১
তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন
লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০৩
অবিচলতা
দূর্বলতা ও পরিবর্তন মানুষের অভ্যাসের দুটো দিক। কিন্তু সমস্যা হল বহু মানুষ এমন আছেন যাদের অবস্থার পরিবর্তন হলে এবাদত-বন্দেগী ও সৎকর্ম ছেড়ে দেয়। তাদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির মত যে ঘর নির্মাণ করল অত:পর তা ভেঙ্গে দিল। আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন :—
وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنْكَاثًا . ﴿النحل : 92﴾
‘তোমরা সেই মহিলার মত হয়োনা যে মজবুত ভাবে সুতো পাকানোর পর তার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।’ [সূরা নাহল : ৯২]
এতো গেল মক্কায় বসবাসকারী সেই মহিলার কথা যে শক্ত করে সুতা পাকাতো, কিছুক্ষন পর তা নিজেই ছিড়ে ফেলত। যদি তার কাজটি পাগলামী হয়ে থাকে তবে যারা নেক আমল বা সৎকাজ করে তা থেকে ফিরে যায়, অবিচল থাকে না সেটাও পাগলামী হবে। কিছুদিন নেক আমল করে তা বন্ধ করে দেয়ার চেয়ে সেটা না করা ভাল ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ . كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ . ﴿المطففين : 14-15﴾
‘কখনো নয়; তাদের কৃতকর্ম তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়েছে। না, অবশ্যই সে দিন তারা তাদের প্রতিপালক হতে অন্তরিত থাকবে।’ [সূরা আলমুতাফফেফীন : ১৪-১৫] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন—
فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ . ﴿الصف : 5﴾
‘অত:পর তারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল আল্লাহ তাদের হৃদয়কে বক্র করে দিলেন।’ [সূরা আস-সাফ : ৫]
কাজে অবিচল রা থাকার দৃষ্টান্ত সে পথিকের সাথেও দেয়া যেতে পারে যে কিছুটা পথ অতিক্রম করে আবার পিছনে ফিরে আসল অথবা পথ চলা বন্ধ করে দিল। যে এ রকম করবে সে কখনো তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। সেই পথিকই তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে যে অব্যাহত ভাবে পথ চলতে থাকবে। নিজ পথে অটল-অবিচল থাকবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি নেক আমল শুরু করে তা মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারবে সেই তার চুরান্ত গন্তব্য জান্নাতে পৌছে যেতে পারবে। দুনিয়া ও আখিরাতে এ সকল দৃঢ়তা অবলম্বনকারী ব্যক্তিরা সফল হবে। আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন :—
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ . نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ . نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ . ﴿فصلت : 30-32﴾
‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অত:পর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ন হয় ফিরিশ্তা এবং বলে, ‘তোমরা ভীত হয়োনা, চিন্তিত হয়োনা, এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও। ‘আমরাই তোমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমরা আদেশ কর।’ এটা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।’ [সূরা হা-মীম- সাজদাহ : ৩০-৩২] আল্লাহ আরো বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ . أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ . ﴿الأحقاف :14- 13﴾
‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অত:পর অবিচল থাকে তাদের কোন ভয় নেই তারা দু:খিত ও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেথায় তারা স্থায়ী হবে তারা যা করত তার পুরস্কার স্বরূপ।’ [সূরা আহকাফ : ১৩]
وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنْكَاثًا . ﴿النحل : 92﴾
‘তোমরা সেই মহিলার মত হয়োনা যে মজবুত ভাবে সুতো পাকানোর পর তার পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।’ [সূরা নাহল : ৯২]
এতো গেল মক্কায় বসবাসকারী সেই মহিলার কথা যে শক্ত করে সুতা পাকাতো, কিছুক্ষন পর তা নিজেই ছিড়ে ফেলত। যদি তার কাজটি পাগলামী হয়ে থাকে তবে যারা নেক আমল বা সৎকাজ করে তা থেকে ফিরে যায়, অবিচল থাকে না সেটাও পাগলামী হবে। কিছুদিন নেক আমল করে তা বন্ধ করে দেয়ার চেয়ে সেটা না করা ভাল ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন :
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ . كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ . ﴿المطففين : 14-15﴾
‘কখনো নয়; তাদের কৃতকর্ম তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়েছে। না, অবশ্যই সে দিন তারা তাদের প্রতিপালক হতে অন্তরিত থাকবে।’ [সূরা আলমুতাফফেফীন : ১৪-১৫] আল্লাহ তাআলা আরো বলেন—
فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ . ﴿الصف : 5﴾
‘অত:পর তারা যখন বক্র পথ অবলম্বন করল আল্লাহ তাদের হৃদয়কে বক্র করে দিলেন।’ [সূরা আস-সাফ : ৫]
কাজে অবিচল রা থাকার দৃষ্টান্ত সে পথিকের সাথেও দেয়া যেতে পারে যে কিছুটা পথ অতিক্রম করে আবার পিছনে ফিরে আসল অথবা পথ চলা বন্ধ করে দিল। যে এ রকম করবে সে কখনো তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে না। সেই পথিকই তার গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে যে অব্যাহত ভাবে পথ চলতে থাকবে। নিজ পথে অটল-অবিচল থাকবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি নেক আমল শুরু করে তা মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারবে সেই তার চুরান্ত গন্তব্য জান্নাতে পৌছে যেতে পারবে। দুনিয়া ও আখিরাতে এ সকল দৃঢ়তা অবলম্বনকারী ব্যক্তিরা সফল হবে। আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন :—
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ . نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآَخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنْفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ . نُزُلًا مِنْ غَفُورٍ رَحِيمٍ . ﴿فصلت : 30-32﴾
‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অত:পর অবিচল থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ন হয় ফিরিশ্তা এবং বলে, ‘তোমরা ভীত হয়োনা, চিন্তিত হয়োনা, এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও। ‘আমরাই তোমাদের বন্ধু দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য রয়েছে যা কিছু তোমরা আদেশ কর।’ এটা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়ন।’ [সূরা হা-মীম- সাজদাহ : ৩০-৩২] আল্লাহ আরো বলেন—
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ . أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ . ﴿الأحقاف :14- 13﴾
‘যারা বলে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অত:পর অবিচল থাকে তাদের কোন ভয় নেই তারা দু:খিত ও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেথায় তারা স্থায়ী হবে তারা যা করত তার পুরস্কার স্বরূপ।’ [সূরা আহকাফ : ১৩]