hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৬৮

৬৫তম অধ্যায়: সৃষ্টির কাছে আল্লাহর সুপারিশ করা যায় না

১। জুবাইর বিন মুতয়িম রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এর কাছে আরব বেদুঈন এসে বলল, ‘ হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের জীবন ওষ্ঠাগত, পরিবার পরিজন ক্ষুধার্ত, সম্পদ ধ্বংস প্রাপ্ত। অতএব আপনি আপনার রবের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি, আর আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ করছি’। এভাবে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতে লাগলেন যে তাঁর এবং সাহাবায়ে কেরামের চেহারায় রাগতবাব প্রতিভাত হচ্ছিল। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালম বললেন,

ويحك أتدرى ما الله؟ إن شأن الله أعظم من ذلك أنه لا يستشفع بالله على أحد من خلقه .

‘‘তোমার ধ্বংস হোক, আল্লাহর মর্যাদা কত বড়, তা কি তুমি জানো? তুমি যা মনে করছ আল্লাহর মর্যাদা ও শান এর চেয়ে অনেক বেশি। কোন সৃষ্টির কাছেই আল্লাহর সুপারিশ করা যায় না।’’ (আবু দাউদ)

ব্যাখ্যা

আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম করা

এবং

সৃষ্টির কাছে আল্লাহর সুপারিশ প্রার্থনা করা প্রসঙ্গে।

উপরোল্লিখিত দু’টি বিষয়ই আল্লাহর সাথে বেয়াদবি এবং তাওহীদের পরিপন্থী। আল্লাহর ইচ্ছাধীন বা ইখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে কসম করা মূলত: অহমিকা, আল্লাহর প্রতি ভয়হীন ও বেয়াদবীপূর্ণ আচরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এ সব বেয়াদবি ও অসংগত আচরণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া ব্যতীত পূর্ণাঙ্গ ঈমান অর্জিত হবে না।

কোন মাখলুকের কাছে আল্লাহর সুপারিশ কামনার ব্যাপারে মূল কথা হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তাআলাকে স্বীয় মাখলুকের প্রতি ওসীলা বানানোর মত বিষয়ের চেয়ে তিনি

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়

১। ‘আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি’

نستشفع بالله عليك

এ কথা যে ব্যক্তি বলেছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম কর্তৃক সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।

২। সৃষ্টির কাছে আল্লাহর সুপারিশের কথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম এবং সাহাবায়ে কেরামের চেহারায় লক্ষণীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছিল।

৩। نستشفع بك على الله

[ আমরা আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ কামনা করছি] এ কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম প্রত্যাখ্যান করেননি।

৪। ‘‘সুবহানালহ’ এর তাফসীরের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন।

৫। মুসলমানগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লমকে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি চাওয়ার জন্য আবেদন করতেন।

অনেক অনেক বেশি মর্যাদাবান। কারণ, যাকে ওসীলা বানানো হয় তার মর্যাদার চেয়ে ওসীলার দ্বারা যার নৈকট্য লাভ করা হয় তার মর্যাদা অনেক বেশি। অতএব আল্লাহকে অসীলা বানানো চরম বেয়াদবি ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই এটা পরিত্যাগ করাই প্রমাণিত হলো।

শাফাআত [বা সুপারিশ কারী গণ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করতে পারবে না। তাদের প্রত্যেকেই তাঁর সম্মুখে ভীত ও সন্ত্রস্ত। এমতাবস্থায় বিষয়টি কীভাবে এর বিপরীত হবে, যার ফলে আল্লাহ তাআলা নিজে শাফাআতকারী হবেন? অথচ তিনিই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান। সমগ্র সৃষ্টি জগৎ তাঁর অনুগত এবং করতলগত।