১
তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন
লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৯৭
আল-মুহাসাবা
আল-মুহসাবা ও শাব্দিক অর্থ আত্ন-সমালোচনা। নিজের হিসাব নিজে করে নেয়া। পরিভাষায় মুহাসাবা শব্দের অর্ধ হল, মানুষ তার কৃতকর্ম ও কথাগুলোর প্রতি তাকাবে। যখন দেখবে সে কোন ভাল কথা বা কাজ করেছে তখন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে এবং সে কথা ও কাজের উপর অটল থাকবে। আর যদি দেখে কোন খারাপ কথা বা কাজ করে ফেলেছে তাহলে সে তা ছেড়ে দেবে ও তাওবা ইস্তেগফার করবে।
জ্ঞানী ও সচেতন ব্যক্তি মাত্রে্ই কাজ করার পূর্বে চিন্তা করে দেখবে এ কাজটি তার জন্য কতোটা ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে। যখন দেখবে যে, কাজটি ভাল ফল নিয়ে আসবে তখন সে তা করবে। আর যদি দেখে ফলাফল ভাল হবে না তখন সে করবে না।
মানুষ দুনিয়ার ব্যাপারে কোন কাজ করতে এ নীতিই অবলম্বন করে থাকে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চাকুরী জীবি, কৃষক, গবেষক সকলেই এ নীতি অনুসরণ করে। প্রতিটি পদক্ষেপেই চিন্তা করে কাজটি কতটুকু সফল হবে।
একজন মুসলিম তো দুনিয়াকে আখিরাতের ক্ষেত্র বলে বিশ্বাস করে। আরো বিশ্বাস করে আজ সে যা করে যাচ্ছে কালকে তার হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এ দিকের বিবেচনায় মানুষ যা কিছু আল্লাহর বিধি-নিষেধের আওতায় যা করবে তা আরো বেশী মুহাসাবার দাবী রাখে।
আল্লাহর আদেশ নিষেধ পালন ও বর্জন হল সবচেয়ে বড় ব্যবসা। দুনিয়ার কোন ব্যবসা বা কাজ কর্মে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব, কিন্তু আখিরাত সম্পর্কিত কাজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়লে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কখনো সম্ভব হয় না। আখিরাতে কেহ সফলকাম হলে সেটাই হবে স্থায়ী সফলতা আর কেহ ব্যর্থ সেটাই হবে স্থায়ী ব্যর্থতা।
হাসান বসরী রা. বলেন, আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি রহম করুন, যার সামনে কোন কাজ আসলে সে চিন্তা করে এটা আল্লাহর জন্য না কি তার পার্থিব স্বার্থ আদায়ের জন্য। যদি আল্লাহর জন্য হয় সে তাড়াতড়ি পথ চলতে শুরু করে। আর যদি পার্থিব স্বার্থের জন্য হয় তাহলে সে গড়িমসি করে।
আল্লাহ রাববুল আলামীন মুহাসাবা করতে নির্দেশ দিয়েছে :—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ . ﴿الحشر : 18﴾
‘হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন।’ [সূরা হাশর : ১৮।]
ইবনে কাসীর রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তোমাদের নিজেদের হিসাবের মুখোমুখি হওয়ার পূর্বে নিজের হিসাব নিজে করে নাও এবং তাকিয়ে দেখ তুমি নিজের চিরস্থায়ী বসবাসের জন্য, তোমার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের জন্য কী সঞ্চয় করেছ।
জ্ঞানী ও সচেতন ব্যক্তি মাত্রে্ই কাজ করার পূর্বে চিন্তা করে দেখবে এ কাজটি তার জন্য কতোটা ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে। যখন দেখবে যে, কাজটি ভাল ফল নিয়ে আসবে তখন সে তা করবে। আর যদি দেখে ফলাফল ভাল হবে না তখন সে করবে না।
মানুষ দুনিয়ার ব্যাপারে কোন কাজ করতে এ নীতিই অবলম্বন করে থাকে। ব্যবসায়ী, শিক্ষক, চাকুরী জীবি, কৃষক, গবেষক সকলেই এ নীতি অনুসরণ করে। প্রতিটি পদক্ষেপেই চিন্তা করে কাজটি কতটুকু সফল হবে।
একজন মুসলিম তো দুনিয়াকে আখিরাতের ক্ষেত্র বলে বিশ্বাস করে। আরো বিশ্বাস করে আজ সে যা করে যাচ্ছে কালকে তার হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। এ দিকের বিবেচনায় মানুষ যা কিছু আল্লাহর বিধি-নিষেধের আওতায় যা করবে তা আরো বেশী মুহাসাবার দাবী রাখে।
আল্লাহর আদেশ নিষেধ পালন ও বর্জন হল সবচেয়ে বড় ব্যবসা। দুনিয়ার কোন ব্যবসা বা কাজ কর্মে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব, কিন্তু আখিরাত সম্পর্কিত কাজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়লে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কখনো সম্ভব হয় না। আখিরাতে কেহ সফলকাম হলে সেটাই হবে স্থায়ী সফলতা আর কেহ ব্যর্থ সেটাই হবে স্থায়ী ব্যর্থতা।
হাসান বসরী রা. বলেন, আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি রহম করুন, যার সামনে কোন কাজ আসলে সে চিন্তা করে এটা আল্লাহর জন্য না কি তার পার্থিব স্বার্থ আদায়ের জন্য। যদি আল্লাহর জন্য হয় সে তাড়াতড়ি পথ চলতে শুরু করে। আর যদি পার্থিব স্বার্থের জন্য হয় তাহলে সে গড়িমসি করে।
আল্লাহ রাববুল আলামীন মুহাসাবা করতে নির্দেশ দিয়েছে :—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ . ﴿الحشر : 18﴾
‘হে মুমিনগন! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর; প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্যে সে কি প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতে থাক। তোমরা যা কর আল্লাহ তাআলা সে সম্পর্কে খবর রাখেন।’ [সূরা হাশর : ১৮।]
ইবনে কাসীর রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তোমাদের নিজেদের হিসাবের মুখোমুখি হওয়ার পূর্বে নিজের হিসাব নিজে করে নাও এবং তাকিয়ে দেখ তুমি নিজের চিরস্থায়ী বসবাসের জন্য, তোমার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের জন্য কী সঞ্চয় করেছ।