১
তাওহীদের মর্মকথা
লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫১
৪৮তম অধ্যায়: আল্লাহর জিকির, কুরআন এবং রাসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে খেল- তামাশা করা প্রসঙ্গ
১। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন,
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ( التوبة :৬৫)
‘‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আমরা খেল- তামাশা করছিলাম।’’ (ফুসসিলাত . ৫০)
২। ইবনে ওমর, মুহাম্মদ বিন কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত আছে, [তাদের একের কথা অপরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে] তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এ কারীদের [কুরআন পাঠকারীর] মত এত অধিক পেটুক, কথায় এত অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এবং তাঁর কারী সাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করেছিলো। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, ‘তুমি মিথ্যা কথা বলেছ। কারণ, তুমি মুনাফেক।’
ব্যাখ্যা
আল্লহর জিকির, কুরআন ও রাসূল সম্পর্কিত বিষয়ে যে ব্যক্তি হাসি-তামাশা করে তার পরিণাম হচ্ছে এই যে, তার এ কাজটি সম্পূর্ণরূপে ঈমানের পরিপন্থী। এ কাজ মানুষকে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দেয়। কারণ, দ্বীনের মূল বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার তাঁর যাবতীয় ঐশী গ্রন্থাবলি এবং রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করা্ [তাই এ মূল বিষয় নিয়ে তামাশা করার নামই কুফরি]
আমি অবশ্যই রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লমকে এ খবর জানাবো। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তাঁর চেয়েও অগ্রগামী [অর্থাৎ আওফ পৌঁছার পূর্বেই ওহির মাধ্যমে রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন] এ ফাঁকে মুনাফেক লোকটি তার উটে চড়ে রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম এর কাছে চলে আসল। তারপর সে বলল, ‘হে আল্লহর রাসূল, চলার পথে আমরা অন্যান্য পথচারীদের মত পরস্পরের হাসি, রং- তামাশা করছিলাম’ যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। ইবনে ওমর রা. বলেন, এর উটের গদির রশির সাথে লেগে আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। পাথর তার পায়ের উপর পড়ছিল, আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা করছিলাম।’ তখন রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
أَبِاللَّهِ وَآَيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ﴿التوبة :৬৫﴾
‘‘তোমরা কি আল্লহ, তাঁর আয়াত [কুরআন] এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?
এসব বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আর এগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা এবং হাসি তামাশা করা কুফরি করার চেয়েও জঘন্য। এ কথাগুলো জানা থাকা আমাদের জন্য অতীব প্রয়োজন। এ রকম করা নিঃসন্দেহে কুফরি কাজ। তদুপরি এতে রয়েছে মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন করার মানসিকতা।
কাফের দু ধরনের .
এক . معرضون (মু’রিদূন) যারা আল্লহ ও রাসূলকে অস্বীকার করে।
দুই . معارضون [মুআ’রিদুন] যারা আল্লহ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আল্লাহ, তাঁর দীন এবং তাঁর রাসূলের দোষ ও দুর্নাম গায়। এরা জঘন্য রকমের কুফরি করে, চরম অশান্তির সৃষ্টি করে। যারা আল্লাহ, রাসূল এবং কুরআন নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ এবং রং তামাশা করে তারাও এর শ্রেণিভুক্ত।
তিনি তার দিকে [মুনাফেকের দিকে] দৃষ্টিও দেননি। এর অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একথা অনুধাবন করা যে, আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে তারা কাফের।
২। এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য যে, এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্লহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
৩। চোগলখুরী এবং আল্লহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নসিহতের মধ্যে পার্থক্য।
৪। এমন ওজরও রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।
وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ( التوبة :৬৫)
‘‘আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আমরা খেল- তামাশা করছিলাম।’’ (ফুসসিলাত . ৫০)
২। ইবনে ওমর, মুহাম্মদ বিন কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত আছে, [তাদের একের কথা অপরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে] তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এ কারীদের [কুরআন পাঠকারীর] মত এত অধিক পেটুক, কথায় এত অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এবং তাঁর কারী সাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করেছিলো। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, ‘তুমি মিথ্যা কথা বলেছ। কারণ, তুমি মুনাফেক।’
ব্যাখ্যা
আল্লহর জিকির, কুরআন ও রাসূল সম্পর্কিত বিষয়ে যে ব্যক্তি হাসি-তামাশা করে তার পরিণাম হচ্ছে এই যে, তার এ কাজটি সম্পূর্ণরূপে ঈমানের পরিপন্থী। এ কাজ মানুষকে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দেয়। কারণ, দ্বীনের মূল বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ তাআলার তাঁর যাবতীয় ঐশী গ্রন্থাবলি এবং রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করা্ [তাই এ মূল বিষয় নিয়ে তামাশা করার নামই কুফরি]
আমি অবশ্যই রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লমকে এ খবর জানাবো। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তাঁর চেয়েও অগ্রগামী [অর্থাৎ আওফ পৌঁছার পূর্বেই ওহির মাধ্যমে রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন] এ ফাঁকে মুনাফেক লোকটি তার উটে চড়ে রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম এর কাছে চলে আসল। তারপর সে বলল, ‘হে আল্লহর রাসূল, চলার পথে আমরা অন্যান্য পথচারীদের মত পরস্পরের হাসি, রং- তামাশা করছিলাম’ যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। ইবনে ওমর রা. বলেন, এর উটের গদির রশির সাথে লেগে আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম। পাথর তার পায়ের উপর পড়ছিল, আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা করছিলাম।’ তখন রাসূল সাল্লল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
أَبِاللَّهِ وَآَيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ ﴿التوبة :৬৫﴾
‘‘তোমরা কি আল্লহ, তাঁর আয়াত [কুরআন] এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?
এসব বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। আর এগুলো নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করা এবং হাসি তামাশা করা কুফরি করার চেয়েও জঘন্য। এ কথাগুলো জানা থাকা আমাদের জন্য অতীব প্রয়োজন। এ রকম করা নিঃসন্দেহে কুফরি কাজ। তদুপরি এতে রয়েছে মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন করার মানসিকতা।
কাফের দু ধরনের .
এক . معرضون (মু’রিদূন) যারা আল্লহ ও রাসূলকে অস্বীকার করে।
দুই . معارضون [মুআ’রিদুন] যারা আল্লহ এবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আল্লাহ, তাঁর দীন এবং তাঁর রাসূলের দোষ ও দুর্নাম গায়। এরা জঘন্য রকমের কুফরি করে, চরম অশান্তির সৃষ্টি করে। যারা আল্লাহ, রাসূল এবং কুরআন নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ এবং রং তামাশা করে তারাও এর শ্রেণিভুক্ত।
তিনি তার দিকে [মুনাফেকের দিকে] দৃষ্টিও দেননি। এর অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একথা অনুধাবন করা যে, আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে তারা কাফের।
২। এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য যে, এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্লহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে।
৩। চোগলখুরী এবং আল্লহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নসিহতের মধ্যে পার্থক্য।
৪। এমন ওজরও রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।