hadith book logo

আসরের সলাতের সঠিক ওয়াক্ত

লেখকঃ কামাল আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬২

সৌদি প্রবাসী হানাফী আলেম-৮:

তা হলে এই আলোচনাটি থেকে মোটামোটি পরিষ্কার হলো যে, নবী (স)-এর হাদীসে যে একাকি সলাত আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং জামাআত ত্যাগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বা জামাআতকে ঐচ্ছিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, সেটি ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে ছিল। আর আমাদের দেশের প্রসঙ্গটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

পর্যালোচনা-৮: আমরা পূর্বে প্রমাণ করেছি-

ক) যোহরের সলাতকে অত্যধিক গরমের জন্য এক ছায়া বা আসরের পূর্ব পর্যন্ত দেরি করা যায়।

খ) মাগরিব জামাআতকে ইফতার করার জন্য দেরি করা যায়।

গ) ইশার সলাত দেরিতে আদায় করাটাই মুস্তাহাব। বিশেষ করে লোকজন কম হলে।

ঘ) সফরে যোহরের সলাতকে আসর পর্যন্ত বিলম্ব করা যায়। অথচ আসর বিলম্বে নয় বরং অগ্রে পড়া যায়।

উপরের আলোচনাতে প্রমাণিত হল, সাধারণভাবে আসরের সলাতকে দেরিতে আদায়ের প্রমাণ নেই। বরং সূর্য তেজযুক্ত থাকতে এবং হলুদ হওয়ার অনেক পূর্বে আদায় করতে হয়। অথচ অন্য সলাতের ক্ষেত্রে দেরিতে আদায় করার শরিআতি শর্তই রয়েছে। পক্ষান্তরে হানাফী মাযহাবে আসরকে দেরিতে আদায় করাকে মুস্তাহাব গণ্য করা হয়েছে। যা বিশেষ ওজর ছাড়া দেরি করা মুনাফেক্বী।

সুস্পষ্ট হলো, আসরের সলাত দেরিতে আদায় শাসকদের কারণেই হোক বা আলেমদের ফাতওয়ার কারণেই হোক- উভয় অবস্থাতেই নবী (স) থেকে পাওয়া নির্দেশনাগুলো প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ প্রথমে একাকী পড়ে নেবে, পরে ইচ্ছা হলে বা বাধ্য করা হলে জামাআতে পড়ে নেবে।