১
তাওহীদের মর্মকথা
লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৮
২৫তম অধ্যায়: যাদু এবং যাদুর শ্রেণীভূক্ত বিষয়
১। কুতুন বিন কুবাইসা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছেন,
إن العيافة والطرق والطيرة من الجبت .
‘‘নিশ্চয়ই ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ হচ্ছে ‘জিবত’ এর অন্তর্ভুক্ত।
আউফ বলেছেন, ‘ইয়াফা’ হচ্ছে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করা। ‘তারক’ হচ্ছে মাটিতে রেখা টেনে ভাগ্য গণনা করা। হাসান বলেছেন, ‘জিবত’ হচ্ছে শয়তানের মন্ত্র। এ বর্ণনার সনদ সহীহ (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু হিববান)
২। ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
من اقتبس شعبة من النجوم فقد اقتبس شعبة من السحر . ( رواه أبوداود )
‘‘যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু অংশ শিখলো সে মূলত: যাদুবিদ্যারই কিছু অংশ শিখলো। এ [জ্যোতির্বিদ্যা] যত বাড়বে ঐাদবিদ্যাও তত বাড়বে।’’ (আবু দাউদ)
ব্যাখ্যা
যাদুকে তাওহীদের অধ্যায়ে শামিল করার কারণ হচ্ছে, এমন অনেক যাদু আছে যেগুলো শিরক ব্যতীত কার্যকর করা সম্ভব নয়। আবার শয়তানী আত্মার অসীলা ব্যতীত যাদুকরের স্বার্থ অর্জিত হয় না। তাই কম হোক আর বেশিই হোক যাদুবিদ্যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা ব্যতীত বান্দার তাওহীদ পরিপূর্ণ হবে না। একজনই ‘শারে’ অর্থাৎ শরিয়তের বিধানদাতা যাদুকে শিরকের সাথে সংযুক্ত করেছে।
যাদু দুটি কারণে শিরকের অন্তর্ভুক্তঃ
১। যাদু বিদ্যায় শয়তানকে ব্যবহার করা হয়। তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
৩। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে
من عقد عقدة ثم نفث فيها فقد سحر، ومن سحر فقد أشرك : ومن تعلق شيئا وكل إليه .
‘‘যে ব্যক্তি গিরা লাগায় অতঃপর তাতে ফুঁক দেয় সে মূলত: ঐাদকরে। আর যে ব্যক্তি ঐাদকরে সে মূলত: শিরক করে আর যে ব্যক্তি কোন জিনিস [তাবিজ-কবজ] লটকায় তাকে ঐ জিনিসসের দিকেই সোপর্দ করা হয়। (নাসায়ী)
৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
ألا هل أنبئكم ما العضة؟ هى النميمة، القالة بين الناس . ( رواه مسلم )
‘‘আমি কি তোমাদেরকে ঐাদকি-এ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হচ্ছে চোগোলখুরী বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ মানুষের মধ্যে কথা-লাগানো বা বদনাম ছড়ানো।’’ (মুসলিম)
কোন কোন সময় শয়তান যেসব কাজ পছন্দ করে সে সব কাজ সম্পাদন করে তার নৈকট্য লাভ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শয়তান যেন যাদুকরের কাজ করে দেয় এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলে সচেষ্ট হয়।
২। ঐাদবিদ্যায় এলমে গায়েবের দাবি করা হয়, যাদুকরের জ্ঞান ও যাদুবিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার অংশীদারিত্বের দাবি করা হয়, এটা নিঃসন্দেহে শিরক এবং কুফরির অন্তর্ভুক্ত।
তাছাড়াও যাদুকে কার্যকর করতে গেলে অনেক হারাম ও ঘৃণ্য কার্যকলাপের আশ্রয় নিতে হয় যেমনঃ হত্যা করা, কাউকে বশ করা, জ্ঞানশূন্য করে ফেলা ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে নিকৃষ্ট এবং ঘৃণ্যতম কাজ। যাদুকরের জঘন্য ক্ষতিকর ও শান্তি শৃংখলা বিনষ্টকারী কার্যকলাপের কারণেই তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
যাদুর শ্রেণীভূক্ত আরেকটি বিষয় অনেক মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়, তা হচ্ছে চোগলখুরী বা কুৎসা রটনা করা। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, প্রিয়জনদের অন্তরে শক্রতা সৃষ্টি।
৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, إن من البيان لسحرا
নিশ্চয় কোন কোন কথার মধ্যে ঐাদআছে। (বুখারী ও মুসলিম)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ জিবতের অন্তর্ভূক্ত।
২। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’, এবং ‘তিয়ারাহ’ এর তাফসীর।
৩। জ্যোতির্বিদ্যা ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৪। ফুঁক সহ গিরা লাগানো ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৫। কুৎসা রটনা করা ঐাদুর শামিল।
৬। কিছু কিছু বাগ্মীতাও ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত ।
বিরাগ ও অবিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তরিক সম্পর্কের পরিবর্তন সাধন এবং মানুষের মধ্যে অমঙ্গল ও অশান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ঐাদুর সাথে চোগোলখুরীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
তাই যাদুবিদ্যা অনেক প্রকারের হয়ে থাকে-যার একটা থেকে আরেকটা অধিকতর হীন, নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য।
إن العيافة والطرق والطيرة من الجبت .
‘‘নিশ্চয়ই ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ হচ্ছে ‘জিবত’ এর অন্তর্ভুক্ত।
আউফ বলেছেন, ‘ইয়াফা’ হচ্ছে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনা করা। ‘তারক’ হচ্ছে মাটিতে রেখা টেনে ভাগ্য গণনা করা। হাসান বলেছেন, ‘জিবত’ হচ্ছে শয়তানের মন্ত্র। এ বর্ণনার সনদ সহীহ (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনু হিববান)
২। ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
من اقتبس شعبة من النجوم فقد اقتبس شعبة من السحر . ( رواه أبوداود )
‘‘যে ব্যক্তি জ্যোতির্বিদ্যার কিছু অংশ শিখলো সে মূলত: যাদুবিদ্যারই কিছু অংশ শিখলো। এ [জ্যোতির্বিদ্যা] যত বাড়বে ঐাদবিদ্যাও তত বাড়বে।’’ (আবু দাউদ)
ব্যাখ্যা
যাদুকে তাওহীদের অধ্যায়ে শামিল করার কারণ হচ্ছে, এমন অনেক যাদু আছে যেগুলো শিরক ব্যতীত কার্যকর করা সম্ভব নয়। আবার শয়তানী আত্মার অসীলা ব্যতীত যাদুকরের স্বার্থ অর্জিত হয় না। তাই কম হোক আর বেশিই হোক যাদুবিদ্যা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করা ব্যতীত বান্দার তাওহীদ পরিপূর্ণ হবে না। একজনই ‘শারে’ অর্থাৎ শরিয়তের বিধানদাতা যাদুকে শিরকের সাথে সংযুক্ত করেছে।
যাদু দুটি কারণে শিরকের অন্তর্ভুক্তঃ
১। যাদু বিদ্যায় শয়তানকে ব্যবহার করা হয়। তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।
৩। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে একটি হাদিসে বর্ণিত আছে
من عقد عقدة ثم نفث فيها فقد سحر، ومن سحر فقد أشرك : ومن تعلق شيئا وكل إليه .
‘‘যে ব্যক্তি গিরা লাগায় অতঃপর তাতে ফুঁক দেয় সে মূলত: ঐাদকরে। আর যে ব্যক্তি ঐাদকরে সে মূলত: শিরক করে আর যে ব্যক্তি কোন জিনিস [তাবিজ-কবজ] লটকায় তাকে ঐ জিনিসসের দিকেই সোপর্দ করা হয়। (নাসায়ী)
৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,
ألا هل أنبئكم ما العضة؟ هى النميمة، القالة بين الناس . ( رواه مسلم )
‘‘আমি কি তোমাদেরকে ঐাদকি-এ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হচ্ছে চোগোলখুরী বা কুৎসা রটনা করা অর্থাৎ মানুষের মধ্যে কথা-লাগানো বা বদনাম ছড়ানো।’’ (মুসলিম)
কোন কোন সময় শয়তান যেসব কাজ পছন্দ করে সে সব কাজ সম্পাদন করে তার নৈকট্য লাভ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শয়তান যেন যাদুকরের কাজ করে দেয় এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলে সচেষ্ট হয়।
২। ঐাদবিদ্যায় এলমে গায়েবের দাবি করা হয়, যাদুকরের জ্ঞান ও যাদুবিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার অংশীদারিত্বের দাবি করা হয়, এটা নিঃসন্দেহে শিরক এবং কুফরির অন্তর্ভুক্ত।
তাছাড়াও যাদুকে কার্যকর করতে গেলে অনেক হারাম ও ঘৃণ্য কার্যকলাপের আশ্রয় নিতে হয় যেমনঃ হত্যা করা, কাউকে বশ করা, জ্ঞানশূন্য করে ফেলা ইত্যাদি। এগুলো হচ্ছে নিকৃষ্ট এবং ঘৃণ্যতম কাজ। যাদুকরের জঘন্য ক্ষতিকর ও শান্তি শৃংখলা বিনষ্টকারী কার্যকলাপের কারণেই তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।
যাদুর শ্রেণীভূক্ত আরেকটি বিষয় অনেক মানুষের মধ্যেই পাওয়া যায়, তা হচ্ছে চোগলখুরী বা কুৎসা রটনা করা। মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, প্রিয়জনদের অন্তরে শক্রতা সৃষ্টি।
৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, إن من البيان لسحرا
নিশ্চয় কোন কোন কথার মধ্যে ঐাদআছে। (বুখারী ও মুসলিম)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়ঃ
১। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’ এবং ‘তিয়ারাহ’ জিবতের অন্তর্ভূক্ত।
২। ‘ইয়াফা’, ‘তারক’, এবং ‘তিয়ারাহ’ এর তাফসীর।
৩। জ্যোতির্বিদ্যা ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৪। ফুঁক সহ গিরা লাগানো ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত।
৫। কুৎসা রটনা করা ঐাদুর শামিল।
৬। কিছু কিছু বাগ্মীতাও ঐাদুর অন্তর্ভুক্ত ।
বিরাগ ও অবিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তরিক সম্পর্কের পরিবর্তন সাধন এবং মানুষের মধ্যে অমঙ্গল ও অশান্তি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ঐাদুর সাথে চোগোলখুরীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
তাই যাদুবিদ্যা অনেক প্রকারের হয়ে থাকে-যার একটা থেকে আরেকটা অধিকতর হীন, নিকৃষ্ট ও ঘৃণ্য।