hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

১১তম অধ্যায়: যে স্থানে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে [পশু] যবেহ করা হয় সে স্থানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে যবেহ করা শরীয়ত সম্মত নয়

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا . ( التوبة : ১০৮)

‘‘হে নবী, আপনি কখনো সেখানে দাঁড়াবেন না।’’ তাওবাহ . ১০৮)

২। সাহাবী ছাবিত বিন আদ্দাহহাক রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,

نذر رجل أن ينحر إبلا ببوانة، فسأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال : هل كان فيها وثن من أوثان الجاهلية يعبد؟ قالوا : لا قال : فهل كان فيها عيد من أعيادهم قالو : لا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : أوف بنذرك، فإنه لا وفاء لنذر فى معصية الله، ولافيما لا يملك ابن آدم . ( رواه أبو داود وإسناده على شرطهما )

এক ব্যক্তি বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার জন্য মান্নত করল। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘সে স্থানে

ব্যাখ্যা

যে স্থানে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে কিছু যবেহ করা হয় সেখানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা শরীয়ত সম্মত নয়। এ অধ্যায়টি পূর্বোক্ত অধ্যায়ের পরপরই সন্নিবেশিত করা উত্তম হয়েছে। কারণ পূর্বের অধ্যায়টিতে উদ্দেশ্য এবং এ অধ্যায়ে তার মাধ্যমগুলো আলোচনা করা হয়েছে। পূর্বের অধ্যায়টি ছিল শিরকে আকবারের অন্তর্ভুক্ত। আর এ অধ্যায়টিতে শিরকের নিকটবর্তী মাধ্যম গুলোর কথা আলোচিত হয়েছে।

যে স্থানে মুশরিকরা তাদের দেব-দেবীর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করে সে স্থানটি

এমন কোন মূর্তি ছিল কি, জাহেলি যুগে যার পূজা করা হতো’’ সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘না,। তিনি বললেন, ‘‘সে স্থানে কি তাদের কোন উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হতো? ‘‘তাঁরা বললেন, ‘না’ [অর্থাৎ এমন কিছু হতোনা] তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি তোমার মান্নত পূর্ণ করো।’’ তিনি আরো বললেন, ‘‘আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজে মান্নত পূর্ণ করা যাবে না। আদম সন্তান যা করতে সক্ষম নয় তেমন মান্নতও পূরা করা যাবে না। (আবু দাউদ)

এ অধ্যায় থেকে যে সব বিষয় জানা যায় তা নিম্নরূপঃ

১। لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًاا এর তাফসীর।

২। দুনিয়াতে যেমনি ভাবে পাপের [ক্ষতিকর] প্রভাব পড়তে পারে, তেমনিভাবে [আল্লাহর] আনুগত্যের [কল্যাণময়] প্রভাবও পড়তে পারে।

৩। দুর্বোধ্যতা দূর করার জন্য কঠিন বিষয়কে সুস্পষ্ট ও সহজ বিষয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।

৪। প্রয়োজন বোধে ‘‘মুফতী’’ জিজ্ঞাসিত বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ [প্রশ্ন কারীর কাছে] চাইতে পারেন।

৫। মান্নতের মাধ্যমে কোন স্থানকে খাস করা কোন দোষের বিষয় নয়, যদি তাতে শরিয়তের কোন বাধা-বিপত্তি না থাকে।

৬। জাহেলি যুগের মূর্তি থাকলে তা দূর করার পরও সেখানে মান্নত করতে নিষেধ করা হয়েছে।

৭। জাহেলি যুগের কোন উৎসব বা মেলা কোন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়ে

শিরকের নিদর্শনে [তাদের ভাষায় পূণ্য লাভের স্থানে] পরিণত হয়। কারণ এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেব-দেবীর নৈকট্য লাভ করা এবং আল্লাহর সাথে শরিক করা। এ কারণেই যদি কোন মুসলমান আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার নিয়তেও উক্ত স্থানে পশু যবেহ করে, তবু তা হবে মুশরিকদের অনুরূপ কাজ এবং মুশরিকদের দৃষ্টিতে তাদের পূণ্যময় স্থানের অংশীদার। মুশরিকদের কোন কাজের সাথে বাহ্যিক মিল, অধিকন্তু তাদের সাথে আভ্যন্তরীন মিল এবং তাদের প্রতি আসক্তিরই পরিচায়ক।

থাকলে, তা বন্ধ করার পরও সেখানে মান্নত করা নিষিদ্ধ।

৮। এসব স্থানের মান্নত পূরণ করা জায়েজ নয়। কেননা এটা অপরাধমূলক কাজের মান্নত।

৯। মুশরিকদের উৎসব বা মেলার সাথে কোন কাজ সাদৃশ্যপূর্ণ ও সামঞ্জস্যশীল হওয়ার ব্যাপারে খুব সাবধান থাকতে হবে।

১০। পাপের কাজে কোন মান্নত করা যাবে না।

১১। যে বিষয়ের উপর আদম সন্তানের কোন হাত নেই সে বিষয়ে মান্নত পূরা করা যাবে না।

এ কারণেই ‘শারে’ অর্থাৎ শরিয়তের বিধান দাতা, কাফেরদের নিদর্শন তাদের প্রকৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাদের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে মিল ও সামঞ্জস্য রাখতে নিষেধ করেছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলমানদেরকে কাফের ও মুশরিকদের এমন সব সাদৃশ্যমূলক বিষয় থেকে দূরে রাখা, যেগুলো তাদের প্রতি আকর্ষণ ও আসক্তির দিকে ধাবিত করে। এমনকি মুশরিকরা যে সময় গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদা করতো, বিজাতীয় অনুকরণের আশংকায় সে সময় নফল নামায পড়তে [মুসলমানদেরকে] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন।