১
তাওহীদের মর্মকথা
লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৮
৩৫তম অধ্যায়: তাকদীরের [ফয়সালার] উপর ধৈর্য ধারণ করা ঈমানের অঙ্গ
১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,
وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ . ( التغابن :১১)
‘‘ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান আনে, তার অন্তরকে তিনি হেদায়াত দান করেন।’’ (তাগাবুনঃ ১১)
২। আলকামা রা. বলেছেন, ঐ ব্যক্তিই মোমিন, যে ব্যক্তি বিপদ আসলে মনে করে তা আল্লহর পক্ষ থেকে এসেছে। এর ফলে সে বিপদগ্রস্ত হয়েও সন্তুষ্ট থাকে এবং বিপদকে খুব সহজেই স্বীকার করে নেয়।
৩। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম এরশাদ করেছেন,
‘‘মানুষের মধ্যে এমন দু’টি [খারাপ] স্বভাব রয়েছে যার দ্বারা তাদের কুফরি প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে, বংশ উলেখ করে খোটা দেয়া, আর একটি হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।’’
৪। ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. হতে মারফু হাদিসে বর্ণনা করেন,
ব্যাখ্যা
ভাগ্যের [তাকদীরের] উপর ধৈর্য ধারণ ঈমানের অঙ্গ।
আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণের বিষয়টি সবার কাছে সুস্পষ্ট। উপরোক্ত দু’টি বিষয়ই ঈমানের অঙ্গ। এমনকি এ দুটি বিষয়ই ঈমানের ভিত্তি। ঈমানের সব কিছুই হচ্ছে আল্লহ যা পছন্দ করেন, যাতে
إذاأراد الله بعبده الخير عجل له العقوبة فى الدنيا، وإذا أراد بعبده الشر أمسك عنه بذنبـــه حتى يوافى به يوم القيامة .
‘‘আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর কোন বান্দার মঙ্গল করতে চান, তখন তাড়াতাড়িকরে দুনিয়াতেই তার [অপরাধের] শাস্তি দিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে তিনি যখন তাঁর কোন বান্দার অমঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতে তার পাপের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকনে, যেন কেয়ামতের দিন তাকে পুরো শাস্তি দিতে পারেন।
৫। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম এরশাদ করেছেন,
إن عظم الجزاء مع عظم البلاء، وإن الله تعالى إذا أحب قوما ابتلاهم، فمن رضي فله الرضا، ومن سخط فله السخط . حسنه الترمذي
‘‘পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরস্কার তত বড় হয়।’’ আল্লাহ তা’আলা যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি পরীক্ষা করেন। এতে যে ব্যক্তি সন্তুষ্টি থাকে, তার উপর আল্লাহ ও সন্তুষ্ট থাকেন। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার প্রতি আল্লাহও অসন্তুষ্ট থাকেন। (তিরমিযী)
তিনি সন্তুষ্ট থাকেন এবং যাতে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা যায়, তার উপর ধৈর্য ধারণ করা। সাথে সাথে যাবতীয় হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা।
দীন তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
এক . আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সংবাদ বা তাঁর বাণীর স্বীকৃতি প্রদান করা।
দুই . আল্লহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালন করা।
তিন . আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা।
অতএব, আল্লাহ তাআলার ফয়সালাকৃত তাকদীরের কোন দুঃখজনক অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা। এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করা এবং তদনুযায়ী আমল করা খুবই জুরুরি বিধায় বিষয়টি এখানে খাসভাবে উলেখ করা হয়েছে।
বান্দা যখন এ কথা জানতে পারবে যে, আল্লাহর হুকুমেই মুসীবত আসে,
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সূরা তাগাবুন এর ১১ নং আয়াতের তাফসীর।
২। বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অঙ্গ।
৩। কারো বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া বা দুর্নাম করা কুফরির শামিল।
৪। যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে, গাল- চাপড়ায়, জামার আস্তিন ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলি যুগের কোন রীতি নীতির প্রতি আহবান জানায়, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।
৫। বান্দার মঙ্গলের প্রতি আল্লাহর ইচ্ছার নিদর্শন।
৬। বান্দার প্রতি আল্লহর অমঙ্গলেচ্ছার নিদর্শন।
৭। বান্দার প্রতি আল্লহর ভালোবাসার নিদর্শন।
৮। আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া হারাম।
৯। বিপদে আল্লহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার সওয়াব।
তাকদীরের মধ্যে আল্লাহ তাআলা হিকমত নিহিত রেখেছেন এবং তাকদীরে নির্ধারিত মুসীবতের মধ্যেই বান্দার জন্য আল্লহর নেয়ামত নিহিত আছে, তখন সে আল্লাহ তাআলার ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হবে। তাঁর নির্দেশকে মেনে নিবে এবং দুঃখ কষ্টে ধৈর্য ধারণ করবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লহর তাআলার নৈকট্য লাভ করা সওয়াব লাভের আকাঙ্ক্ষা করা, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা এবং উত্তম চরিত্র গঠনের সুযোগ গ্রহণ করা। এর ফলে বান্দাহর অন্তর প্রশান্তি লাভ করবে এবং তার ঈমান ও তাওহীদ শক্তিশালী হবে।
وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ . ( التغابن :১১)
‘‘ যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান আনে, তার অন্তরকে তিনি হেদায়াত দান করেন।’’ (তাগাবুনঃ ১১)
২। আলকামা রা. বলেছেন, ঐ ব্যক্তিই মোমিন, যে ব্যক্তি বিপদ আসলে মনে করে তা আল্লহর পক্ষ থেকে এসেছে। এর ফলে সে বিপদগ্রস্ত হয়েও সন্তুষ্ট থাকে এবং বিপদকে খুব সহজেই স্বীকার করে নেয়।
৩। সহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম এরশাদ করেছেন,
‘‘মানুষের মধ্যে এমন দু’টি [খারাপ] স্বভাব রয়েছে যার দ্বারা তাদের কুফরি প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে, বংশ উলেখ করে খোটা দেয়া, আর একটি হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা।’’
৪। ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইবনে মাসউদ রা. হতে মারফু হাদিসে বর্ণনা করেন,
ব্যাখ্যা
ভাগ্যের [তাকদীরের] উপর ধৈর্য ধারণ ঈমানের অঙ্গ।
আল্লাহর আনুগত্য করা এবং তাঁর নাফরমানি থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণের বিষয়টি সবার কাছে সুস্পষ্ট। উপরোক্ত দু’টি বিষয়ই ঈমানের অঙ্গ। এমনকি এ দুটি বিষয়ই ঈমানের ভিত্তি। ঈমানের সব কিছুই হচ্ছে আল্লহ যা পছন্দ করেন, যাতে
إذاأراد الله بعبده الخير عجل له العقوبة فى الدنيا، وإذا أراد بعبده الشر أمسك عنه بذنبـــه حتى يوافى به يوم القيامة .
‘‘আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর কোন বান্দার মঙ্গল করতে চান, তখন তাড়াতাড়িকরে দুনিয়াতেই তার [অপরাধের] শাস্তি দিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে তিনি যখন তাঁর কোন বান্দার অমঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতে তার পাপের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকনে, যেন কেয়ামতের দিন তাকে পুরো শাস্তি দিতে পারেন।
৫। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম এরশাদ করেছেন,
إن عظم الجزاء مع عظم البلاء، وإن الله تعالى إذا أحب قوما ابتلاهم، فمن رضي فله الرضا، ومن سخط فله السخط . حسنه الترمذي
‘‘পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরস্কার তত বড় হয়।’’ আল্লাহ তা’আলা যখন কোন জাতিকে ভালোবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি পরীক্ষা করেন। এতে যে ব্যক্তি সন্তুষ্টি থাকে, তার উপর আল্লাহ ও সন্তুষ্ট থাকেন। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার প্রতি আল্লাহও অসন্তুষ্ট থাকেন। (তিরমিযী)
তিনি সন্তুষ্ট থাকেন এবং যাতে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা যায়, তার উপর ধৈর্য ধারণ করা। সাথে সাথে যাবতীয় হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করা।
দীন তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
এক . আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সংবাদ বা তাঁর বাণীর স্বীকৃতি প্রদান করা।
দুই . আল্লহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ পালন করা।
তিন . আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা।
অতএব, আল্লাহ তাআলার ফয়সালাকৃত তাকদীরের কোন দুঃখজনক অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা। এ বিষয়টি ভালভাবে অনুধাবন করা এবং তদনুযায়ী আমল করা খুবই জুরুরি বিধায় বিষয়টি এখানে খাসভাবে উলেখ করা হয়েছে।
বান্দা যখন এ কথা জানতে পারবে যে, আল্লাহর হুকুমেই মুসীবত আসে,
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .
১। সূরা তাগাবুন এর ১১ নং আয়াতের তাফসীর।
২। বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অঙ্গ।
৩। কারো বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া বা দুর্নাম করা কুফরির শামিল।
৪। যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে, গাল- চাপড়ায়, জামার আস্তিন ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলি যুগের কোন রীতি নীতির প্রতি আহবান জানায়, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।
৫। বান্দার মঙ্গলের প্রতি আল্লাহর ইচ্ছার নিদর্শন।
৬। বান্দার প্রতি আল্লহর অমঙ্গলেচ্ছার নিদর্শন।
৭। বান্দার প্রতি আল্লহর ভালোবাসার নিদর্শন।
৮। আল্লাহর প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া হারাম।
৯। বিপদে আল্লহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার সওয়াব।
তাকদীরের মধ্যে আল্লাহ তাআলা হিকমত নিহিত রেখেছেন এবং তাকদীরে নির্ধারিত মুসীবতের মধ্যেই বান্দার জন্য আল্লহর নেয়ামত নিহিত আছে, তখন সে আল্লাহ তাআলার ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হবে। তাঁর নির্দেশকে মেনে নিবে এবং দুঃখ কষ্টে ধৈর্য ধারণ করবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লহর তাআলার নৈকট্য লাভ করা সওয়াব লাভের আকাঙ্ক্ষা করা, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা এবং উত্তম চরিত্র গঠনের সুযোগ গ্রহণ করা। এর ফলে বান্দাহর অন্তর প্রশান্তি লাভ করবে এবং তার ঈমান ও তাওহীদ শক্তিশালী হবে।