hadith book logo

তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন

লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

অন্ত:করণের প্রকার সমূহ

(১) সুস্থ অন্তর : আর তাহল ঐ প্রবৃত্তি থেকে নিরাপদ যা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের বিরুদ্ধাচরণ করে ; এবং প্রত্যেক ঐ সাদৃশ্য থেকে মুক্ত যা তার খবরের সঙ্গে বৈপরীত্য রাখে। মূলত: সে আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খবরকে শর্তহীন আনুগত্যে গ্রহণ করবে। উপরন্তু প্রবৃত্তি ও নিজস্ব মতামতের ভিত্তিকে সে খবরের সঙ্গে কোন রকম বিরোধ সৃষ্টি করবে না। বেদআত ও ভ্রান্তিপন্থীরা যেমন করে থাকে এবং কেয়ামতের দিনে একমাত্র এই সুস্থ অন্তরের অধিকারী ছাড়া আর কারো মুক্তি নেই। ইবরাহীম আ.-এর জিকির">দোয়া বর্ণনায় আল্লাহ তাআলা বলেন—

يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ . إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ . ﴿الشورى : 89﴾

‘সে দিন সম্পদ ও সন্তান কোন উপকারে আসবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে।’ [আশ শুয়ারা : ৮৮-৮৯]

(২) মৃত অন্তর : তা সুস্থের বিপরীত। তা ঐ অন্তর যে তার প্রভুর পরিচয় জানে না এবং তার এবাদত করে না ; বরং সে তার প্রবৃত্তি ও চাহিদাগুলোর অনুসরণ করে। এবং তার প্রভুর প্রত্যাশার বিষয়ে সে নেহায়েত উদাসীন থাকে।

অতএব, এই প্রকারের অন্তর থেকে চূড়ান্ত ভাবে বেঁচে থাকা অপরিহার্য। এবং এই অন্তর বিশিষ্ট লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা ও উঠা-বসা বর্জনীয়। কেননা তার সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা বিষক্রিয়া তুল্য, এবং তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করা ধ্বংসের নামান্তর।

(৩) রুগ্ণ অন্তর : এমন অন্তর যার জীবন রয়েছে, এবং তা অসুস্থ, সুতরাং তাতে আল্লাহর মুহববত, ভালোবাসা এবং তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস থাকবে। এবং পাশাপাশি তাতে বিকৃত চাহিদার প্রতি অনুরাগ ও তা প্রাধান্য দেওয়া ও অর্জন করার প্রতি লোভ, আকাঙ্ক্ষা থাকবে।

এমতাবস্থায় যখন তার রোগ বৃদ্ধি পাবে তা মৃত অন্তরের সঙ্গে পরিগণিত হবে। পক্ষান্তরে যখন তার সুস্থতা বৃদ্ধি পাবে তা সুস্থ অন্তর হিসেবে গণ্য হবে। প্রকৃত পক্ষে অন্তরসমূহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও দুর্যোগের শিকার হয়। হুযাইফা রা.-এর বর্ণনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

تعرض الفتن على القلوب كالحصير عودا عودا، فأي قلب أشربها نكت فيه نكتة سوداء، وأي قلب أنكرها نكت فيه نكتة بيضاء، حتى تصير القلوب على قلبين : على أبيض مثل الصفا، فلا تضره فتنة مادامت السموات والأرض، والآخر أسود مربادا كالكوز مجخيا، لا يعرف معروفا، ولا ينكر منكرا إلا ما أشرب من هواه .

‘চাটাইয়ের ভাজের ন্যায় ফেতনা সমূহ অন্তরের কাছে উপস্থাপিত করা হয়। অত:পর যে অন্তর ফেতনাকে গলধ:করণ করে, তার মধ্যে একটি কালো বিন্দু অঙ্কিত হয়। আর যে হৃদয় ফেতনাকে অস্বীকার করে, তার মধ্যে একটি শুভ্র বিন্দু অঙ্কিত হয়, এভাবে হৃদয়সমূহ দু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি স্বচ্ছ পরিষ্কার হৃদয়। আকাশ ও পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকা অবধি কোন ফেতনা তাকে ক্ষতি গ্রস্ত করতে পারবে না। দ্বিতীয়টি কৃষ্ণ বর্ণ। তা কোনা ভাল চিনে না এবং কোন অপছন্দনীয় বস্ত্তকে অস্বীকার করে না।