১
তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন
লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
দোয়া কবুলের শর্তাবলী
মোমিনের প্রত্যাশা মহান আল্লাহ যেন তার জিকির">দোয়া কবুল করেন। এবং তার মনের আশা পূরণ করেন। কিন্তু দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল।
১ - الإخلاص এখলাস : আমল কবুল হওয়ার মূল শর্ত এটি, মহান আল্লাহ বলেন:—
هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين . ﴿المؤمن :66﴾
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব, তাকে ডাক খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। [আল-মু‘মিন : ৬৬]
সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর জন্য এবাদতকে নিরঙ্কুশ করার নাম এখলাস। সুতরাং, এবাদত ও দোয়ায় মহান আল্লাহ ব্যতীত কোন কিছুকে উদ্দেশ্যে করা যাবে না। এর বিপরীত কর্মপন্থা যে অবলম্বন করল, সে অবশ্যই শিরক করল। আল্লাহ তাআলা বলেন :—
وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ ﴿المؤمنون : 117﴾
যে আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, যার স্বপক্ষে কোন দলিল তার কাছে নেই, তার হিসাব তার পালনকর্তার কাছে আছে। নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না। [আল-মু‘মিন : ১১৭]
২- দোয়াকারী ব্যক্তির সম্পদ হালাল হওয়া :—
কেননা, হারাম সম্পদ হচ্ছে দোয়া কবুলের পথে অন্তরায় ও বাধা।
ইমাম মুসলিম রহ. তার সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন :—
أيها الناس إن الله طيب لا يقبل إلا طيبا، , وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المسلمين، , فقال : يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ . ﴿المؤمنون :51﴾ وقال : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ . ﴿البقرة :172﴾ ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يده إلى السماء يارب يارب ومطعمه حرام ومشربه حرام . وغذي بالحرام فأنى يستجاب له . مسلم (1686)
হে মানুষ সকল ! নিশ্চয় আল্লাহ পুত:পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ব্যতীত কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ রাসূলদের যে আদেশ দিয়েছেন তা মোমিনদের জন্যও আদেশরূপে বিবেচ্য। আল্লাহ বলেন :—‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত হতে আহার কর এবং সৎকাজ কর ; তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত। [আল-মু‘মিনূন : ৫১] এবং আল্লাহ আরো বলেন—‘হে ঈমানদারগণ ! তোমরা পাক পবিত্র বস্ত্ত সামগ্রী আহার হিসেবে ব্যবহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসেবে দান করেছি।’ [আল-বাকারা : ১৭২]
অত:পর উস্ক-খুস্ক ধূলিময় অবস্থায় দীর্ঘ সফরকারী একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, যে স্বীয় হস্ত-দ্বয় আকাশের দিকে প্রসারিত করে বলে, হে প্রভু ! হে প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে ? [মুসলিম : ১৬৮৬]
(৩) দোয়ায় সীমা-লঙ্ঘন না করা।
দোয়ার সময় বান্দা বৈধ সীমারেখায় বিচরণ করবে, পাপের কাজ সিদ্ধ করা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, অথবা সামান্য ভুলের শাস্তি স্বরূপ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধ্বংসের জন্য দোয়া করবে না। মহান আল্লাহ বলেন :—
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ . ﴿الأعراف : 55﴾
‘তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না।’ [আল-আরাফ : ৫৫]
১ - الإخلاص এখলাস : আমল কবুল হওয়ার মূল শর্ত এটি, মহান আল্লাহ বলেন:—
هو الحي لا إله إلا هو فادعوه مخلصين له الدين . ﴿المؤمن :66﴾
তিনি চিরঞ্জীব, তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। অতএব, তাকে ডাক খাঁটি এবাদতের মাধ্যমে। [আল-মু‘মিন : ৬৬]
সব কিছু বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর জন্য এবাদতকে নিরঙ্কুশ করার নাম এখলাস। সুতরাং, এবাদত ও দোয়ায় মহান আল্লাহ ব্যতীত কোন কিছুকে উদ্দেশ্যে করা যাবে না। এর বিপরীত কর্মপন্থা যে অবলম্বন করল, সে অবশ্যই শিরক করল। আল্লাহ তাআলা বলেন :—
وَمَنْ يَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آَخَرَ لَا بُرْهَانَ لَهُ بِهِ فَإِنَّمَا حِسَابُهُ عِنْدَ رَبِّهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْكَافِرُونَ ﴿المؤمنون : 117﴾
যে আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে ডাকে, যার স্বপক্ষে কোন দলিল তার কাছে নেই, তার হিসাব তার পালনকর্তার কাছে আছে। নিশ্চয় কাফেররা সফলকাম হবে না। [আল-মু‘মিন : ১১৭]
২- দোয়াকারী ব্যক্তির সম্পদ হালাল হওয়া :—
কেননা, হারাম সম্পদ হচ্ছে দোয়া কবুলের পথে অন্তরায় ও বাধা।
ইমাম মুসলিম রহ. তার সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন :—
أيها الناس إن الله طيب لا يقبل إلا طيبا، , وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المسلمين، , فقال : يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ . ﴿المؤمنون :51﴾ وقال : يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ . ﴿البقرة :172﴾ ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر يمد يده إلى السماء يارب يارب ومطعمه حرام ومشربه حرام . وغذي بالحرام فأنى يستجاب له . مسلم (1686)
হে মানুষ সকল ! নিশ্চয় আল্লাহ পুত:পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ব্যতীত কবুল করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ রাসূলদের যে আদেশ দিয়েছেন তা মোমিনদের জন্যও আদেশরূপে বিবেচ্য। আল্লাহ বলেন :—‘হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত হতে আহার কর এবং সৎকাজ কর ; তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত। [আল-মু‘মিনূন : ৫১] এবং আল্লাহ আরো বলেন—‘হে ঈমানদারগণ ! তোমরা পাক পবিত্র বস্ত্ত সামগ্রী আহার হিসেবে ব্যবহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসেবে দান করেছি।’ [আল-বাকারা : ১৭২]
অত:পর উস্ক-খুস্ক ধূলিময় অবস্থায় দীর্ঘ সফরকারী একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, যে স্বীয় হস্ত-দ্বয় আকাশের দিকে প্রসারিত করে বলে, হে প্রভু ! হে প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে ? [মুসলিম : ১৬৮৬]
(৩) দোয়ায় সীমা-লঙ্ঘন না করা।
দোয়ার সময় বান্দা বৈধ সীমারেখায় বিচরণ করবে, পাপের কাজ সিদ্ধ করা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, অথবা সামান্য ভুলের শাস্তি স্বরূপ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধ্বংসের জন্য দোয়া করবে না। মহান আল্লাহ বলেন :—
ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ . ﴿الأعراف : 55﴾
‘তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না।’ [আল-আরাফ : ৫৫]