১
তাওহীদের মর্মকথা
লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৩
৫০তম অধ্যায়
১। আল্লহ তাআলার বাণী .
فَلَمَّا آَتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آَتَاهُمَا ( الأعراف : ১৯০)
‘‘অতঃপর আল্লাহ যখন উভয়কে একটি সুস্থ ও নিখুঁত সন্তান দান করলেন, তখন তারা তাঁর দানের ব্যাপারে অন্যকে তাঁর শরিক গণ্য করতে শুরু করল।’’ (আ’রাফ . ১৯০)
ইবনে হজম রহ.) বলেন, উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এমন প্রত্যেক নামই হারাম, যা দ্বারা গাইরুল্লাহর ইবাদত করার অর্থ বুঝায়। যেমন, আবদু ওমর, আবদুল কা’বা এবং এ জাতীয় অন্যান্য নাম। তবে আবদুল মোত্তালিব এর ব্যতিক্রম। ইবনে আববাস রা. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আদম আ. যখন বিবি হাওয়ার সাথে মিলিত হলেন, তখন হাওয়া গর্ভবতী হলেন। এমতাবস্থায় শয়তান আদম ও হাওয়ার কাছে এসে বলল, ‘আমি তোমাদের সেই বন্ধু ও সাথি, যে নাকি তোমাদের জান্নাত থেকে বের
ব্যাখ্যা
আলোচ্য অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এটা উপলব্ধি করা যে, যাদেরকে আল্লহ তাআলা সন্তানাদি দান করেছেন এবং এর সাথে সাথে সন্তানদেরকে শারীরিক ভাবে নিখুঁত রেখে [বিকলাঙ্গ না বানিয়ে] নেয়ামতের পূর্ণতা দান করেছেন, এর সবই হচ্ছে তাদের উপর আল্লহর এক বিরাট করুণা।
আল্লহর বান্দারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সৎ ও নেককার হলেই তাদের তাওহীদ ও ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হবে। তাদের করণীয় হচ্ছে, আল্লহর অপরিসীম নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং সন্তানদেরকে গাইরুল্লহর বান্দা না বানানো অথবা নেয়ামতকে গাইরুল্লহর সাথে সম্পৃক্ত না করা। কেননা এসব হচ্ছে আল্লহর নেয়ামতের কুফরি এবং তাওহীদের পরিপন্থী।
করেছে। তোমরা অবশ্যই আমার আনুগত্য করো, নতুবা গর্ভস্থ সন্তানের মাথায় উটের শিং গজিয়ে দিবো, তখন সন্তান তোমার পেট কেটে বের করতে হবে। আমি অবশ্যই একাজ করে ছাড়ব।’’
শয়তান এভাবে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছিল। শয়তান বলল, তোমরা তোমাদের সন্তানের নাম ‘আব্দুল হারিছ’ রেখো। তখন তাঁরা শয়তানের আনুগত্য করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তাদের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। আবারও বিবি হাওয়া গর্ভবতী হলেন। শয়তানও পুনরায় তাঁদের কাছে এসে পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। এর ফলে তাঁদের অন্তরে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা তীব্র হয়ে দেখা দিলো। তখন তাঁরা সন্তানের নাম ‘আবদুল হারিস’ রাখলেন। এভাবেই তাঁরা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের মধ্যে তাঁর সাথে শরিক করে ফেললেন। এটাই হচ্ছে جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آَتَاهُمَا এ আয়াতের তাৎপর্য (ইবনে আবি হাতিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন)
কাতাদাহ থেকে সহীহ সনদে অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তাঁরা আল্লহর সাথে শরিক করেছিলেন আনুগত্যের ক্ষেত্রে ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়।’
মুজাহিদ থেকে সহীহ সনদে لَئِنْ آَتَيْتَنَا صَالِحًا এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সন্তানটি মানুষ না হওয়ার আশঙ্কা তাঁরা [পিতা-মাতা] করেছিলেন। ’
[হাসান, সাঈদ প্রমুখের কাছ থেকে এর অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে।]
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। যেসব নামের মধ্যে গাইরুলহর ইবাদতের অর্থ নিহিত রয়েছে সে নাম রাখা হারাম।
২। সূরা আ’রাফের ১৯০ নং আয়াতের তাফসীর।
৩। আলোচিত অধ্যায়ে বর্ণিত শিরক হচ্ছে শুধুমাত্র নাম রাখার জন্য। এর দ্বারা হাকিকত [অর্থাৎ শিরক করা] উদ্দেশ্য ছিল না।
৪। আল্লহর পক্ষ থেকে একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ কন্যা সন্তান লাভ করা একজন মানুষের জন্য নেয়ামতের বিষয়।
৫। আল্লহর আনুগত্যের মধ্যে শিরক এবং ইবাদতের মধ্যে শিরকের ব্যাপারে সালাফে-সালেহীন পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
فَلَمَّا آَتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آَتَاهُمَا ( الأعراف : ১৯০)
‘‘অতঃপর আল্লাহ যখন উভয়কে একটি সুস্থ ও নিখুঁত সন্তান দান করলেন, তখন তারা তাঁর দানের ব্যাপারে অন্যকে তাঁর শরিক গণ্য করতে শুরু করল।’’ (আ’রাফ . ১৯০)
ইবনে হজম রহ.) বলেন, উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এমন প্রত্যেক নামই হারাম, যা দ্বারা গাইরুল্লাহর ইবাদত করার অর্থ বুঝায়। যেমন, আবদু ওমর, আবদুল কা’বা এবং এ জাতীয় অন্যান্য নাম। তবে আবদুল মোত্তালিব এর ব্যতিক্রম। ইবনে আববাস রা. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আদম আ. যখন বিবি হাওয়ার সাথে মিলিত হলেন, তখন হাওয়া গর্ভবতী হলেন। এমতাবস্থায় শয়তান আদম ও হাওয়ার কাছে এসে বলল, ‘আমি তোমাদের সেই বন্ধু ও সাথি, যে নাকি তোমাদের জান্নাত থেকে বের
ব্যাখ্যা
আলোচ্য অধ্যায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে, এটা উপলব্ধি করা যে, যাদেরকে আল্লহ তাআলা সন্তানাদি দান করেছেন এবং এর সাথে সাথে সন্তানদেরকে শারীরিক ভাবে নিখুঁত রেখে [বিকলাঙ্গ না বানিয়ে] নেয়ামতের পূর্ণতা দান করেছেন, এর সবই হচ্ছে তাদের উপর আল্লহর এক বিরাট করুণা।
আল্লহর বান্দারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে সৎ ও নেককার হলেই তাদের তাওহীদ ও ঈমানের পূর্ণতা অর্জিত হবে। তাদের করণীয় হচ্ছে, আল্লহর অপরিসীম নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করা এবং সন্তানদেরকে গাইরুল্লহর বান্দা না বানানো অথবা নেয়ামতকে গাইরুল্লহর সাথে সম্পৃক্ত না করা। কেননা এসব হচ্ছে আল্লহর নেয়ামতের কুফরি এবং তাওহীদের পরিপন্থী।
করেছে। তোমরা অবশ্যই আমার আনুগত্য করো, নতুবা গর্ভস্থ সন্তানের মাথায় উটের শিং গজিয়ে দিবো, তখন সন্তান তোমার পেট কেটে বের করতে হবে। আমি অবশ্যই একাজ করে ছাড়ব।’’
শয়তান এভাবে তাদেরকে ভয় দেখাচ্ছিল। শয়তান বলল, তোমরা তোমাদের সন্তানের নাম ‘আব্দুল হারিছ’ রেখো। তখন তাঁরা শয়তানের আনুগত্য করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তাদের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো। আবারও বিবি হাওয়া গর্ভবতী হলেন। শয়তানও পুনরায় তাঁদের কাছে এসে পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিলো। এর ফলে তাঁদের অন্তরে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা তীব্র হয়ে দেখা দিলো। তখন তাঁরা সন্তানের নাম ‘আবদুল হারিস’ রাখলেন। এভাবেই তাঁরা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের মধ্যে তাঁর সাথে শরিক করে ফেললেন। এটাই হচ্ছে جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آَتَاهُمَا এ আয়াতের তাৎপর্য (ইবনে আবি হাতিম হাদিসটি বর্ণনা করেছেন)
কাতাদাহ থেকে সহীহ সনদে অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, তাঁরা আল্লহর সাথে শরিক করেছিলেন আনুগত্যের ক্ষেত্রে ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়।’
মুজাহিদ থেকে সহীহ সনদে لَئِنْ آَتَيْتَنَا صَالِحًا এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, সন্তানটি মানুষ না হওয়ার আশঙ্কা তাঁরা [পিতা-মাতা] করেছিলেন। ’
[হাসান, সাঈদ প্রমুখের কাছ থেকে এর অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে।]
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায় :
১। যেসব নামের মধ্যে গাইরুলহর ইবাদতের অর্থ নিহিত রয়েছে সে নাম রাখা হারাম।
২। সূরা আ’রাফের ১৯০ নং আয়াতের তাফসীর।
৩। আলোচিত অধ্যায়ে বর্ণিত শিরক হচ্ছে শুধুমাত্র নাম রাখার জন্য। এর দ্বারা হাকিকত [অর্থাৎ শিরক করা] উদ্দেশ্য ছিল না।
৪। আল্লহর পক্ষ থেকে একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ কন্যা সন্তান লাভ করা একজন মানুষের জন্য নেয়ামতের বিষয়।
৫। আল্লহর আনুগত্যের মধ্যে শিরক এবং ইবাদতের মধ্যে শিরকের ব্যাপারে সালাফে-সালেহীন পার্থক্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।