hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬০

৫৭তম অধ্যায়: [বাক্যের মধ্যে ‘যদি’ ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা]

১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,

يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا ( آل عمران ১৫৪)

‘‘তারা বলে, ‘যদি’ এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না’’ (আল ইমরান . ১৫৪)

২। আল্লাহ তাআলা আরো এরশাদ করেছেন,

الَّذِينَ قَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا ( آل عمران : ১৬৮)

ব্যাখ্যা

বাক্যের মধ্যে ‘যদি’ ব্যবহার প্রসঙ্গ

বান্দা কর্তৃক বাক্যের মধ্যে ‘‘যদি’’ ( لو ) ব্যবহার দু’ধরনের।

এক . নিন্দনীয়। দুই . প্রশংসনীয়।

এক . ‘যদি’ শব্দের নিন্দনীয় ব্যবহার হচ্ছে, কোন বান্দার পক্ষে কিংবা বিপক্ষে তার অপছন্দনীয় কোন কিছু ঘটলে সে বলে, ‘আমি যদি এরকম করতাম তাহলে এমন হতো’। এর রকম বলা নিন্দনীয় এবং শয়তানের কাজ। কারণ, এর দু’টি ক্ষতিকর দিক আছে। একটি হচ্ছে, এরকম কথা বান্দার অনুতাপ, রাগ এবং দুশ্চিন্তার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, যা বন্ধ করে দেয়া উচিত। অপরটি হচ্ছে, এতে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বেয়াদবি প্রমাণিত হয়। কেননা ছোট- বড় যাবতীয় ঘটনাবলি আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ইঙ্গিতেই সংঘটিত হয়। যা সংঘটিত হয়েছে তা সংঘটিত হওয়ারই বিষয় ছিল, তা রোধ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাই ‘যদি এরকম হতো অথবা এরকম করতাম, তাহলে এমন হতো’ বান্দার এ

‘‘যারা ঘরে বসে থেকে [যুদ্ধে না গিয়ে তাদের [যোদ্ধা] ভাইদেরকে বলে, আমাদের কথা মতো যদি তারা চলতো। তবে তারা নিহত হতো না। (আল-ইমরান . ১৬৮)

৩। সহীহ বুখারীতে আয়েশা রা. হবে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন,

أحرص على ما ينفعك، واستعن بالله ولا تعجزنّ، وإن أصابك شئ فلا تقل : لو أننى فعلت كذا لكان كذا وكذا، ولكن قل : قدّر الله وما شاء فعل، فإن لو تفتح عمل الشيطان .

‘‘ যে জিনিস তোমার উপকার সাধন করবে, তার ব্যাপারে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও, আর কখনো অক্ষমতা প্রকাশ করো না। যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, তবে এ কথা বলো না, ‘যদি

ধরনের কথা আল্লাহর বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিবাদ এবং তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি ঈমানের দুর্বলতা।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, দোষনীয় উক্ত বিষয় দুটি পরিত্যাগ করা ব্যতীত বান্দার ঈমান ও তাওহীদ পরিপূর্ণ হবে না।

দুই. প্রশংসনীয় ব্যবহার হচ্ছে, বান্দা ‘যদি’ শব্দকে মঙ্গল কামনার্থে ব্যবহার করবে। যেমন, কোন ব্যক্তি কল্যাণ কামনার্থে একরম বলা, ‘আমার যদি অমুকের মত এ সম্পদ থাকতো, তাহলে আমি অমুকের মত ভাল কাজ করতাম।’

‘আমার ভাই মুসা যদি ধৈর্য ধারণ করতো তাহলে আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁদের কিসসা সম্পর্কে [আরা] বর্ণনা দিতেন। [অর্থাৎ মুসা রা. এর সাথে খিজির আ. এর কিস্সার কথা আরো বর্ণনা করতেন।]

অতএব, ‘যদি’ শব্দের ব্যবহার যখন কল্যাণার্থে হবে, তখন এর ব্যবহার প্রশংসনীয় বলে গণ্য হবে। আর যদি খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন এর ব্যবহার নিন্দনীয় বলে গণ্য হবে। ‘যদি’ ( لو ) শব্দের ব্যবহার ভাল কি মন্দ তা মূলত, নির্ভর করে তার ব্যবহারের অবস্থা ও প্রেক্ষিতের উপর। তাই এর ব্যবহার যদি অস্থিরতা,

আমি এরকম করতাম, তাহলে অবশ্যই এমন হতো’। বরং তুমি এ কথা বলো, ‘আল্লাহ যা তাকদীরে রেখেছেন এবং যা ইচ্ছা করেছেন তাই হয়েছে। কেননা ‘যদি’ কথাটি শয়তানের জন্য কুমন্ত্রণার পথ খুলে দেয়।’’ (বুখারী)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় .

১। সূরা আল- ইমরানের ১৫৪ নং আয়াত এবং ৬৮ নং আয়াতের উল্লেখিত অংশের তাফসীর।

২। কোন বিপদাপদ হলে ‘যদি’ প্রয়োগ করে কথা বলার উপর সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা।

৩। শয়তানের [কুমন্ত্রণামূলক] কাজের সুযোগ তৈরির কারণ।

৪। উত্তম কথার প্রতি দিক নির্দেশনা।]

৫। উপকারী ও কল্যাণজনক বিষয়ে আগ্রহী হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করা।

৬। এর বিপরীত অর্থাৎ ভাল কাজে অপারগতা ও অক্ষমতা প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা।

দুশ্চিন্তা, আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের উপর দুর্বল ঈমানের কারণ এবং অমঙ্গল কামনার্থে হয়, তাহলে এর ব্যবহার হবে দোষনীয়।

পক্ষান্তরে ( لو ) ‘যদি’ শব্দের ব্যবহার যদি কল্যাণ ও সত্য পথ প্রদর্শন এবং শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে এর ব্যবহার হবে প্রশংসনীয় এ জন্যই গ্রন্থকার নিরোনামটিকে উপরোল্লিখিত দুটি বিষয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।