১
রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল
লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
৯. সাওম পালনকারীর গোসল ও শীতলতা অর্জন করা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«كانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُباً ثُم يَغتَسِلُ ثم يَغْدُو إلى المسْجِدِ ورَأسُهُ يَقطُرُ ثم يَصُوم ذَلكَ اليَوم» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যুষ করতেন নাপাক অবস্থায়, অতঃপর গোসল করে মসজিদে যেতেন, তখনো তার মাথা থেকে পানি টপকাত, অতঃপর সেদিনের সাওম পালন করতেন”। [আহমদ: (৬/৯৯); নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ২৯৮৬; আবু ইয়ালা, হাদীস নং ৪৭০৮; বায্যার, হাদীস নং ১৫৫২; তায়ালিসি, হাদীস নং ১৫০৩, তার সনদ সহীহ, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে আছে অন্য শব্দে।]
আবু বকর ইবন আব্দুর রহমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«لَقَدْ رَأَيتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم بِالعَرْجِ يَصبُّ على رَأْسِهِ الماءَ وهُو صَائِمٌ مِنَ العَطَشِ أو من الحَرِّ» .
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরজ নামক স্থানে দেখেছি, তিনি সাওম অবস্থায় মাথায় পানি দিচ্ছেন, পিপাসার কারণে অথবা গরমের কারণে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৬৫; আহমদ: (৩/৪৭৫); মুআত্তা মালেক: (১/২৯৪), তার থেকে মুসনাদে শাফি: (১/১৫৭); হাকেম: (১/৫৯৮), হাদীসটি সহীহ বলেছেন। ইবন আব্দুল বারর ফিত তামহিদ: (২২/৪৭); হাফেয ফি তাগলিকিত তালিক: (৩/১৫৩); আইনি ফি উমদাতিল কারি: (১১/১১); আলবানি ফি সহীহ আবু দাউদ।]
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সাওম অবস্থায় কাপড় ভিজিয়ে গায়ে রেখেছেন। ইমাম শাবি সাওম অবস্থায় গোসলখানায় প্রবেশ করেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সাওম অবস্থায় রান্নার ডেগ চেখে দেখা বা কোনো বস্তুর স্বাদ পরীক্ষা করা দোষের নয়”। হাসান রহ. বলেন, “সাওম পালনকারীর কুলি ও শীতলতা অর্জন দোষের নয়”। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যখন তোমাদের কারো সাওমের দিন হয়, সে যেন সকালে তেল দেয় ও চিরনি করে”। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার ছোট একটি হাউজ আছে, তাতে আমি সওম অবস্থায় ডুব দেই”। [সহীহ বুখারী (২/৬৮১); দেখুন: তাগলিকুত তালিক: (৩/১৫১)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সাওম পালনকারীর জন্য জায়েয আছে গরম বা তৃষ্ণা হালকা করার জন্য পুরো শরীর বা কোনো অংশে পানি দেওয়া, এটা ওয়াজিব গোসল অথবা মোস্তাহাব গোসল অথবা বিনা প্রয়োজনে হতে পারে। [আউনুল মাবুদ: (৬/৩৫২)।]
দুই. সাওম পালনকারীর জন্য পানিতে ডুবে থাকা বৈধ, তবে সতর্ক থাকবে পেটে যেন পানি প্রবেশ না করে। [মিরকাতুল মাফাতিহ: (৪/৪৪১)।]
তিন. ইবাদতকারীর কষ্ট হলে বৈধ উপায়ে তা লাঘব করা দোষের নয়, এটাকে অধৈর্য গণ্য করা হবে না, এর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।
চার. মানুষ দুর্বল ও অপারগ, তার উচিৎ কষ্ট দূর করার জন্য বৈধ উপায় গ্রহণ করা।
পাঁচ. সাওম অবস্থায় গোসলখানায় গরম পানি ব্যবহার করা বৈধ, অনুরূপ সুগন্ধি ও তৈল ব্যবহার করা, চিরনি করা বৈধ, ঘ্রাণ জাতীয় বস্তুর কারণে সাওম নষ্ট হয় না, এগুলো সাওম পালনকারীর জন্য মাকরূহ নয়।
ছয়. সাওম পালনকারী ঠাণ্ডা ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য হাউজ, ট্যাংকি, পুকুর ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবে, এ কারণে সাওম নষ্ট হবে না।
সাত. প্রয়োজনে বাবুর্চি খানার স্বাদ পরীক্ষা করতে পারবে, তবে তা যেন পেটে প্রবেশ না করে। ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “আমার কাছে পছন্দনীয় হলো সাওম অবস্থায় খাবারের স্বাদ পরীক্ষা না করা, তবে কেউ তা করলে সমস্যা নেই”। [আল-মুগনি: (৩/১৯)।]
সৌদি আরবের স্থায়ী ফাতওয়া পরিষদ সাওম অবস্থায় খাবারের স্বাদ চেখে দেখা জায়েয ফাতওয়া দিয়েছে। [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা: ফাতাওয়া নং ৯৮৪৫) শাইখ উসাইমিন “ফাতাওয়া আরকানুল ইসলামে” তিনি অনুরূপ ফাতাওয়া দিয়েছেন, ফাতাওয়া নং (৪৮৪)।]
«كانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُباً ثُم يَغتَسِلُ ثم يَغْدُو إلى المسْجِدِ ورَأسُهُ يَقطُرُ ثم يَصُوم ذَلكَ اليَوم» .
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যুষ করতেন নাপাক অবস্থায়, অতঃপর গোসল করে মসজিদে যেতেন, তখনো তার মাথা থেকে পানি টপকাত, অতঃপর সেদিনের সাওম পালন করতেন”। [আহমদ: (৬/৯৯); নাসাঈ ফিল কুবরা, হাদীস নং ২৯৮৬; আবু ইয়ালা, হাদীস নং ৪৭০৮; বায্যার, হাদীস নং ১৫৫২; তায়ালিসি, হাদীস নং ১৫০৩, তার সনদ সহীহ, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে আছে অন্য শব্দে।]
আবু বকর ইবন আব্দুর রহমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
«لَقَدْ رَأَيتُ رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم بِالعَرْجِ يَصبُّ على رَأْسِهِ الماءَ وهُو صَائِمٌ مِنَ العَطَشِ أو من الحَرِّ» .
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরজ নামক স্থানে দেখেছি, তিনি সাওম অবস্থায় মাথায় পানি দিচ্ছেন, পিপাসার কারণে অথবা গরমের কারণে”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ২৩৬৫; আহমদ: (৩/৪৭৫); মুআত্তা মালেক: (১/২৯৪), তার থেকে মুসনাদে শাফি: (১/১৫৭); হাকেম: (১/৫৯৮), হাদীসটি সহীহ বলেছেন। ইবন আব্দুল বারর ফিত তামহিদ: (২২/৪৭); হাফেয ফি তাগলিকিত তালিক: (৩/১৫৩); আইনি ফি উমদাতিল কারি: (১১/১১); আলবানি ফি সহীহ আবু দাউদ।]
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সাওম অবস্থায় কাপড় ভিজিয়ে গায়ে রেখেছেন। ইমাম শাবি সাওম অবস্থায় গোসলখানায় প্রবেশ করেছেন। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “সাওম অবস্থায় রান্নার ডেগ চেখে দেখা বা কোনো বস্তুর স্বাদ পরীক্ষা করা দোষের নয়”। হাসান রহ. বলেন, “সাওম পালনকারীর কুলি ও শীতলতা অর্জন দোষের নয়”। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “যখন তোমাদের কারো সাওমের দিন হয়, সে যেন সকালে তেল দেয় ও চিরনি করে”। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমার ছোট একটি হাউজ আছে, তাতে আমি সওম অবস্থায় ডুব দেই”। [সহীহ বুখারী (২/৬৮১); দেখুন: তাগলিকুত তালিক: (৩/১৫১)।]
শিক্ষা ও মাসায়েল:
এক. সাওম পালনকারীর জন্য জায়েয আছে গরম বা তৃষ্ণা হালকা করার জন্য পুরো শরীর বা কোনো অংশে পানি দেওয়া, এটা ওয়াজিব গোসল অথবা মোস্তাহাব গোসল অথবা বিনা প্রয়োজনে হতে পারে। [আউনুল মাবুদ: (৬/৩৫২)।]
দুই. সাওম পালনকারীর জন্য পানিতে ডুবে থাকা বৈধ, তবে সতর্ক থাকবে পেটে যেন পানি প্রবেশ না করে। [মিরকাতুল মাফাতিহ: (৪/৪৪১)।]
তিন. ইবাদতকারীর কষ্ট হলে বৈধ উপায়ে তা লাঘব করা দোষের নয়, এটাকে অধৈর্য গণ্য করা হবে না, এর থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।
চার. মানুষ দুর্বল ও অপারগ, তার উচিৎ কষ্ট দূর করার জন্য বৈধ উপায় গ্রহণ করা।
পাঁচ. সাওম অবস্থায় গোসলখানায় গরম পানি ব্যবহার করা বৈধ, অনুরূপ সুগন্ধি ও তৈল ব্যবহার করা, চিরনি করা বৈধ, ঘ্রাণ জাতীয় বস্তুর কারণে সাওম নষ্ট হয় না, এগুলো সাওম পালনকারীর জন্য মাকরূহ নয়।
ছয়. সাওম পালনকারী ঠাণ্ডা ও পবিত্রতা অর্জনের জন্য হাউজ, ট্যাংকি, পুকুর ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবে, এ কারণে সাওম নষ্ট হবে না।
সাত. প্রয়োজনে বাবুর্চি খানার স্বাদ পরীক্ষা করতে পারবে, তবে তা যেন পেটে প্রবেশ না করে। ইমাম আহমদ রহ. বলেন, “আমার কাছে পছন্দনীয় হলো সাওম অবস্থায় খাবারের স্বাদ পরীক্ষা না করা, তবে কেউ তা করলে সমস্যা নেই”। [আল-মুগনি: (৩/১৯)।]
সৌদি আরবের স্থায়ী ফাতওয়া পরিষদ সাওম অবস্থায় খাবারের স্বাদ চেখে দেখা জায়েয ফাতওয়া দিয়েছে। [ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা: ফাতাওয়া নং ৯৮৪৫) শাইখ উসাইমিন “ফাতাওয়া আরকানুল ইসলামে” তিনি অনুরূপ ফাতাওয়া দিয়েছেন, ফাতাওয়া নং (৪৮৪)।]