১
তরবিয়ত ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন
লেখকঃ শামছুল হক ছিদ্দিক, নোমান আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২৭
(৬) এমনভাবে মৃত্যুবরণ করা যাকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হয় :
এ রকম মৃত্যু কয়েক প্রকারে হয়ে থাকে যা নিম্নে তুলে ধরা হল
(ক) আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিহত হওয়া, প্লেগ মহামারীতে মৃত্যু বরণ করা, পেটের পীড়া বা কলেরা ডায়রিয়াতে মৃত্যু বরণ করা, পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করা, কিছু চাপা পড়ে মৃত্যু বরণ করা। এদের সকলের মৃত্যু শহীদি মৃত্যু বলে গণ্য করা হয়। প্রমাণ হল রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস :—
ما تعدون الشهيد فيكم ؟ قالوا : يا رسول الله ، من قتل في سبيل الله فهو شهيد، قال : إن شهداء أمتي إذا لقليل، قالوا : فمن هم يا رسول الله؟ قال : من قتل في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في الطاعون فهو شهيد، ومن مات في البطن فهو شهيد، والغريق شهيد . رواه مسلم (4941)
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কাদের শহীদ বলে গণ্য কর?’ সাহাবাগন উত্তর দিলেন, হে রাসূল ! যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিহত হন তাদের শহীদ বলে গণ্য করা হয়। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : ‘তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদদের সংখ্যা অত্যন্ত কম হবে।’’ সাহাবাগণ বললেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহলে শহীদ কারা ? তিনি বললেন: ‘যে আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিহত হয় সে শহীদ। যে আল্লাহর পথে যুদ্ধে (স্বাভাবিক ভাবে) মারা যায় সে শহীদ। যে প্লেগ মহামারীতে মারা যায় সে শহীদ। যে পেটের অশুখে মারা যায় সে শহীদ। যে ডুবে মারা যায় সে শহীদ।’ [মুসলিম : ৪৯৪১।] অন্য হাদিসে এসেছে—
الشهداء خمسة : المطعون، المبطون، الغرق، وصاحب الهدم، والشهيد في سبيل الله . البخاري (653)
‘শহীদ পাঁচ প্রকার : প্লেগে মৃত্যু বরণকারী, পেটের পীড়ায় মৃত্যু বরণকারী, ডুবে মৃত্যু বরণকারী, চাপা পড়ে মৃত্যু বরণকারী ও আল্লাহর পথে যুদ্ধে মৃত্যু বরণকারী।’ [বোখারি : ৬৫৩।]
(খ) সন্তান প্রসবের কারণে মৃত্যু বরণ করা। এটা শুধু মেয়েদের জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদ এর বর্ণনা করে বলেছেন—
والمرأة التي يقتلها ولدها جمعا رواه أحمد (22684)
‘এবং যে মহিলাকে তার সন্তান হত্যা করেছে।’ [আহমদ : ২২৬৮৪।]
উলামায়ে কেরাম বলেছেন এ হাদিসের অর্থ হল যে মহিলা সন্তান গর্ভ ধারণ অবস্থায় ইন্তেকাল করেছে সে শহীদ বলে গণ্য। আরেক হাদিসে এসেছে
والنفساء شهادة . رواه أحمد (8092)
‘প্রসব কালীন মৃত্যু হল শাহাদাত।’ [আহমাদ : ৮০৯২।] এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় সন্তান প্রসবের পর প্রসবজনিত জটিলতায় ইন্তেকাল করলে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।
(গ) অগ্নি দগ্ধ বা প্যারালাইসিস হয়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ। যার প্রমাণ,
أنه ... عدد أصنافا من الشهداء فذكر منهم الحرق، وصاحب ذات الجنب . رواه ابن ماجه (2803)
এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক প্রকার শহীদ হিসাব করেছেন, তার ভেতর অগ্নিদগ্ধ এবং প্যারালাইসিস রোগীও রয়েছে। [ইবনে মাজাহ : ২৮০৩।]
(গ) নিজেকে বা নিজের পরিবারের কাউকে অথবা নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
من قتل دون ماله فهو شهيد، ومن قتل دون أهله فهو شهيد، ومن قتل دون دينه فهو شهيد، ومن قتل دون دمه فهو شهيد . رواه أبو داود (4772) ، وصححه الألباني .
‘যে নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের পরিবার-পরিজন রক্ষা করতে যেয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের ধর্মের জন্য নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের রক্তের জন্য নিহত হয় সে শহীদ।’ [আবু দাউদ : ৪৭৭২।]
একটি কথা মনে রাখা দরকার, তা হল যে বর্ণিত অবস্থা সমূহের কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তার ব্যাপারে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক হবে না যে, সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে। বরং তার ব্যাপারে আমরা সুসংবাদ গ্রহণ করতে পারি। এমনিভাবে যদি কোন মুসলিম এ সকল আলামতের কোন একটি না নিয়ে মৃত্যু বরণ করে তার ব্যাপারে বলা যাবে না যে লোকটি আসলে ভাল নয়। কে জান্নাত বাসী হয়েছে আর কার মৃত্যু খারাপ হয়েছে ইত্যাদি গায়েব বা অদৃশ্যের খবর। আর কোন মানুষই গায়েবের খবর রাখে না।
(ক) আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিহত হওয়া, প্লেগ মহামারীতে মৃত্যু বরণ করা, পেটের পীড়া বা কলেরা ডায়রিয়াতে মৃত্যু বরণ করা, পানিতে ডুবে মৃত্যু বরণ করা, কিছু চাপা পড়ে মৃত্যু বরণ করা। এদের সকলের মৃত্যু শহীদি মৃত্যু বলে গণ্য করা হয়। প্রমাণ হল রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীস :—
ما تعدون الشهيد فيكم ؟ قالوا : يا رسول الله ، من قتل في سبيل الله فهو شهيد، قال : إن شهداء أمتي إذا لقليل، قالوا : فمن هم يا رسول الله؟ قال : من قتل في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في سبيل الله فهو شهيد، ومن مات في الطاعون فهو شهيد، ومن مات في البطن فهو شهيد، والغريق شهيد . رواه مسلم (4941)
তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমরা কাদের শহীদ বলে গণ্য কর?’ সাহাবাগন উত্তর দিলেন, হে রাসূল ! যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে নিহত হন তাদের শহীদ বলে গণ্য করা হয়। এ কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : ‘তাহলে তো আমার উম্মতের মধ্যে শহীদদের সংখ্যা অত্যন্ত কম হবে।’’ সাহাবাগণ বললেন, হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহলে শহীদ কারা ? তিনি বললেন: ‘যে আল্লাহর পথে যুদ্ধে নিহত হয় সে শহীদ। যে আল্লাহর পথে যুদ্ধে (স্বাভাবিক ভাবে) মারা যায় সে শহীদ। যে প্লেগ মহামারীতে মারা যায় সে শহীদ। যে পেটের অশুখে মারা যায় সে শহীদ। যে ডুবে মারা যায় সে শহীদ।’ [মুসলিম : ৪৯৪১।] অন্য হাদিসে এসেছে—
الشهداء خمسة : المطعون، المبطون، الغرق، وصاحب الهدم، والشهيد في سبيل الله . البخاري (653)
‘শহীদ পাঁচ প্রকার : প্লেগে মৃত্যু বরণকারী, পেটের পীড়ায় মৃত্যু বরণকারী, ডুবে মৃত্যু বরণকারী, চাপা পড়ে মৃত্যু বরণকারী ও আল্লাহর পথে যুদ্ধে মৃত্যু বরণকারী।’ [বোখারি : ৬৫৩।]
(খ) সন্তান প্রসবের কারণে মৃত্যু বরণ করা। এটা শুধু মেয়েদের জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শহীদ এর বর্ণনা করে বলেছেন—
والمرأة التي يقتلها ولدها جمعا رواه أحمد (22684)
‘এবং যে মহিলাকে তার সন্তান হত্যা করেছে।’ [আহমদ : ২২৬৮৪।]
উলামায়ে কেরাম বলেছেন এ হাদিসের অর্থ হল যে মহিলা সন্তান গর্ভ ধারণ অবস্থায় ইন্তেকাল করেছে সে শহীদ বলে গণ্য। আরেক হাদিসে এসেছে
والنفساء شهادة . رواه أحمد (8092)
‘প্রসব কালীন মৃত্যু হল শাহাদাত।’ [আহমাদ : ৮০৯২।] এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় সন্তান প্রসবের পর প্রসবজনিত জটিলতায় ইন্তেকাল করলে শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।
(গ) অগ্নি দগ্ধ বা প্যারালাইসিস হয়ে মৃত্যু বরণকারী শহীদ। যার প্রমাণ,
أنه ... عدد أصنافا من الشهداء فذكر منهم الحرق، وصاحب ذات الجنب . رواه ابن ماجه (2803)
এক সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক প্রকার শহীদ হিসাব করেছেন, তার ভেতর অগ্নিদগ্ধ এবং প্যারালাইসিস রোগীও রয়েছে। [ইবনে মাজাহ : ২৮০৩।]
(গ) নিজেকে বা নিজের পরিবারের কাউকে অথবা নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
من قتل دون ماله فهو شهيد، ومن قتل دون أهله فهو شهيد، ومن قتل دون دينه فهو شهيد، ومن قتل دون دمه فهو شهيد . رواه أبو داود (4772) ، وصححه الألباني .
‘যে নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের পরিবার-পরিজন রক্ষা করতে যেয়ে নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের ধর্মের জন্য নিহত হয় সে শহীদ। যে নিজের রক্তের জন্য নিহত হয় সে শহীদ।’ [আবু দাউদ : ৪৭৭২।]
একটি কথা মনে রাখা দরকার, তা হল যে বর্ণিত অবস্থা সমূহের কোন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করবে তার ব্যাপারে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা ঠিক হবে না যে, সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে। বরং তার ব্যাপারে আমরা সুসংবাদ গ্রহণ করতে পারি। এমনিভাবে যদি কোন মুসলিম এ সকল আলামতের কোন একটি না নিয়ে মৃত্যু বরণ করে তার ব্যাপারে বলা যাবে না যে লোকটি আসলে ভাল নয়। কে জান্নাত বাসী হয়েছে আর কার মৃত্যু খারাপ হয়েছে ইত্যাদি গায়েব বা অদৃশ্যের খবর। আর কোন মানুষই গায়েবের খবর রাখে না।