১
তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন
লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৯
দ্বিতীয়ত: জিহবা :
মানুষের অর্থহীন আচরণ যেমন কাজের ক্ষেত্রে হয় তদ্রুপ কথার ক্ষেত্রেও হয়। কেননা কথাও তার কাজের অংশ। তবে এ বিষয়ে অধি:কাংশ মানুষই বেখবর। তাই তারা তাদের কথাবার্তাকে কর্মের অঙ্গীভূত মনে করে না। উমর ইবনে আ: আযিয তাদের জন্য এ বিষয়টির তাৎপর্য সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন: তিনি বলেন,
من علم أن الكلام من عمله، أمسك عن الكلام إلا فيما يعنيه . الزهد للإمام أحمد ص 296 ، وانظر : جامع العلوم والحكم، لابن رجب 1/291.
‘যে জানবে যে তার কথা কর্মেরই অংশ সে নিরর্থক কথা থেকে নিবৃত্ত থাকবে।’ [ইমাম আহমদের ‘কিতাবুজ জুহুদ’ : ২৯৬। ইবনে রজবের ‘জামে আল-উলুম ওল হেকাম’ : ১/২৯১।]
বরং নিরর্থক কাজ থেকে বিরত থাকার নিকটতম উদ্দেশ্যে হল জিহবাকে অর্থহীন কথা থেকে বাঁচিয়ে রাখা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা সাক্ষ্য দিচ্ছে,
إن من حسن إسلام المرء قلة الكلام فيما لا يعنيه . أخرجه أحمد، 1/201 ، وهو حسن لغيره .
‘মানুষের সৌন্দর্য ইসলাম হল অর্থহীন কথা থেকে জিহবাকে বাঁচিয়ে রাখা। [আহমাদ : ১/২০১।] এবং আবুদ্দারদা রা. বলেছেন—
من فقه الرجل قلة الكلام فيما لايعنيه . أدب المجالسة، لابن عبد البر، ص 68.
মানুষের বুদ্ধিমত্তার অংশ বিশেষ হল নিরর্থক বিষয়ে কথার স্বল্পতা। [আদাবুল মুজালিসাহ : পৃ : ৬৮।]
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ . ﴿ق : 18﴾
‘মানুষের বাক্য সংযমের ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণী যথেষ্ট যে, সে যে কথা উচ্চারণ করে তার নিকট রয়েছে রক্ষণশীল প্রহরী। [ক্বফ : ১৮।] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী—
وهل يكب الناس في النارعلى وجوههم-أوعلى مناخرهم- إلا حصائد ألسنتهم .
‘মানুষকে তাদের চেহারা বা কাঁধের উপর দিয়ে জাহান্নমে নিক্ষেপ করবে কেবল তাদের জিহবার শস্যসমূহ (কথা)। [তিরমিজি : ২৬১৬। আহমাদ : ৫/২৩১।]
জিহবাকে সংযত রাখবে এভাবে যে কোন শব্দ অনর্থক উচ্চারিত হবে না কেবলমাত্র ওইসব বিষয়ে কথা বলবে যেখানে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে লাভ ও বৃদ্ধির আশা করা যায়। যখন সে কথা বলবে চিন্তা করবে তাতে কোন লাভ ও কল্যাণ আছে কি নেই? যদি কোন লাভ না থাকে নিজেকে সংযত রাখবে আর যদি তাতে কোন লাভ থাকে, তবে লক্ষ্য রাখবে এই কথার মাধ্যমে কী তার চেয়েও অধিক লাভ জনক কোন পথ ছুটে যাবে? এমন হলে এর দ্বারা ঐটিকে বিনষ্ট করবে না। ইবনে আববাস রা. বলেছেন—
خمس ، لهن أحسن من الدهم الموقفة : لا تتكلم فيما لا يعنيك، فإنه فضل ولا آمن عليك الوزر، ولا تتكلم فيما يعنيك حتى تجد له موضعا، فإنه رب متكلم في أمر قد وضعه في غير موضعه فيعنت .. الصمت لابن أبي الدنيا ص 95(114) إسناده ضعيف كما ذكره المحقق .
পাঁচটি অভ্যাস এমন যা তাদের জন্যে মহামূল্যবান অশ্ব থেকেও উত্তম : অপ্রয়োজনীয়-অহেতুক কথা বলবেনা। কারণ এটি অতিরিক্ত এবং তোমার কোন গোনাহ হবেনা বলে আমি নিশ্চিত নই। উপযুক্ত স্থান ব্যতীত প্রয়োজনীয় কথাও বলবে না। কারণ অনেক বক্তা অনুপযুক্ত স্থানে কথা বলার কারণে তিরস্কৃত হয়...।
(আল সমত : ইবন আবিদ্দুনিয়া)
বিশেষজ্ঞদের মতে এর সনদ দুর্বল।
যখন তুমি অন্তরের কোন ইচ্ছাকে প্রকাশ করতে চাও তবে জিহবার নড়াচড়ার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। কেননা তার অভিব্যক্তি চেহারায় ফুটে ওঠে চাই সে চাক বা অস্বীকার করুক।
আশ্চর্যের বিষয় হল, মানুষের জন্য হারাম বস্ত্ত খাদ্য হিসেবে গ্রহণ, জুলুম, ব্যভিচার, চুরি, মদ্য পান এবং নিষিদ্ধ দৃষ্টিদান ইত্যাদি বিষয় থেকে বেঁচে থাকা সহজ । আর তার পক্ষে জিহবার আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত থাকা খুবই কঠিন। তাই তুমি এমন লোক দেখতে পাবে যার কাছে দ্বীন, এবাদত এবং দুনিয়া বিমুখতা সম্পর্কে পরামর্শ করা হয়। অথচ ঐ ব্যক্তি এমন সব কথা বলে যা তাকে নির্ঘাত আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত করে। এবং এমন বিপরীত ধর্মী কথাবার্তা বলে যা আকাশ ও জমিনের চেয়ে ও অধিক দূরত্ব রাখে। এবং তুমি এমন অনেক লোক দেখেতে পাবে যারা অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে অনেক সচেতন অথচ তার জিহবা জীবিত বা মৃত সকলের ব্যাপারেই নির্বিচারে মন্তব্য করে সে কী বলেছে এ ব্যাপারে তার কোন পরওয়া নেই।
من علم أن الكلام من عمله، أمسك عن الكلام إلا فيما يعنيه . الزهد للإمام أحمد ص 296 ، وانظر : جامع العلوم والحكم، لابن رجب 1/291.
‘যে জানবে যে তার কথা কর্মেরই অংশ সে নিরর্থক কথা থেকে নিবৃত্ত থাকবে।’ [ইমাম আহমদের ‘কিতাবুজ জুহুদ’ : ২৯৬। ইবনে রজবের ‘জামে আল-উলুম ওল হেকাম’ : ১/২৯১।]
বরং নিরর্থক কাজ থেকে বিরত থাকার নিকটতম উদ্দেশ্যে হল জিহবাকে অর্থহীন কথা থেকে বাঁচিয়ে রাখা। এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা সাক্ষ্য দিচ্ছে,
إن من حسن إسلام المرء قلة الكلام فيما لا يعنيه . أخرجه أحمد، 1/201 ، وهو حسن لغيره .
‘মানুষের সৌন্দর্য ইসলাম হল অর্থহীন কথা থেকে জিহবাকে বাঁচিয়ে রাখা। [আহমাদ : ১/২০১।] এবং আবুদ্দারদা রা. বলেছেন—
من فقه الرجل قلة الكلام فيما لايعنيه . أدب المجالسة، لابن عبد البر، ص 68.
মানুষের বুদ্ধিমত্তার অংশ বিশেষ হল নিরর্থক বিষয়ে কথার স্বল্পতা। [আদাবুল মুজালিসাহ : পৃ : ৬৮।]
مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ . ﴿ق : 18﴾
‘মানুষের বাক্য সংযমের ক্ষেত্রে আল্লাহর বাণী যথেষ্ট যে, সে যে কথা উচ্চারণ করে তার নিকট রয়েছে রক্ষণশীল প্রহরী। [ক্বফ : ১৮।] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী—
وهل يكب الناس في النارعلى وجوههم-أوعلى مناخرهم- إلا حصائد ألسنتهم .
‘মানুষকে তাদের চেহারা বা কাঁধের উপর দিয়ে জাহান্নমে নিক্ষেপ করবে কেবল তাদের জিহবার শস্যসমূহ (কথা)। [তিরমিজি : ২৬১৬। আহমাদ : ৫/২৩১।]
জিহবাকে সংযত রাখবে এভাবে যে কোন শব্দ অনর্থক উচ্চারিত হবে না কেবলমাত্র ওইসব বিষয়ে কথা বলবে যেখানে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে লাভ ও বৃদ্ধির আশা করা যায়। যখন সে কথা বলবে চিন্তা করবে তাতে কোন লাভ ও কল্যাণ আছে কি নেই? যদি কোন লাভ না থাকে নিজেকে সংযত রাখবে আর যদি তাতে কোন লাভ থাকে, তবে লক্ষ্য রাখবে এই কথার মাধ্যমে কী তার চেয়েও অধিক লাভ জনক কোন পথ ছুটে যাবে? এমন হলে এর দ্বারা ঐটিকে বিনষ্ট করবে না। ইবনে আববাস রা. বলেছেন—
خمس ، لهن أحسن من الدهم الموقفة : لا تتكلم فيما لا يعنيك، فإنه فضل ولا آمن عليك الوزر، ولا تتكلم فيما يعنيك حتى تجد له موضعا، فإنه رب متكلم في أمر قد وضعه في غير موضعه فيعنت .. الصمت لابن أبي الدنيا ص 95(114) إسناده ضعيف كما ذكره المحقق .
পাঁচটি অভ্যাস এমন যা তাদের জন্যে মহামূল্যবান অশ্ব থেকেও উত্তম : অপ্রয়োজনীয়-অহেতুক কথা বলবেনা। কারণ এটি অতিরিক্ত এবং তোমার কোন গোনাহ হবেনা বলে আমি নিশ্চিত নই। উপযুক্ত স্থান ব্যতীত প্রয়োজনীয় কথাও বলবে না। কারণ অনেক বক্তা অনুপযুক্ত স্থানে কথা বলার কারণে তিরস্কৃত হয়...।
(আল সমত : ইবন আবিদ্দুনিয়া)
বিশেষজ্ঞদের মতে এর সনদ দুর্বল।
যখন তুমি অন্তরের কোন ইচ্ছাকে প্রকাশ করতে চাও তবে জিহবার নড়াচড়ার মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। কেননা তার অভিব্যক্তি চেহারায় ফুটে ওঠে চাই সে চাক বা অস্বীকার করুক।
আশ্চর্যের বিষয় হল, মানুষের জন্য হারাম বস্ত্ত খাদ্য হিসেবে গ্রহণ, জুলুম, ব্যভিচার, চুরি, মদ্য পান এবং নিষিদ্ধ দৃষ্টিদান ইত্যাদি বিষয় থেকে বেঁচে থাকা সহজ । আর তার পক্ষে জিহবার আন্দোলন থেকে নিবৃত্ত থাকা খুবই কঠিন। তাই তুমি এমন লোক দেখতে পাবে যার কাছে দ্বীন, এবাদত এবং দুনিয়া বিমুখতা সম্পর্কে পরামর্শ করা হয়। অথচ ঐ ব্যক্তি এমন সব কথা বলে যা তাকে নির্ঘাত আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত করে। এবং এমন বিপরীত ধর্মী কথাবার্তা বলে যা আকাশ ও জমিনের চেয়ে ও অধিক দূরত্ব রাখে। এবং তুমি এমন অনেক লোক দেখেতে পাবে যারা অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে অনেক সচেতন অথচ তার জিহবা জীবিত বা মৃত সকলের ব্যাপারেই নির্বিচারে মন্তব্য করে সে কী বলেছে এ ব্যাপারে তার কোন পরওয়া নেই।