hadith book logo

তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন

লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩২

কিভাবে প্রতিকার করা যায় এ ব্যধির ?

‘আমার জীবন দীর্ঘ ’ ধারণার এ ব্যাধির প্রতিকার করা যায় মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, কবর জেয়ারত করে, মৃত্যু ব্যক্তিকে গোসল দিয়ে, জানাযাতে শরীক হয়ে, অসুস্থ মানুষের সেবা করে ও নেককার বা সৎলোকের সাথে বেশী করে দেখা-সাক্ষাত করে। এ সকল বিষয় অন্তরকে জাগ্রত করে, ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করে।

মৃত্যুর স্মরণ : এটা মানুষকে দুনিয়া বিমুখ করে আখিরাতমুখী হতে সাহায্য করে। নেক আমল বা সৎকর্মে আত্ন-নিয়োগ করতে প্রেরণা যোগায়। হজরত আবু হুরায় রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :

أكثروا ذكر هاذم اللذات . ( رواه الترمذي (2307) ، وصححه الألباني في صحيح الجامع (1210)

‘তোমরা মৃত্যুকে স্মরণ কর।’’ [তিরমিজি : ২৩০৭। সহিহ আল-জামে : ১২১০।]

মানুষ যখন মৃত্যু ব্যক্তির কথা চিন্তা করবে দেখতে পাবে এ মানুষটা তো আমার মত শক্তিশালী ছিল, সম্পদশালী ছিল ও আদেশ নিষেধের মালিক ছিল। কিন্তু আজ তার শরীর পোকায় ধরেছে, হাড্ডিগুলো গোশ্তশুন্য হয়ে পড়েছে। যখন আমার এ অবস্থাই হবে তখন এর জন্য তৈরী হয়ে যাওয়া উচিত। এমন কাজ-কর্ম করা উচিত যা মৃত্যুর পরও কাজে আসবে।

কবর জেয়ারত : এটা মনের জন্য একটা মুল্যবান ওয়াজ বা উপদশে। মানুষ অনুভব করবে কবর একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থান। এখানে এসে মানুষের সকল পথ থেমে যায়। প্রবেশ করে অন্ধকার গর্তে। আর কখনো বের হতে পারবে না। তার সম্পদগুলো বন্টন হয়ে যাবে। নিজ স্ত্রী অন্যের সাথে বিবাহে যাবে। কিছুদিন পর সকলে তাকে ভুলে যাবে। এমনি ভাবে কবর যিয়ারতের মাধ্যমে সে মুল্যবান নছীহত অর্জন করবে। তাই তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

كنت نهيتكم عن زيارة القبور، ثم بدا لي أنها ترق القلب، وتدمع العين، وتذكر الآخرة، ولا تقولوا هجرا . رواه أحمد (13487) وصححه الألباني في صحيح الجامع (4584)

‘আমি তোমাদের কবর জেয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। অবশ্য পরে আমার কাছে স্পষ্ট হল যে, কবর জেয়ারত মানুষের হৃদয়কে বিগলিত করে, চোখের পানি প্রবাহিত করে, পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তবে শোক বা বেদনা প্রকাশ করতে সেখানে কিছু বলবে না।’ [আহমদ : ১৩৪৮৭। সহিহ আল-জামে : ৪৫৮৪।]

মৃত্যু ব্যক্তিকে গোসল দেয়া ও দাফন কাফনে শরীক হওয়া : এ সকল কাজ করতে গিয়ে চিন্তা করবে যে, এ ব্যক্তি যখন জীবিত ছিল তখন তার গায়ে মানুষ হাত লাগাতে বা তার শরীর ওলট-পালট করতে সাহস পায়নি, তার অনুমতি ছাড়া কাছে ঘেঁষতে কেহ সাহস করেনি কিন্তু আজ সে একটা পাথরের মত হয়ে গেছে। যে গোছল করায় সে তাকে ইচ্ছে মত নাড়া-চারা করছে। এখানে তার কিছই বলার নেই।

নেককার ও সৎ মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত করা : সৎ ও নেককার মানুষের সঙ্গ লাভ হৃদয়কে জাগ্রত করে, মনকে তরতাজা রাখে, সাহস ও হিম্মত বৃদ্ধি করে, মনোবল বেড়ে যায়। যখন দেখবে সৎমানুষটি এবাদত-বন্দেগীতে অগ্রগামী, আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া তার কোন উদ্দেশ্য নেই, জান্নাত লাভ করা ব্যতিত কার কোন লক্ষ্য নেই তখন সে এর দ্বারা প্রভাবিত হবে। পাপাচার ত্যাগ করে ভাল হয়ে যাবে।

তাই তো আল্লাহ রাববুল আলামীন তার নবীকেও সৎসঙ্গ অবলম্বন করার দিকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বলেছেন—

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا ﴿الكهف : 28﴾

‘তুমি নিজেকে ধৈর্য সহকারে রাখবে তাদের সংসর্গে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় আহবান করে তাদের প্রতিপালককে তাদের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং পার্থিব জীবনের শোভা কামনা করে তাদের থেকে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না। তুমি তাদের আনুগত্য করবে না-যার চিত্তকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছছি, যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে।’ [সূরা আল-কাহাফ : ২৮।]