hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪৪

৪১তম অধ্যায়: আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন

يَعْرِفُونَ نِعْمَةَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ ﴿النحل :৮৩﴾

‘‘তারা আল্লহর নেয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে।’’ (নাহল : ৮৩)

এর মর্মার্থ বুঝাতে মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি।’ আ’উন ইবনে আবদিল্লহ বলেন, ‘এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা, ‘অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হতো না।’ ইবনে কুতাইবা এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মুশরিকরা বলে, ‘‘এটা হয়েছে আমাদের ইলাহদের সুপারিশের বদৌলতে।’’

আবু আববাস যায়েদ ইবনে খালেদের হাদিসে- যাতে একথা আছে, ‘আল্লহ তা’আলা বলেন,

أصبح من عبادى مؤمن بى وكافر

ব্যাখ্যা

আল্লহর নেয়ামত জেনে শুনে অস্বীকার করার পরিণাম:

ঘোষণা এবং স্বীকৃতির মাধ্যমে যাবতীয় নেয়ামতকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করাই মাখলুকের কর্তব্য। এর মাধ্যমেই [বান্দার] তাওহীদ পূর্ণতা লাভ করে্ যে ব্যক্তি অন্তর এবং জবানের দ্বারা আল্লাহর নেয়ামতকে অস্বীকার করল, সেই কাফের। তার মধ্যে দ্বীনের কিছুই অবশিষ্ট নেই। যে ব্যক্তি অন্তরে এ কথা স্বীকার করে যে, সব নেয়ামতই আল্লহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, কিন্তু মৌখিকভাবে কখনো সে উক্ত নেয়ামতকে আল্লহর সাথে সম্পৃক্ত করে, আবার কখনো নেয়ামতকে নিজের সাথে, নিজ কর্মের সাথে, কোন সময় অন্যের চেষ্টা সাধনার সাথে সম্পৃক্ত করে যেমনটি বহু মানুষের মুখে- মুখে প্রচলিত আছে। এমতাবস্থায় বান্দার অনিবার্য করণীয় হচ্ছে এ রকম [শির-কী] কাজ করার জন্য তাওবা করা আর নেয়ামতের মালিক ব্যতীত অন্য কারো সাথে সম্পৃক্ত না করা এবং তাওহীদের উপর দৃঢ় থাকার জন্য চেষ্টা সাধনা করা। ঘোষণা ও স্বীকৃতির মাধ্যমে

‘‘আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয় মোমিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয় কাফির অবস্থায়’’- উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নায় উলেখ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি নেয়ামত দানের বিষয়টি গাইরুলহর সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্লহর সাথে কাউকে শরিক করে, আল্লহ তার নিন্দা করেন।

উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালাফে- সালেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতই, ‘অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকুল বাতাস, আর মাঝির বিচক্ষণতা’ এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষেরমুখে বহুল প্রচলিত।

এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় :

১। নেয়ামত সংক্রান্ত জ্ঞান এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা।

২। জেনে- শুনে আল্লহর নেয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।

৩। মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত এসব কথা আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।

৪। অন্তরে দুটি বিপরীতধর্মী বিষয়ের সমাবেশ।

যাবতীয় নেয়ামতকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা ব্যতীত বান্দার ঈমান ঠিক হবে না। কেননা আল্লহর শুকরিয়া জ্ঞাপন, যা হচ্ছে ঈমানের মূল বিষয়, তা তিনটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত ।

এক . বান্দা তার নিজের উপর এবং অন্যের উপর আল্লাহর যেসব নেয়ামত আছে, অন্তর দিয়ে সেগুলোর স্বীকৃতি দেবে।

দুই . নেয়ামতের আলোচনা করবে এবং এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করবে।

তিন . নিয়ামত দানকারীর আনুগত্য করবে এবং তাঁরই ইবাদতের জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করবে।