hadith book logo

আসরের সলাতের সঠিক ওয়াক্ত

লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫৫

সৌদি প্রবাসী হানাফী আলেম-১:

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

আল-হামদুলিল্লাহি রবিবল আলামীন, ওয়াস্ সলাতু ওয়াস সালামু আলা আশরাফিল আম্বিয়া-ই ওয়াল মুরসালীন, নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ওয়া আলিহি ওয়া আসহাবিহি আজমাঈন, আম্মা বা‘দ।

সুপ্রিয় দর্শক শ্রোতা ভাই ও বোনেরা,

আমাদের দেশে সম্প্রতি আসরের সলাত মাসজিদে গিয়ে জামাআতের সাথে আদায় করাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের বিভ্রান্তি এবং ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, কিছু লোকের মধ্যে। আর এ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে মূলত আসরের সলাতের ওয়াক্ত কখন শুরু হয় সেটাকে কেন্দ্র করে। আসরের সলাতের ওয়াক্ত ঠিক কখন শুরু হয়? এটা নিয়ে শত শত বছর ধরে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে প্রসিদ্ধ দুটি মত চলে আসছে।

এক শ্রেণির ওলামায়ে কেরামের মতে ঠিক দ্বিপ্রহরে মধ্য আকাশে যখন মাথা বরাবর সূর্য অবস্থান করে। ঐ সময় প্রতিটি বস্তুর যে ছায়া থাকে, সবচেয়ে ক্ষুদ্র আকারের ছায়া। যে ছায়াকে মূল ছায়া বলা হয়। ঐ ছায়াটি মূল ছায়ার পরে আরও বৃদ্ধি হতে হতে, দীর্ঘ হতে হতে, বড় হতে হতে যখন সংশ্লিষ্ট বস্তুর সমপরিমাণ হয়ে যায়, তখন আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর এ মতটি হলো ইমাম শাফেঈ ও আহমাদসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরামের।

আর অপর মতটি হল, সূর্য যখন মধ্য আকাশে অবস্থান করে তখন প্রতিটি বস্তুর যে মূল ছায়া থাকে, সে মূল ছায়া থেকে আরও বৃদ্ধি হতে হতে যখন ছায়াটি সংশ্লিষ্ট বস্তুর দ্বিগুণ পরিমাণ হয়ে যায়, তখন আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর এ মতটি হল, ইমাম আবূ হানীফা, ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম আবূ ইউসুফসহ অন্যান্য উলামায়ে কেরামের।

পর্যালোচনা-১: উক্ত বক্তব্যের জবাব আমরা আলেমদের থেকে জেনে নেব। সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘ফতহুল বারী’-তে হাফেয ইবনু হাজার (রহ) লিখেছেন:

وَقَدْ أَخْرَجَ مُسْلِمٌ عِدَّةَ أَحَادِيثَ مُصَرَّحَةً بِالْمَقْصُودِ وَلَمْ يُنْقَلْ عَنْ أَحَدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مُخَالَفَةٌ فِيْ ذَلِكَ إِلَّا عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ فَالْمَشْهُورُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ مَصِيرُ ظِلِّ كُلِّ شَيْءٍ مِثْلَيْهِ بِالتَّثْنِيَةِ قَالَ الْقُرْطُبِيُّ خَالَفَهُ النَّاسُ كُلُّهُمْ فِيْ ذَلِكَ حَتَّى أَصْحَابُهُ يَعْنِي الْآخِذِينَ عَنْهُ وَإِلَّا فَقَدِ انْتَصَرَ لَهُ جَمَاعَةٌ مِمَّنْ جَاءَ بَعْدَهُمْ فَقَالُوا ثَبَتَ الْأَمْرُ بِالْإِبْرَادِ وَلَا يَحْصُلُ إِلَّا بَعْدَ ذَهَابِ اشْتِدَادِ الْحَرِّ وَلَا يَذْهَبُ فِيْ تِلْكَ الْبِلَادِ إِلَّا بَعْدَ أَنْ يَصِيرَ ظِلُّ الشَّيْءِ مِثْلَيْهِ فَيَكُونُ أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ مَصِيرَ الظِّلِّ مِثْلَيْهِ وَحِكَايَةُ مِثْلِ هَذَا تُغْنِي عَنْ رده .

‘‘ইমাম মুসলিম (রহ) এই (এক ছায়ার পর আসরের ওয়াক্ত হওয়া) মর্মে একাধিক সুস্পষ্ট হাদীস বর্ণনা করেছেন। কোনো আলেম থেকে এর বিরোধী বক্তব্য নেই। তবে ইমাম আবূ হানীফা (রহ) থেকে প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে যে, আসরের ওয়াক্ত ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর শুরু হয়। ইমাম কুরতুবী (রহ) বলেছেন: সমস্ত মানুষ (আলেমগণ) তাঁর বিরোধিতা করেছেন, অর্থাৎ তাঁদের নিকট আসরের ওয়াক্ত এক ছায়া থেকে শুরু হয়ে যায়। এমনকি ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর দুই শিষ্যও তাঁর বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু ইমাম সাহেবের পরবর্তী অনুসারীরা তাঁর পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে বলেছেন: ইবরাদ বা ঠান্ডায় সলাত আদায় প্রমাণিত। আর কঠিন তাপ দূর না হওয়া পর্যন্ত ঠান্ডা হবে না এবং আরব দেশগুলোতে বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ না হওয়া পর্যন্ত তাপ দূর হয় না। অতএব প্রমাণিত হল, বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হলে আসরের সলাতের আওয়াল ওয়াক্ত শুরু হয়।- এ ধরনের আলোচনা জবাব নিস্প্রয়োজন। ’’ [. ফতহুল বারী ২/২৫ পৃ. ৫৪৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা দ্র.।]

বুঝা গেল সৌদি প্রবাসী হানাফী আলেম আমাদেরকে যে তথ্য দিয়েছেন তা সত্য নয়। বরং ইমাম আবূ হানাফী ছাড়া সবাই এর বিরোধিতা করেছেন, এমনকি তাঁর দুই শিষ্য ইমাম আবূ ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) । সুতরাং বক্তা প্রথমেই ভুল তথ্য দিয়ে মাসআলাটি শুরু করেছেন। আমরা পূর্বে হানাফী ফিক্বহ ‘আল-হিদায়া’ থেকে এটা নিশ্চিতভাবে জেনেছি যে, ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম আবূ ইউসুফের মতে আসরের ওয়াক্ত হলো বস্তুর ছায়া সমপরিমাণ হলে। [. এই বইয়ের ‘হাদীস-৫০’-এর আলোচনা দ্র.।] এ পর্যায়ে সৌদিপ্রবাসী হানাফী বক্তা কীভাবে বললেন, বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হলে আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়াটা উক্ত ইমামদ্বয়ের মত? আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্য গোপন করা থেকে হেফাযত করুন।