hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৯

৬৬তম অধ্যায়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ এবং শিরকের মূলোৎপাটন

১& আবদুলহ বিন আশশিখখির রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি বনী আমেরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এর নিকট গেলাম। আমরা তাকে উদ্দেশ্য করে বললাম, أنت سيدنا [আপনি আমাদের প্রভু] তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম বললেন, تبارك وتعالى السيد الله [আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন প্রভু]। আমরা বললাম, ‘আমাদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল ও ধৈর্যশীল।’ এরপর তিনি বললেন,

قولوا بقولكم أو بعض قولكم ولا يستجرينكم الشيطان .

‘‘ তোমরা তোমাদের বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদের উপর সওয়ার না হতে পারে।’’ (আবু দাউদ)

২। আনাস রা. থেকে বর্ণিত ছে, কতিপয় লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমকে লক্ষ্য করে বলল, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল, কে আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি, এবং আমাদের প্রভু তনয়’’ তখন তিনি বললেন,

يا أيها الناس : قولوا بقولكم ولا يستهوينكم الشيطان .

ব্যাখ্যা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ এবং শিরকের মূলোৎপাটন।

এ অধ্যায়ের সাদৃশ্য পূর্ণ অধ্যায় ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। লেখক বিষয়টির অধিক গুরুত্বের কারণে এর পুনরাবৃত্তি করেছেন। কারণ মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করে এমন যাবতীয় পথ সম্পূর্ণ রূপে পরিত্যাগ করা ব্যতীত বান্দার তাওহীদ পরিপূর্ণ হবে না, সংরক্ষিতও হবে না। দু’টি অধ্যায়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এই যে, প্রথম অধ্যায়টিতে যেসব কর্মকান্ড দ্বারা শিরক হয় সে সব কর্মকান্ডের পথ বন্ধ করার মাধ্যমে তাওহীদকে রক্ষা করা। আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি হচ্ছে, কথা এবং আচার- আচরণের মাধ্যমে শিরকের যাবতীয় পথ বন্ধ করা এবং তাওহীদকে হেফাজত করা।

أنا محمد عبد الله ورسوله، ما أحب أن ترفعونى فوق منزلتى التى أنزلنى الله عز وجل .

হে লোক সকল, তোমরা তোমাদের কথা বলে যাও। শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতে না পারে। আমি হচ্ছি মুহাম্মদ, আল্লাহর বান্দা এবং তার রাসূল। আল্লাহ তাআলা আমাকে যে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, তোমরা এর ঊর্ধ্বে আমাকে স্থান দেবে এটা আমি পছন্দ করি না। (নাসায়ী)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .

১। দ্বীনের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করার জন্য মানুষের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ।

২। ‘আপনি আমাদের প্রভু বা মনিব’ বলে সম্বোধন করা হলে জবাবে তার কি বলা উচিত, এ ব্যাপারে জ্ঞান লাভ।

৩। লোকেরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এর প্রতি সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপারে কিছু কথা বলার পর তিনি বলেছিলেন, ‘‘শয়তান যে তোমাদের উপর চড়াও না হয়।’’ অথচ তারা তাঁর ব্যাপারে হক কথাই বলেছিল। এর তাৎপর্য অনুধাবন করা।

৪। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এর বাণী ما أحب أن ترفعونى فوق منـزلتى অর্থাৎ তোমরা আমাকে স্বীয় মর্যাদার উপরে স্থান দাও এটা আমি পছন্দ করি না। একথার তাৎপর্য উপলব্ধি করা।

অতএব, যে সব কথা এমন বাড়বাড়ি মূলক কাজের দিকে বান্দাকে ধাবিত করে যা দ্বারা শিরকে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা পরিত্যাগ করা অপরিহার্য। এসব কথা পরিত্যাগ করা ব্যতীত তাওহীদ পরিপূর্ণ হয় এর শর্তাবলি পূরণের মাধ্যমে, এর আরকান এবং অন্যান্য যাবতীয় সম্পূরক কার্যাবলী সম্পাদনের মাধ্যমে। সাথে সাথে জাহেরী-বাতেনী কথা, কাজ, ইচ্ছা এবং ধ্যান- ধারণার দিক থেকে তাওহীদের বিপরীত বিষয়গুলো পরিত্যাগ করার মাধ্যমে বান্দার তাওহীদ পরিপূর্ণ হয়।