hadith book logo

তাওহীদের মর্মকথা

লেখকঃ আব্দুর রহমান বিন নাসের সাদী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

অনুবাদকের কথা

মানুষ আল্লাহ রাববুল আলামিনের সর্বোত্তম সৃষ্টি। এ সর্বোত্তম সৃষ্টির চির কল্যাণ ও শান্তি নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা তাকে দান করেছেন সর্বোত্তম পথ তথা ‘আল-ইসলাম’। এ পথই হচ্ছে সিরাতে মুস্তাকিম। নবিকুল শিরোমণি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জীবন ছিল এ সিরাতে মুস্তাকিমের তথা ‘আল-ইসলামের’ বাস্তব চিত্র।

ইসলামের সুমহান শাশ্বত জীবনাদর্শকে পুতঃপবিত্র রাখার জন্য যুগে যুগে বহু মর্দেমুজাহিদ বিরামহীন সংগ্রাম ও সাধনা করেছেন। এতদসত্ত্বেও কালের আবর্তে নিঃশব্দ নিশাচরের পদচারণার মত অতি সুক্ষ্মভাবে অনেক কুসংস্কার শিরক ও বিদআত অনুপ্রবেশ করে ইসলামের পবিত্রতাকে বাহ্যিকভাবে বহুলাংশে ক্ষুণ্ণ করেছে। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে কোন কোন সময় সৃষ্টি হয়েছে অনেক মতভেদ ও সংঘাতের। এসব মতভেদ ও সংঘাতের আবার অবসান ও ঘটেছে মর্দেমুমিন ও মুজাহিদ মনীষীগণের ক্ষুরধার লেখনী এবং সংস্কারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যম। القول السديد তথা ‘তাওহীদের মর্মকথা’ বইটি এ ধারাবাহিকতারই বলিষ্ঠ সংযোগজন। এ বইটি মূলত: হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর সূচনা লগ্নে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুসলিম সমাজ সংস্কারক, মুজাহিদ ও ইমাম মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহ্হাব রহ.) এর লেখা كتاب التوحيد (কিতাবুত্তাওহীদ) এরই ব্যাখ্যা।

ঈমান আক্বীদা একজন মোমিন বান্দার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঈমান ও আক্বীদার দ্বারাই একজন মোমিনের আচার- আচরণ, আমল ও আখলাক নিয়ন্ত্রিত হয়। শিরক মিশ্রিত যে কোন আমল ইসলামের দৃষ্টিতে মূল্যহীন এবং আল্লাহর দরবারে তা প্রত্যাখ্যাত। তাই একজন মোমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তার ঈমান, আকীদা ও যাবতীয় আমলকে শিরকমুক্ত রাখা, যাতে তার কোন আমল বরবাদ না হয়।

মুসলিম সমাজে এমন অনেক রুসুম- রেওয়াজ প্রচলিত রয়েছে যা ইসলামের দৃষ্টিতে শিরক ও বেদআতের অন্তর্ভুক্ত। এসব রুসুম- রেওয়াজ ও কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকা এবং সমাজ থেকে তা উচ্ছেদ করা প্রতিটি মোমিন বান্দাহর অপরিহার্য কর্তব্য।

এ বইটিতে পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে এবং অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক ও বেদআত গুলিকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এ বইটির বঙ্গানুবাদের দায়িত্ব অর্পণ করার জন্য সৌদী আরবের রিয়াদস্থ ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং দারুল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে বইটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে দারুল আরাবিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মুহতারাম মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ সাহেবের দক্ষ হস্তের পরশ বইটির মান ও সৌন্দর্যকে অধিকতর বৃদ্ধি করেছে বিধায় আমি তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তা‘আলার দরবারে এ মোনাজাত করি তিনি যেন আমাদের ঈমান, আক্বীদা ও আমলের ক্ষেত্রে সাইয়্যিদুল মুরসালীন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক প্রদর্শিত সরল ও সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, মুসলিম উম্মাহকে যেন যাবতীয় শিরক, বিদআত ও কুসংস্কার থেকে হেফাজত করেন। পরকালীন মুক্তি ও কল্যাণ লাভের জন্য আমাদের এ সামান্য প্রচেষ্টাকে যেন কবুল করেন। আমীন।

এ, কে, এম, আবদুর রশীদ

তাং জিলহজ্জ, ১৪১৪ ইং

মে, ১৯৯৪ ইং