hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬১

৫৮তম অধ্যায়: বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ

১। উবাই ইবনে কা’ব রা. থেকে বর্ণিত আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এরশাদ করেছেন,

لا تسبوا الريح، فإذا رأيتم ما تكرهون فقولوا :

‘‘ তোমরা বাতাসকে গালি দিয়ো না। তোমরা যদি বাতাসের মধ্যে তোমাদের অপছন্দনীয় কিছু প্রত্যক্ষ করো তখন তোমরা বলো,

أللهم إنا نسألك من خير هذه الريح وخير ما فيها، وخير ما أمرت به، ونعوذبك من شر هذه الريح، وشر ما فيها، وشر ما أمرت به . ( صحيح الترمذى )

‘‘হে আল্লাহ এ বাতাসের যা কল্যাণকর, এতে যে মঙ্গল নিহিত আছে এবং যতটুকু কল্যাণ করার জন্য সে আদিষ্ট হয়েছে ততটুকু কল্যাণ ও মঙ্গল আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করি। আর এ বাতাসের যা অনিষ্টকর, তাতে যে অমঙ্গল লুক্কায়িত আছে, এবং যতটুকু অনিষ্ট সাধনের ব্যাপারে সে

ব্যাখ্যা

বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ

এ অধ্যায়টি ইতিপূর্বের আলোচিত ‘যুগকে গালি দেয়া সংক্রান্ত’ অধ্যায়ের অনুরূপ। তবে আগের অধ্যায়টি ছিল, যে কোন কাল বা যুগে সংঘটিত যাবতীয় ঘটনাবলীর ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য। আর বর্তমান অধ্যায়টি হচ্ছে খাস করে বাতাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। বাতাসকে গালি দেয়া হারাম। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, গালি দান কারী ব্যক্তি জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেচনার ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল, যা বোকামিরই নামান্তর। কেননা বাতাস নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়, আল্লাহ তাআলার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও চালিকা শক্তির মাধ্যমে। তাই বাতাসকে গালিদাতার গালি মূলত, বাতাসের

আদিষ্ট হয়েছে তা [অমঙ্গল ও অনিষ্ঠতা] থেকে আমরা তোমার কাছে আশ্রয় চাই। [তিরমিযী হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন]

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .

১। বাতাসকে গালি দেয়া নিষেধ।

২। মানুষ যখন কোন অপছন্দনীয় জিনিস দেখবে তখন কল্যাণকর কথার মাধ্যমে দিক নির্দেশনা দান করবে।

৩। বাতাস আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট, একথার দিক নির্দেশনা।

৪। বাতাস কখনো কল্যাণ সাধনের জন্য আবার কখনো অকল্যাণ করার জন্য আদিষ্ট হয়।

পরিচালক ও নিয়ন্ত্রকের উপরই পতিত হয়। গালি দান কারী ব্যক্তি গালি দ্বারা যদি মনের মধ্যে উপরোক্ত অর্থ গ্রহণ না করে, তাহলে টা হবে আরো জঘন্য কাজ। অপরদিকে কোন মুসলিম তার অন্তরে উপরোক্ত অর্থ করতে পারে না।