hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৩

৪০তম অধ্যায়: আল্লাহর ‘আসমা ও সিফাত’ [নাম ও গুণাবলি] অস্বীকারকারীর পরিণাম

১। আল্লহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ ( الرعد : ৩০)

‘‘এবং তারা রহমান [আল্লাহর গুণবাচক নাম] কে অস্বীকার করে।’’ (রা’দ: ৩০)

২। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদিসে আলী রা. বলেন,

حدثوا الناس بما يعرفون، أتريدون أن يكذب الله ورسوله .

‘‘লোকদেরকে এমন কথা বলো, যা দ্বারা তারা [আল্লহ ও রাসূল সম্পর্কে সঠিক কথা জানতে পারে। তোমরা কি চাও যে, আল্লহ এবং তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?’’

৩। ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, আল্লহর গুণাবলি সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম থেকে একটি হাদিস শুনে এক ব্যক্তি আল্লহর গুণকে অস্বীকার করার জন্য একদম ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল তখন

ব্যাখ্যা

ঈমানের মূল ভিত্তি এবং তা যে নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তা হচ্ছে, আল্লহর প্রতি ঈমান আনা। বান্দার জ্ঞান ও ঈমান যখনই উপরোক্ত নীতির ভিত্তিতে শক্তিশালী হয় আর আল্লহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করে, তখন তার তাওহীদ ও শক্তিশালী হয়। তারপর বান্দা যখন জানতে পারে যে, আল্লহ তাআলা সিফাতে কামাল, বা পরিপূর্ণ গুণাবলির ক্ষেত্রে এক ও অনন্য, তিনি শ্রেষ্ঠত্ব, মহত্ত্ব এবং সৌন্দর্যের দিক দিয়েও একক, তাঁর কামালিয়াত অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গতার ক্ষেত্রে কোন দৃষ্টান্ত ও নজির নেই, তখন এ কথা জেনে নেয়া এবং নিশ্চিত হওয়া বান্দার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, তিনিই হচ্ছেন ইলাহে হক (সত্য ইলাহ) এবং তাঁর উলুহিয়্যাত ব্যতীত যাবতীয় উলুহিয়্যাত বাতিল। অতএব যে ব্যক্তি আল্লহর কোন ইসম ও সিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণ অস্বীকার

তিনি বললেন, এরা এ উভয়ের মধ্যে পার্থক্য কি করে করল? তারা মুহকামের [বা সুস্পষ্ট] আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখালো, আর মুতাশাবাহ [অস্পষ্ট আয়াত ও হাদিসের ক্ষেত্রে ] ধ্বংসাত্মক পথ অবলম্বন করল?’’

কুরাইশরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালম এর কাছে [আল্লহর গুণবাচক নাম] ‘রাহমানের] উল্যেখ করতে শুনতে পেলো, তখন তারা ‘রাহমান’ গুণটিকে অস্বীকার করল এ প্রসঙ্গেই وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ আয়াতটি নাজিল হয়েছে।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .

১& আল্লহর কোন নাম ও গুণ অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে ঈমান না থাকা।

২। সূরা রাদের وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَنِ এর তাফসীর।

৩। যে কথা শ্রোতার বোধগম্য নয়, তা পরিহার করা।

৪। অস্বীকারকারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেসব কথা আল্লহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দিকে নিয়ে যায়, এর কারণ কি? তার উল্লেখ।

৫। ইবনে আববাস (রা.) এর বক্তব্য হচ্ছে, আল্লহর নাম ও গুণাবলির কোন একটি অস্বীকারকারীর ধ্বংস অনিবার্য।

করল, সে এমন কাজই করল যা তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং পরিপন্থী। আর এ কাজটি হচ্ছে কুফরির অন্তর্ভুক্ত।