hadith book logo

রমযানের বিষয়ভিত্তিক হাদীস শিক্ষা ও মাসায়েল

লেখকঃ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ আল-হাকীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

১৯. সাহরির সময় (১)

ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لا يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلالٍ مِنْ سُحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ أَوْ قَالَ : يُنَادِي لِيَرْجِعَ قَائِمُكُمْ وَيُنَبِّهَ نَائِمَكُمْ وَلَيْسَ الفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذا - وجَمَعَ يَحيَى بنُ سَعِيدٍ القَطَانُ كَفَّيْهِ - حَتَّى يَقُولَ هَكَذَا - ومَدَّ يَحيى إِصْبَعَيْهِ السَّبَابَتَينِ» .

“বেলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরি থেকে বিরত না রাখে। কারণ, সে আযান দেয় অথবা তিনি বলেছেন: সে ডাকে যেন তোমাদের জাগ্রতরা ফিরে যায় ও ঘুমন্ত ‎‎ রা জাগ্রত হয়। ফজর এটা নয় যে এরকম হবে, (ইয়াহইয়া ইবন সায়িদ আল-কাত্তান ‎ নিজ হাতের তালুদ্বয় জড়ো করলেন (অর্থাৎ লম্বালম্বি অবস্থায় আলো প্রকাশ পেলেই তা ফজর হিসেবে ধর্তব্য হবে না, বরং তা সুবহে কাযিব) যতক্ষণ না এরকম হবে, (ইয়াহয়াহ তার তর্জনীদ্বয় ‎ প্রসারিত করলেন অর্থাৎ আলো ডানে বাঁয়ে ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করলেই কেবল ফজর হিসেবে ধর্তব্য হবে, তখন তা হবে সুবহে সাদিক) [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৯৩।] ‎ ‎

সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহু‎ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি আমার পরিবারে সাহরি খেতাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজর সালাতের জন্য দ্রুত ‎ ছুটতাম”।

বুখারীর অপর বর্ণনায় আছে: “আমার দ্রুততার কারণ ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাজদায় অংশ গ্রহণ করা”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৫২; দ্বিতীয় বর্ণনা সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৮২০ ও আবু ইয়ালা, হাদীস নং ৭৫৩৩।]

যির ইবন হুবাইশ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি হুযায়ফার সঙ্গে সাহরি করলাম, অতঃপর আমরা সালাতের জন্য চললাম, মসজিদে এসে দু’রাকাত সালাত আদায় করলাম, আর ইকামত আরম্ভ হলো, উভয়ের মাঝে সামান্য ব্যবধান ছিল”। [নাসাঈ: (৪/১২৪), আলবানি সহীহ নাসাঈতে হাদীসটি সহীহ বলেছেন।]

“যেন তোমাদের ঘুমন্তরা ফিরে যায়” অর্থ: বেলাল রাতে আযান দেয়, তোমাদের জানানোর জন্য যে, ফজর বেশি দেরি নেই। সে তাহাজ্জুদে দণ্ডায়মানকারীদের আরামের জন্য ফিরিয়ে দেয়, যেন সামান্য ঘুমিয়ে উদ্যমতাসহ সকালে উঠতে পারে অথবা বিতর পড়ে নেয়, যদি তা পড়ে না থাকে অথবা ফজরের জন্য প্রস্তুতি নেয় যদি পবিত্রতার প্রয়োজন থাকে, বা অন্যান্য প্রয়োজন সেরে নেয়, যা ফজরের সময় জানলেই সম্ভব। [শারহুন নববী আলা মুসলিম (৭/২০৪); আল-মুফহিম: (৩/১৫৩)।]

“ঘুমন্তদের জাগ্রত করে” অর্থ: ঘুমন্তরা যেন ঘুম থেকে জেগে ফজরের ‎ প্রস্তুতি নেয়, সামান্য তাহাজ্জুদ আদায় করে অথবা বিতর আদায় না করলে তা আদায় করে অথবা সাওমের ইচ্ছা থাকলে সাহরি খায় অথবা গোসল বা অযু সেরে নেয় অথবা অন্যান্য প্রয়োজন সেরে নেয়। [শারহুন নববী আলা মুসলিম (৭/২০৪); আল-মুফহিম: (৩/১৫৩)।]

শিক্ষা ও মাসায়েল:‎

‎এক. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ ফজরের শেষ সময় পর্যন্ত সাহরি বিলম্ব করতেন। তাদের কেউ সময় শেষ হওয়ার আশঙ্কায় সাহরি সংক্ষেপ করতেন। অতএব, ফজরের পূর্ব পর্যন্ত সাহরি বিলম্ব করা সুন্নাত। [ফাতহুল বারি: (৪/১৩৮)।]

দুই. প্রয়োজনের সময় দ্রুত আহার করা জায়েয। এ ব্যাপারে ইমাম বুখারি একটি অধ্যায় কায়েম করেছেন: “সেহরি দ্রুত করার অধ্যায়”, শিরোনামে। ‎ ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ আব্দুল্লাহ ইবন আবি বকর থেকে, সে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: “রমযানে আমরা সালাতুল লাইল শেষে এতো দেরিতে বাড়ি যেতাম যে, খাদেমদের দ্রুত খানা পেশ করার জন্য বলতাম, যেন ফজর ছুটে না যায়”।‎ [মালেক : (১/১১৬; বায়হাকি: (২/৪৯৭)।]