৃত, পছন্দনীয়) ওয়াক্ত থেকে দেরি করবে, সম্পূর্ণ ওয়াক্ত থেকে নয়। কেননা, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শাসকদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা মুখতার ওয়াক্তের ব্যাপারে দেরি করতেন। তাদের কেউই সম্পূর্ণ ওয়াক্ত (বা ওয়াক্তের শেষাংশ) পর্যন্ত দেরি করতেন না। তাই ওয়াজিব হচ্ছে, এসব হাদীস বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে প্রয়োগ করা।’’ [. শারহু মুসলিম নাওয়াবী ৬/১৪৭ পৃ.।]
এক ছায়া ও দুই ছায়া মত দুটির পার্থক্যের মাঝেও ঐ মুখতার (বাছাইকৃত, পছন্দনীয়) ওয়াক্তটিকে গ্রহণ বা বর্জনের আমল নিশ্চিত হয়। পক্ষান্তরে হানাফীদের নিকট দুই ছায়ার পূর্বে আসরের সলাত পড়লে- সলাতটিই বাতিল। কেননা, তাদের মাযহাবে তখনও যোহরের সলাতের সময় চলছে।
আলোচ্য বক্তা নিজেই উল্লেখ করেছেন, সাহাবীদের যামানাতে শাসক জুমুআর সলাত দেরিতে আদায় করতেন। তখন তাঁরা (রা) প্রথমে একাকী সলাত আদায় করতেন, অতঃপর জামাআতে শরীক হতেন। [. সহীহ মুসলিম হা/১৩৫৭(৪৪/৬৪৮)।] কিছু পরে আমরা জানব, উক্ত বক্তাই আসরের সলাত দেরিতে আদায়ের ক্ষেত্রে আমলটি প্রয়োগে বিরোধিতা করেছেন। অথচ নবী (স) থেকে পরবর্তী শাসকদের আসরের সলাত দেরিতে আদায়ের বর্ণনাই বেশি। কেননা, হাদীসে ‘সলাতকে মেরে ফেলা’, ‘পূর্বদিক মারা যাওয়া’, ‘সূর্য হলুদ হওয়া’ ‘মুনাফিক্বরা অপেক্ষা করতে থাকে’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দ্বারা আসরের সলাতকে বিশেষভাবে বুঝানো হয়েছে।
পর্যালোচনা-৭: হাদীসে শাসকদের উদাসীনতার সাথে সাথে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোও বর্ণিত হয়েছে। নবী (স) বলেছেন:
يُطْفِئُونَ السُّنَّةَ وَيَعْمَلُونَ بِالْبِدْعَةِ وَيُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ عَنْ مَوَاقِيتِهَا .
‘‘তারা সুন্নাতকে বিলুপ্ত করবে, বিদআতের অনুসরণ করবে এবং সলাত নির্দিষ্ট ওয়াক্ত থেকে বিলম্বে পড়বে।’’ [. ইবনু মাজাহ হা/২৮৬৫; সহীহ- আলবানী।]
এই কাজগুলো আলেমদের দ্বারাও ঘটে থাকে।
বক্তা বলেছেন: ‘‘শাসকেরা অনেক দেরি করে জুমুআর সলাতে হাজির হতেন, যার ফলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা শুরু হতো।’’
‘আসরের ওয়াক্ত শুরু’ হতো মর্মে বাক্য আমরা পায়নি। ‘সলাতকে মেরে ফেলা’ বা ‘সলাতের ওয়াক্তকে পিছিয়ে দেয়া’ মর্মের হাদীসের দাবি সম্পর্কে ইমাম নাওয়াবী (নববী রহ.) লিখেছেন:
مَعْنَى يُمِيتُونَ الصَّلَاة : يُؤَخِّرُونَهَا ; فَيَجْعَلُونَهَا كَالْمَيِّتِ الَّذِي خَرَجَتْ رُوحه , وَالْمُرَاد بِتَأْخِيرِهَا عَنْ وَقْتهَا , أَيْ عَنْ وَقْتهَا الْمُخْتَار لا عَنْ جَمِيع وَقْتهَا , فَإِنَّ الْمَنْقُول عَنْ الأُمَرَاء الْمُتَقَدِّمِينَ وَالْمُتَأَخِّرِينَ إِنَّمَا هُوَ تَأْخِيرهَا عَنْ وَقْتهَا الْمُخْتَار , وَلَمْ يُؤَخِّرهَا أَحَد مِنْهُمْ عَنْ جَمِيع وَقْتهَا , فَوَجَبَ حَمْل هَذِهِ الأَخْبَار عَلَى مَا هُوَ الْوَاقِع .
‘‘সলাতকে মেরে ফেলার অর্থ হল: তারা সলাতে দেরি করবে এবং রূহ বের হয়েছে এমন মৃতকে রাখার মতো ফেলে রাখবে। আর সলাতে দেরি করার অর্থ হল: তারা মুখতার (বাছাইকৃত, পছন্দনীয়) ওয়াক্ত থেকে দেরি করবে, সম্পূর্ণ ওয়াক্ত থেকে নয়। কেননা, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী শাসকদের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা মুখতার ওয়াক্তের ব্যাপারে দেরি করতেন। তাদের কেউই সম্পূর্ণ ওয়াক্ত (বা ওয়াক্তের শেষাংশ) পর্যন্ত দেরি করতেন না। তাই ওয়াজিব হচ্ছে, এসব হাদীস বাস্তবে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে প্রয়োগ করা।’’ [. শারহু মুসলিম নাওয়াবী ৬/১৪৭ পৃ.।]
এক ছায়া ও দুই ছায়া মত দুটির পার্থক্যের মাঝেও ঐ মুখতার (বাছাইকৃত, পছন্দনীয়) ওয়াক্তটিকে গ্রহণ বা বর্জনের আমল নিশ্চিত হয়। পক্ষান্তরে হানাফীদের নিকট দুই ছায়ার পূর্বে আসরের সলাত পড়লে- সলাতটিই বাতিল। কেননা, তাদের মাযহাবে তখনও যোহরের সলাতের সময় চলছে।
আলোচ্য বক্তা নিজেই উল্লেখ করেছেন, সাহাবীদের যামানাতে শাসক জুমুআর সলাত দেরিতে আদায় করতেন। তখন তাঁরা (রা) প্রথমে একাকী সলাত আদায় করতেন, অতঃপর জামাআতে শরীক হতেন। [. সহীহ মুসলিম হা/১৩৫৭(৪৪/৬৪৮)।] কিছু পরে আমরা জানব, উক্ত বক্তাই আসরের সলাত দেরিতে আদায়ের ক্ষেত্রে আমলটি প্রয়োগে বিরোধিতা করেছেন। অথচ নবী (স) থেকে পরবর্তী শাসকদের আসরের সলাত দেরিতে আদায়ের বর্ণনাই বেশি। কেননা, হাদীসে ‘সলাতকে মেরে ফেলা’, ‘পূর্বদিক মারা যাওয়া’, ‘সূর্য হলুদ হওয়া’ ‘মুনাফিক্বরা অপেক্ষা করতে থাকে’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দ্বারা আসরের সলাতকে বিশেষভাবে বুঝানো হয়েছে।